ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম মহানগরীর পানিবদ্ধতার সমাধান হচ্ছে না ॥ বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগরীর পানিবদ্ধতা সমস্যা কোন ভাবে সমাধান করা যাচেছ না। মেয়র আসেন মেয়র যান, কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয় তবুও পানিবদ্ধতা থেকেই যায়। বরং পানিবদ্ধতা আরও বেড়ে যাচেছ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর দুর্বল ড্রেনেজ সিস্টেম,নালা নর্দমা ভরাট থাকা, নগরীর খালগুলো অবৈধ দখলে থাকা,নালা নর্দমার ওপর ভবন মার্কেট নির্মাণ,কর্ণফুলী নদী ভরাট করে প্রবাহ সংকুচিত করা পানিবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ বলে নগরবাসী মনে করছে।
গত ৩০ বছরে নগরীতে কোন নুতন খাল খনন করা হয়নি। পানিবদ্ধতার সমস্যা সহনীয় মাএায় রাখার জন্য  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগ নিলেও সরকারি অনান্য সংস্থার কোন সম্বন্বিত তৎপরতা না থাকায়  এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর পানিবদ্ধতা সমস্যার সমাধান পুরোপুরি হবে না। সকল সংস্থা উদ্যোগ নিলে সম্বন্বিত চেষ্ঠায় সহনীয় পর্যায়ে আনা যেতে পারে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নগরীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়া পর্যন্ত নদীর অংশ বিরাট আকারে ভরাট করে ফেলেছে। এতে পানি টানার ক্ষমতা নদীর হ্রাস পেয়েছে।
কর্ণফুলী নদী  বিরাট আকারে ভরাট করে ফেলায় বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের পানিবদ্ধতায় আরও বেশী কষ্ট পেতে হচেছ বলে সচেতন মহলের দাবি। পাশাপাশি চবক মহেষ খালে বাধঁ দেয়ায় হালিশহরসহ আশেপাশের এলাকায় পানিবদ্ধতা বেড়ে গেছে।
 নগরীর চাক্তাই খাল,ডোমখাল,হিজড়া খাল, মির্জাখাল,শীতল ঝর্ণাখাল,বামুন নয়াহাট খাল, গুলজার খাল, বীর্জা খাল,ইছ্যানা খাল,মাইট্রা খাল,লালদিয়ার চর খাল, ত্রিপুরা খাল,নাছির খাল, গয়না ছড়া খাল,কাট্রওলী খাল, চশমা খাল নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম বড় খাল। কিন্তু এসব খাল অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়েছে। তাই নগরী পানি নামতে দেরী হয় বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর নালা নর্দমার পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। তারওপর সিডিএ,পিডিবি, ওয়াসার বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের আবর্জনা বালি নালা নর্দমায় গিয়ে পড়ছে। পানি চলাচরে পথ রুদ্ধ হচেছ।উন্নয়ন কাজের জন্য নালা বন্ধ করতে হচেছ। তাই অল্প বৃষ্টিপাতে পানি নামতে না পেরে পানিবদ্ধতা ব্যাপক রুপ নিচেছ। বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজের কারণে নালা নর্দমা ভরাটের কথা চট্টগ্রামের মেয়র আ.জ.ম নাসির বললেও সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুস সালাম তা মানতে রাজি নন। তার দাবি কাজ হচেছ  নালা নদর্মা বন্ধ হবে কেন।
চসিক সূএ জানায়,আমলাতান্ত্রিক জটিলতা,অনলাইন টেন্ডারে ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে অনীহার কারণে এবার চসিক নালা নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করতে পারেনি। গত দুই যুগ ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেয়রের আমলে পানিবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে কয়েকশত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। খাল খন্দ, নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখা সহ বাস্তবমুখী বিভিন্ন পরিকল্পনার চেয়ে যন্ত্রপাতি কেনা, ট্রাক, ডাম্পার কেনার দিকে  ঝোক ছিল বেশী। ফলাফল যা ছিল তাই। পানিবদ্ধতা কমেনি। ২০০৭ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চট্টগ্রামে পানিবদ্ধতা নিরসনে সকল সংস্থার সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তা পরে আলোর মুখ দেখেনি। মেয়র মন্জু চট্টগ্রামে পানিবদ্ধতা নিরসনে সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৭ সদ্যসের একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। চসিকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক বছর পানিবদ্ধতা হলে সমস্যা নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার কথা প্রচার করা হয়, প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। আসলে তা কাগজ পএের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলে নগরবাসীর অীভযোগ।
চসিকের অপর একটি সূএ জানায়, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান অনুমোদনের জন্য একনেকে গেছে। অনুমোদন পেলে চট্টগ্রাম ওয়াসা ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু করবে।
 জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে   চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের  মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের  বলেন,  চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন খাল, নালা-নর্দমা দখল, ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। বাস্তবতা হচ্ছে এ ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি তো দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক বছর নয় মাস আগে। এর আগে থেকেই তো সমস্যাগুলো ছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ সমস্যাগুলোর রাতরাাতি তো পরিবর্তন সম্ভব না। তবে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী দু ধরনের লক্ষ্য রেখেই এগুচ্ছি। স্বল্প মেয়াদের মধ্যে আছে খাল-নালাগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। এজন্য আমাদের পরিচ্ছন্ন টিম কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে জনগণ দায়িত্বশীল না হলে খুব বেশি সুফল আসবে বলে মনে করি না। খাল পারে যারা বসবাস করেন তারা তাদের ময়লা-আবর্জনগুলো খালেই ফেলে। এই যেমন চাক্তাই খালের খনন করেছিলাম। খনন শুরুর দিন মিডিয়াও উপস্থিত ছিল সেখানে। কিন্তু ক’ দিন পরেই মানুষের ফেলা বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সেই জায়গায় সচেতনতার প্রয়োজন আছে। আমি চেষ্টা করছি। জনগণের সহযোগিতা লাগবে।
 এদিকে গত শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠায় বহু ব্যবসায়ীর মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চাক্তাই খাতুনগন্জ, রেয়াজউদ্দিন বাজার সহ বড় বড় মার্কেটের দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে।
নগরীর পানি নামার প্রধান খাল চাক্তাই খাল। সরেজমিন নগরীর চকবাজার , দেওয়ানবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় চাক্তাই খাল ঘুরে দেখা গেছে খাল ময়লা আবর্জনা ও বালি কাদামাটিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।পানি নামার পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। স্থানীয় জনসাধারণও সচেতন নয়। তারা আবর্জনা খালে ফেলে। পানি নামার পথ করতে চসিক কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে গতকাল শনিবারও চট্টগ্রাম মহানগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে দ্রুত পানি নামায় পানিবদ্ধতা প্রকট হয়নি। এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়,উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরসমূহকে ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ