ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাল পর্যন্ত সারা দেশ বৃষ্টিমুখর থাকবে

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে গতকাল শনিবার বৃষ্টিমুখর ছিল সারা দেশ। এদিন দেশের প্রায় সব জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মাত্রা রাজধানী ঢাকাতেও ছিল প্রবল। আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতি এমন থাকবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে গতকাল সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় দুই মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরে এর মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। পরের তিন ঘণ্টায় সকাল নয়টা পর্যন্ত ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরো ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

এ বৃষ্টির প্রভাব আরও কয়েক দিন থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আগামীকাল পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে কমবেশি দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হবে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ১০৪ মিলিমিটার। এছাড়া টাঙ্গাইলে ৩৩ মিলিমিটার, ফরিদপুর ৬৪, মাদারিপুর ৬১, চাঁদপুর ৬৬, মাইজদীকোর্ট ৭২, সিলেট ২২, বরিশাল ৭৬, পটুয়াখালী ১৮, খেপুপাড়া ৪০, ভোলা ৫২, খুলনা ১৬, ডিমলা ২৮, রাজশাহী ২৩, ঈশ্বরদী ৩৯, বগুড়া ৪৩, তাড়াশ ৫০, কুতুবদিয়া ৪১ ও ডিমলায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। 

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা, অলি-গলি পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে জনদুর্ভোগ চরমে উঠে। তরমুজ সহ এই সময়ের ফসলাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। 

দেশের পাঁচটি বিভাগে আরও দুইদিন ভারী বর্ষণ বা অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য এমন সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এ অবস্থা আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এই বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে, গতকাল শনিবার রাত ৮টায় আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ (তিন) নম্বর পুনঃ ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। 

উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। যে কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে আরো জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে ছোট লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি : দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ পথে ছোট (৬৫ ফুটের নিচে) লঞ্চ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বরিশাল নৌবন্দরের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিন দিন ধরে বরিশাল, তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য ৬৫ ফুটের নিচের ছোট লঞ্চ চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আজমল হুদা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ যেসব পথে বড় লঞ্চ চলাচল করছে, সেসব লঞ্চের চালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে নিরাপদে লঞ্চ ভিড়িয়ে রাখার জন্য চালক-মাস্টারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পরিদর্শক মো. ইউসুফ জানান, বঙ্গোপসাগরে সঞ্চলনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় এর প্রভাবে উপকূলে বৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ৭৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ