ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বগুড়ার শেরপুরে বৈশাখী ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

 

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বৈশাখী ঝড় ও অতি বর্ষণে বোরো ধান, ভুট্টা ও আমসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ফলে এলাকার চাষীরা ফলন বিপর্যয়ের আশংকা করছেন। 

সড়েজমিনে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে গত ২২ এপ্রিল শনিবার ভোর ৫.৩০ টায় প্রচন্ড ঝড় ও অতিবর্ষণে কাটার উপযুক্ত বোরো ধান হেলে মাটির সাথে শুয়ে পড়ায় কৃষকদের মুখে হতাশার চিহ্ন ফুটে উঠেছে। অপর দিকে কাল বৈশাখী ঝড়ে এলাকার রবি ফসল ভুট্টা, পেঁপে, আম, লিচু ও কলাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার শুভগাছা গ্রামের কৃষক আয়োব বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেন, বর্তমানে তার জমিতে ধান পাকা অবস্থায় ছিল হঠাৎ বৈশাখীর ঝড়ের কারণে জমির ধান মাটির সাথে শুয়ে পড়েছে এতে বোরো ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলার কাফুড়া গ্রামের ভুট্টা ব্যবসায়ী গিয়াস মন্ডল বলেন, গত কয়েক দিনের মেঘাচ্ছন্ন আবহওয়া কারণে পাক ভুট্টা ঘরে তুলতে পারেননি আবার হঠাৎ বৈশাখী ঝরে পাকা ভুট্টাসহ গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। তিনি আরো বলেন, বৈশাখীর ঝড়ে উপজেলার প্রায় অর্ধেক চাষির ভুট্টাক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ফলে ভুট্টার ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে আমরা চাষীদের বড় ধনরনের লোকসানের মুখোমুখি হতে হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর ইসলাম বলেন এ বছরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে রয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে ধান ও ভুট্টাসহ রবি ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভাল হলে কৃষকেরা ফসল ভালভাবে ঘড়ে তুলতে পারলে বড় ধরনের লাভের মুখ দেখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে বৈশাখী ঝড়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এ বছর বোর ধানের উৎপাদন ২০ হাজার ১৫০ লক্ষ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ছে। অর্জিত ২০ হাজার ৫৫০ লক্ষ হেক্টর ও ভুট্টা উৎপাদন ২৫০০ লক্ষ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ কর হলেও অর্জিত ২৬৫০ লক্ষ হেক্টর।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, বোরো ধান মাটিতে হেলে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হবে। কৃষি কর্মকর্তাকে ক্ষতি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

৪ মাস যাবৎ বেতন বন্ধ 

বগুড়ার শেরপুরে ২৮ টি সহ সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার গরীবের হাসপাতাল খ্যাত কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) গত ৪ মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান সরকার তৃণমুল পর্যায়ে গরীব মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে সেই কামিউনিটি ক্লিনিকই জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে। স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিশ্রমের ফলে কমিউনিটি ক্লিনিক এখন বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।  গ্রামীণ মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই স্বাস্থ্য কর্মীরা নিরালস ভাবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তারা স্বাস্থ্য শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করছেন। 

শেরপুর উপজেলার ছাতিয়ানি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার রাশেদুল হক ও ঝাঁজর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সহ একাধিক কর্মী জানান, গত জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ মাস তারা কোন বেতন এমনকি বৈশাখী ভাতাও পায়নি। অথচ তারা চাকরি করে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খ্যাত প্রকল্পে এবং সকলে জানে এই স্বাস্থ্য কমীরা সরকারি চাকরি করে। এই চাকরির সুবাধে প্রতিজন কর্মী একটি সংসার পরিচালনা করেন। আর ওই সকল সংসারের ব্যয়ভার তাদের উপর নির্ভরশীল। তারা জানান, নানা সমস্যার মধ্যেও আমরা  নিরালস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। 

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোখলেছুর রহমানের ফোনে বার বার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ