ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেনা মোতায়েনের সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকাসহ সারা দেশে সড়ক পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা বন্ধে ঢাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ২৫ দফা সুপারিশ করেছে নৌ-সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, জাতীয় কমিটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া, বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, জাতীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক সঞ্জিব বিশ্বাস, সেকেন্দার হায়াৎ, পুষ্পেন রায়, জসি সিকদার প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলনে ২৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এতে রাজধানীর যানজট হ্রাস ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে সেনবাহিনীকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান, চাঁদাবাজির হাত থেকে পরিবহন মালিকদের রক্ষায় রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে সেনা সদস্য মোতায়েন, সাংবিধানিক অথবা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অধিষ্ঠিতদের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে না থাকার আইন প্রণয়ন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের বাস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা প্রদানের প্রথা বাতিল, বিআরটিসির বহরে পর্যাপ্তসংখ্যক বাস যুক্ত করে সংস্থাকে শক্তিশালী ও গতিশীল করা এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রুটসহ দেশের সব আন্তঃজেলা রুটে বিআরটিসির বাস চালু, বিআরটিসির বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন ও বেসরকারি উদ্যোগে গণপরিবহন আমদানিকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সুপারিশমালার মধ্যে আরো রয়েছে সড়কের ওপর চাপ কমাতে ঢাকার চারদিকের নদীগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত করা ও বৃত্তাকার নৌপথ সচল করা, যানবাহনের চালক, কন্টাক্টর ও হেলপারসহ সকল পর্যায়ের পরিবহন কর্মীদের লাইসেন্স ও নিয়োগপত্র প্রদানের পাশাপাশি তাদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, উৎসব বোনাস ও ওভারটাইম ভাতা বাধ্যতামূলক করা, রাজধানীতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নতুন ট্যাক্সিক্যাব আমদানি,  সকল মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অভিভাবকসহ স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসি বাসের 'শিক্ষাসার্ভিস' চালু, সারা বছর দেশজুড়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ  আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা। 

২৫ দফা সুপারিশের মধ্যে আরো রয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানোর দায়ে চালকের সঙ্গে মালিককেও আইনের আওতায় আনা, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী গাড়িচালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য দায়ীদের মৃত্যুদ-সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও মালিকপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইন প্রণয়ন, দুর্ঘটনা রোধে সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিতকরণ ও সতর্কীকরণ নোটিশ জারি এবং সব ধরনের যাত্রীবাহী গাড়িতে 'যাত্রীবীমা' এবং যাত্রী ও পণ্যবাহী সব গাড়ির চালক, কন্টাক্টর ও হেলপারের বাধ্যতামূলক জীবনবীমা চালু করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ