ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাজীপুরে লাইফওয়ে বাংলাদেশ-এর প্রতারণার মহাফাঁদ

গাজীপুর সংবাদদাতা : এম.এল.এম.বা ডিরেক্ট সেলস ব্যবসা বেশ জাঁকিয়ে বসেছে গাজীপুরে। আর এদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে  দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। অত্যন্ত লোভনীয়, অকল্পনীয়, অফার আর অল্পদিনে কোটি পতি হবার স্বপ্ন নিয়ে ঝুঁকছে দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক।
গাজীপুরের ভোগড়া চান্দনা-চৌরাস্তার শহীদ হুরমত আলী ভবনে ১ম,২য়,৩য় এবং ৪র্থ তলায় ‘অবস্থিত লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিঃ নামের একটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি অনুমোদন ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই কোম্পানির নানা আর্থিক লাভ ও কমিশনের আশ্বাসে সাধারণ মানুষ গ্রাহক, পণ্য বিক্রি ও অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিঃ বিপুলসংখ্যক মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অত্যন্ত লোভনীয়, অকল্পনীয় অফার আর অল্পদিনে কোটি পতি হবার স্বপ্ন নিয়ে ঝুঁকছে গাজীপুরসহ দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক। আলাদীনের জাদুর প্রদীপ এর মত রাতারাতি কোটিপতি হতে অফিসটির সামনে শত শত লোকের ভিড়, যারা কিনা প্রাথমিক শিক্ষায় ও শিক্ষিত না, অর্থাৎ অধিকাংশ লোক গ্রাম থেকে কারো মাধ্যমে এসেছে আর নয়তো চা দোকানদার, ফুুটপাতের দোকানদার, রিক্সা চালক ও ভ্যান গাড়ি চালক এরা সবাই অফিসিয়াল পোশাক পড়ে দাড়িয়ে থাকে। সরকার কর্তৃক লাইসেন্স ছাড়া এসব কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন গ্রাহক তৈরি নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিঃ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। এ কোম্পানি হাইকোর্ট এ রীট করে কৌশলে নতুন গ্রাহক তৈরি, পণ্য বিক্রি ও অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গাজীপুরে এসকল কোম্পানীর প্রকোপের কারণে অনেকে খুব নির্মমভাবে প্রতারিত হয়েছেন। অফিসের সামনে দাড়ানো নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার  সোহেল রানাকে এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে বাটারফ্লাই কোম্পানিতে চাকরির নাম করে এবং মাসে ১৫০০০-২০০০০/ টাকা বেতন দিবে বলে  ৫০,০০০ টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে বলে। তারপর তারা আমাকে ৫০০০০/ হাজার টাকার বিপরীতে একটি ২৪ ইঞ্চি কালার এলইডি টিভি ধরিয়ে দেয়। এখন আমাকে চাকরি না দিয়ে আরও আমার মত এরকম কাস্টমার সংগ্রহ করতে বলে,অন্যথায় আমি কোন বেতন পাবনা।  নওগা জেলার নজরল ইসলাম জানান,তিনি গার্মেন্টস কর্মী। ৩ মাস আগে তিনি ৫০,০০০ টাকা দিয়ে এ ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন। এখন পযর্ন্ত কোন ইনকাম করতে পারেননি। প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাহকদের নিয়ে এসে এ কার্যালয়ে প্রতিদিন ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, আমাদের দেশের এম,এল,এম,ব্যবসা যেই ভাবে এগুচ্ছে তাতে করে এর ভয়াবহতা আমরা ইতি মধ্যেই টের পেয়েছি। এ রকম তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো অনেক মানুষ ভুলতে পারেনি, যেমন ‘আইসিএল’ ‘যুবক’ও ডেসটিনি গ্রুুপের এমএলএম কার্যক্রম আরও বেশিসংখ্যক মানুষের বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাট করে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিঃ ব্যবসার সরকারি অনুমোদন আছে কিনা তা জানতে চাইলে এজেন্সির এ্যাসিস্ট্যোন্ট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার আল-আমিন মিয়াজী জানান, লাইসেন্স আবেদন বাতিল হওয়ার পর তারা হাইকোর্ট এ আপিল করেছেন। গত বছরের তাদের লাইসেন্স আবেদনের আপিল শুনানি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আপনাদের সাইনবোর্ড এ রেজিঃ নং- সি- ৮২৮৮৬/২০১০ লিখা রয়েছে এটা কিসের রেজিঃ নং? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এটা আসলে কিসের রেজিঃ নং সেটা আমি জানিনা সেটা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মুকুল গাজী বলতে পারবেন। কিভাবে ব্যবসা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চালাচ্ছি । লাইসেন্স দেয়নি একটিকেও। আর লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের কোন প্রশ্নই উঠেনা। এব্যাপারে সদর থানার অফিসার্স ইন্চার্জ আমিনূল ইসলাম জানান এই প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি আমি জানিনা তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ