ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শারমিনকে আইনী সহায়তা দিতে পেরে গর্বিত: ওসি মুনীর

রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা: বাল্যবিয়ে ঠেকাতে কিশোরীদেরকে সাহসী, কৌশলী ও উদ্যোগী হতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ পুরস্কার অর্জনকারী ঝালকাঠির রাজাপুরের স্বর্ণ কিশোরী সাহসী শারমিন। অনুকরণীয় দৃষ্টান্তকারী অনন্য সাহসিকতায় শারমিন পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার। আর এ সাহসী বালিকাকে নিয়ে গর্বিত সাংবাদিক, শিক্ষক, পুলিশ ও এলাকাবাসী। তার এ দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে প্রত্যয়ী সহপাঠীসহ এলাকার নারী শিক্ষার্থীরা। নারী অধিকার রক্ষায় নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে কাজ করার অঙ্গীকার সাহসী নারী’র পুরস্কার জয়ী শারমিনের। নিজে আইনজীবী হয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করতে চায় স্বর্ণ কিশোরী সাহসী শারমিন। রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া এসএসসির ফলপ্রত্যাশী শারমিন নিজের বাল্য বিবাহ ঠেকিয়ে দিয়েছিলো নবম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত অবস্থাতেই। পরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই লেখাপড়া চালিয়ে অংশ নেয় এসএসসি পরীক্ষায়। ৩২ বছর বয়সী যুবকে বিয়ে না করায় তার ওপর মায়ের নির্যাতনও দমিয়ে রাখতে পারেনি তার লেখাপড়ার গতি। নিরুপায় হয়ে গর্ভধারিনী মা ও কথিত হবু বরের বিরুদ্ধে মামলা করে নিজেকে বাল্য বিবাহ নামক অভিশাপের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে এখন সে বিশ্বের কিশোরীদের কাছে রোল মডেল। গত ৩০ মার্চ মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে উইমেন অব কারেজ পুরস্কার নেয়া শারমিন স্বর্ণ-কিশোরী নেটওয়ার্কের একজন সদস্য। অদম্য সাহসিকতার জন্য শারমিন দেশ ছাড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়ে বিশ্বব্যাপী কাছে বাংলাদেশকেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আরও একবার। রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাব’র সাংবাদিকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শারমিন আক্তার জানায়, ভবিষ্যতে আইনজীবী হয়ে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের কিশোরীদের জন্য কাজ করতে সকলের সহযোগীতা চেয়েছে। ২০১৫ সালের আগস্টের শুরুর দিকে ৩২ বছরের যুবক পাত্রের সাথে ১৫ বছরের কিশোরী শারমিনের বিয়ে ঠিক করে তার মা। বাবা প্রবাসী হওয়ায় মা ছিলো শারমিনের পরিবারের কর্তা। বাল্য বিয়েতে রাজী না হওয়ায়, খুলনায় নিয়ে তাকে পাত্রের সাথে এক ঘরে আটকেও রাখা হয়েছিলো কিন্তু সেখান থেকে কৌশলে রাজাপুরে পালিয়ে আসেন শারমিন। তাতেও রক্ষা হয়নি তার। রাজাপুরের বাড়িতেও আটকে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। বাবা সৌদি প্রবাসী হওয়ায় মায়ের অত্যাচারের মাত্রা বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত স্কুলের সহপাঠী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় নিরুপায় হয়ে রাজাপুর থানায় মামলা মা ও কথিত হবু বরের বিরুদ্ধে মামলা দিতে গেলে আন্তরিকভাবে শারমিনকে আইনী সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে দ্রুত মামলা রেকর্ড করেন রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস। এ নিয়ে দৈনিক সমকাল’র সাংবাদিক রহিম রেজা, ডেইলি স্টারের জহিরুল ইসলাম জুয়েল ও আমাদের সময়’র কাওসার হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা সংবাদ প্রচার করলে বিষয়টি সারাবিশ্বে আলোচনায় উঠে আসে। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস বলেন, সত্যিই শারমিনকে আইনী সহায়তা দিতে পেরে একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে আমি গর্বিত। শারমিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ-২০১৭’ পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার খবরে এতোটা আনন্দ পেয়েছি যা সারা চাকুরি জীবনে পাইনি। ওসি বলেন, ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগদানের পর থেকে শারমিনসহ এ পর্যন্ত ৪৬ জন গরীব ও অসহায় নারী পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করে নিষ্ঠা ও মানবিকতার সহিত আইনী সহায়তা করছি। এর মধ্যে অধিকাংশ পরিবারের মামলা পরিচালনার সমর্থই নেই, তাদের নিঃস্বার্থভাবে সহযোগীতা করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে এ সেবার মানুষিকতা অব্যাহত থাকবে। রাজাপুরের সচেতন মহল মনে করেন, শারমিন যেমন তার সাহসিকতার জন্য বিশ্ব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে, তেমনি শারমিনকে আইনী সহায়তা দেয়া ওসি মুনীর উল গিয়াস ও শারমিনকে যে কলম সৈনিকরা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন তাদেরকেও পুরস্কৃত করা উচিত। প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী অধিকার আদায় ও নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে জোরালো ভূমিকা ও সাহসী পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। চলতি বছর শারমিন আকতারসহ বিভিন্ন দেশের ১৩জন সাহসী নারী এ সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৬- তে আইনজীবী সারা হোসেন ও ২০১৫- তে সাংবাদিক নাদিয়া শারমীনের পর এবার বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এ পুরস্কার পেলেন শারমিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ