ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় অর্ধশতাধিক নদী-খালের পানি শুকিয়ে মাটি চৌচির

খুলনা: নদী-খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায়

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রায় অর্ধশতাধিক নদী ও খালের পানি শুকিয়ে মাটি চৌচির হয়ে পড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে এলাকার কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলায় এখন বোরো ধান কাটার ভরা মওসুম। মাঠ থেকে ক্ষেতের ধান কেটে এখন ঘরে ফেরার পালা। কিন্তু ধান কেটে পরিবহন সংকটের কারণে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। এলাকার নদী বা খালে পানি না থাকার নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ধান ক্ষেতেই করেছে মাড়াইয়ের কাজ। দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ ব্যয়ে করে সড়ক পথে বিভিন্ন পরিবহনে মাঠের ধান নিচ্ছে বাড়িতে। তাছাড়া পানি স্বল্পতার কারণে সবজি ও মাছে চাষে ব্যহত ঘটছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন, খর্ণিয়া, শরাফপুর, সাহস, রংপুর, রুদাঘরা, রঘুনাথপুর, ভান্ডারপাড়া, গুটুদিয়া, খর্নিয়া, ধামালিয়া, আটলিয়া, মাগুরখালী এ সকল এলাকায় বড়-ছোট প্রায় অর্ধশতাধিক নদী-খালে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।
খর্ণিয়া এলাকার কৃষক জিয়া উদ্দিন ও রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মনিন্দ্র বিশ্বাস জানান, উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নদী-খালে আড়াআড়ি বাঁধ ও নেট পাটা দিয়ে মাছ চাষ এবং পাউবো’র স্লুইসগেটের খালগুলো প্রভাবশালীরা অবৈধ দখলের ফলে বড় বড় নদীর সাথে এ সকল নদী-খালের কোন সংযোগ নেই। এ কারণে নদী ও খাল তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। ফলে শুকনা মওসুমে পানি সংকট আর বর্ষার মওসুমে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সর্বত্র দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। প্রতি বছর ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অথচ আশির দশকে এ অঞ্চলের নদীগুলোতে পোদি নৌকা, পালতোলা নৌকা ও গহনা নৌকাসহ লঞ্চ-স্টিমার এবং পারাপারের জন্য উপজেলার অভ্যন্তরে কৈয়া, বালিয়াখালী ও খর্নিয়ায় ৩টি স্থানে ফেরী চলাচল করতে দেখা গেছে।
ডুমুরিয়া মহিলা কলেজের প্রভাষক আমান উল্লাহ ও রুদাঘরা ইউপি’র মহিলা মেম্বর ও নারী নেত্রী রোজিনা পারভিনের মতে, জলবায়ু বিপর্যয়ের এ পরিস্থিতিতে প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে এখানের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নদী ও খালের অববাহিকায় এ অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের জীবন-যাত্রা ফিরিয়ে আনতে নদী খননসহ অবৈধ দখল নেয়া নদী-খালে আড়া-আড়ি বাঁধ ও নেট-পাটা উচ্ছেদের বিকল্প নেই।
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অঞ্চলের নদী-খালগুলো মুক্তসহ খনন করে স্রোত সৃষ্টি করতে না পারলে, এ উপজেলার মানুষ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, নদী-খালের সাথে সংযোগ বেড়ি বাঁধের ওপর বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট অব্যবস্থাপনার কারণে পানির সঙ্গে পলি নদী-খাল আটকে উঁচু হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি চলছে চর দখল প্রতিযোগিতা। ফলে প্রতি বছর মানুষ নানা দুর্ভোগের শিকার হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খান আলী মুনসুর বলেন, উপজেলার নদী-খাল খননের উদ্যোগ এবং নদী-খালে অবৈধ আড়াআড়ি বাঁধ ও নেট পাটা অপসরণের করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ