ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীতে ভিক্ষুকরাও নিচ্ছে না এক টাকার কয়েন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট দোকানিদের কাছে

 

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদীর সর্বত্রই এখন এক থেকে পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েন বা ধাতব মুদ্রা লেনদেন করতে চরম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিষিদ্ধ বা অচল ঘোষিত না হলেও সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো নানা অযুহাতে ধাতব মুদ্রার কয়েন নিচ্ছেনা। ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা বলছেন আমরা শুধু টাকা জমা নেই কয়েন নেয়ার ব্যবস্থা নেই। গত বৃহস্পতিবার মাধবদীর দু’টো রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ করলে বলা হয় আসলে কয়েন গুনে নেয়া বেশ সমস্যা এবং সময়ের ব্যাপার তাই এ ঝামেলায় জড়াতে চায়না কোন কর্মকর্তা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায় সারা বক্তব্য এক সঙ্গে অনেক কয়েন দিলে ম্যানেজারের সাথে কথা বলে নেয়া ভালো। মাধবদীর সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক গুলোর মনগড়া কর্মকান্ডে ছোট বড় দোকানি, ভিক্ষুক ও সাধারণ মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকার ধাতব মুদ্রা (কয়েন) অলস পড়ে আছে মাধবদীতে। বাজারের কয়েকজন দোকানদার বলেন, ক্রেতারাতো খুচরা পয়সা নিচ্ছেই না এমনকি শুক্রবার সহ অন্যান্য দিনেও ভিক্ষুকরা ভিক্ষায় পর্যন্ত কয়েন নিচ্ছেনা। গতকাল ২১ এপ্রিল শুক্রবার মাধবদী বাজারের মসজিদে আকবর কমপ্লেক্সে জুম্মার নামায শেষে একজন মুসল্লিম মসজিদের সামনে এক ভিক্ষুককে দু’টাকার কয়েন দিতেই সেই ভিক্ষুকের কটাক্ষ চাহনি ও পরে ঔ মুসল্লিকে গাল মন্দ করতে দেখা গেছে। বর্তমান সময়ে চা-বিস্কুট, পান-সিগারেটের দোকানেও কয়েন দিলে দোকানি তেড়ে উঠছেন কস্টমারের সাথে। দু’এক জায়গায় এ নিয়ে বাক বিতন্ডার পর মারামারির মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। মাধবদীর বিরামপুর মহল্লার মঈনউদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটে ফাহিম মাধবদী বাজারের এক মুদি দোকান থেকে ৫কেজি চাল কিনে টাকার সাথে কয়েকটি কয়েন দিলে ঐ দোকানি তার চাল কেড়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সাধারণ মানুষের কাছে কয়েন এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পাঞ্চলখ্যাত মাধবদী পৌরশহরে ৪৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা থাকার পরও কোন শাখায় ঢালাওভাবে ধাতব মুদ্রার কোন লেন-দেন হচ্ছে না। এ সব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানাগেছে, ব্যাংক কয়েন নেয়না ঠিক না। ভিড়ের মধ্যে কয়েন গুনে নিতে সমস্যা হয়, তাই সকাল ১০টার আগে আসলে কয়েন নেয়া হয়। ব্যাংক নিলেও গ্রাহকরা কয়েন তো দুরের কথা ১০ টাকা, ২০ টাকা ও ৫০ টাকার নোট পর্যন্ত নিতে চায়না। পকেট ভার হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা ধাতব মুদ্রা নিতে চায় না। তাদের ঔ শাখায় ৬০ হাজার টাকার বেশী কয়েন জমা রয়েছে বলেও তিনি উলে¬খ করেন। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এক পয়সা, দুই পয়সার ব্যবহার ছিল ব্যাপক। কিন্তু কালের বিবর্তনে অনেক আগেই এই মুদ্রা দু’টির বিলুপ্তি ঘটে। কালের এ বিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে পাঁচ পয়সা, দশ পয়সা, পঁচিশ পয়সা ও পঞ্চাশ পয়সার মুদ্রা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শিল্প শহর মাধবদী ও এর আশপাশে ১৩/১৪ টি ফাস্ট ফুড বেকারীর কারখানা ও বেশ ক’জন ভোগ্যপণ্য ডিলার রয়েছে। এরা গ্রামের হাট বাজারের খুচরা মুদি দোকান থেকে মালামাল বিক্রি করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েন পেয়ে থাকেন। এ সব কয়েন নিয়ে তারা এখন মহা বিপাকে পড়েছেন। মদিনা বেকারির মালিক আলম খন্দকার বলেন, আমার কাছে কয়েক দিন আগে ৩ লাখ টাকার কয়েন জমা হয়েছিল। এই কয়েন লাখে ১০ হাজার করে কমিশন দিয়ে মাধবদী বাজার সহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে দিয়েছি। কোন ব্যাংকে কয়েন নেয়নি। মাধবদীর বিশিষ্ট ভোগ্য পণ্য ব্যবসায়ী ঢাকা কনফেকশনারীর মালিক ইকরাম ও তার ছোট ভাই রহমত জানান, আমার কাছে এখন ৫০ হাজার টাকার ৫ টাকা, ২ টাকা ও ১ টাকার কয়েন আছে। কোন ব্যাংক এ টাকা নিচ্ছে না। আমি এখন এত টাকার ধাতব মুদ্রা কোথায় রাখবো তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি কয়েনে আটকে যাওয়ায় অনেকের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যাংক কয়েনগুলো নিলে তারা উপকৃত হবেন তা না হলে পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হবে এসব কয়েন। এ ব্যাপারে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এর ব্যাখ্যা বা ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ