ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জঙ্গিবাদ দমনে বিশিষ্ট নাগরিকরা কথা বলেন না

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সুপ্রসহ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে এসডিজি অর্জনে জাতীয় স্বেচ্ছা-পর্যালোচনা নাগরিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জঙ্গিবাদ দমনে বিশিষ্ট নাগরিকদের ভূমিকা নেই মন্তব্য করে অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেছেন, জঙ্গিবাদ আমাদের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করলেও বিশিষ্ট নাগরিকদের ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। আর হেফাজতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সখ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, কৌশল হলো দুই কদম এগুতে এক কদম পেছানোর মতো।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘এসডিজি অর্জনে জাতীয় স্বেচ্ছা পর্যালোচনা : নাগরিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এশিয়া  ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স এডিএ, ইকুইটি বিডি, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান সুপ্র, এসডিজি ওয়াচ বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নাগরিক সমাজের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই। আপনারাতো অনেক বিষয়ে সোচ্চার। কোনো কোনো ইস্যুতে তো আপনাদের সম্মানীয় এক্টিভিজম দেখি না। এই যে দেশে জঙ্গিবাদের উত্তর ঢেউ, আমি এ বিষয়ে সিভিল সোসাইটি গ্রুপের স্ট্রং অবস্থান দেখিনি। আমি মনে করি এটা তো আমাদের অস্তিত্বের সমস্যা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সখ্যতার বিষয়ে সমালোচনার জবাবে আবদুল মান্নান বলেন, মহামতি লেনিনের লেখার মধ্যে রয়েছে- টু স্টেপ ফরোয়ার্ড, ওয়ান স্টেপ ব্যাক। দুই কদম এগিয়ে এক কদম পেছনে যাও। যোগফল কিন্তু এগোবে। হতাশ হবেন না, দুই কদম এগিয়ে এক কদম পেছাতে হয়।
প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, বাস মালিকরা বলল আমরা বাস বন্ধ করে দেব। মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে, কই আপনারা তো কেউ রাস্তায় বেরিয়ে বললেন না এটা অন্যায় কাজ, এটার সঙ্গে একমত নই।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতি সম্প্রতি আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে সবেচেয়ে বড় সম্মেলনে ১৩৫ না ১৩৬ দেশের সংসদ সদস্যরা এসেছিলেন। সেখানে অত্যন্ত চমৎকার রেজুলেশন এসেছিল- যে বড় রাষ্ট্রগুলো ছোট রাষ্ট্রের ব্যাপারে অহেতুক, অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু এটাতে বাধা দিল কারা? আপনাদের সঙ্গে তো তাদের যোগাযোগ আছে। কই আপনারা তো রাস্তায়  বেরিয়ে পড়লেন না যে এটা ঠিক হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, তুরস্ক এক পর্যায়ে গিয়ে আর এগুতে পারছে না। আমার ভয়, এটা আমার নিজের, সরকারের ভয় বলছি না। একটা পর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার পর আমাদের হাঁটা বন্ধ করে দেয়া হবে। এসব রাষ্ট্রকে যারা বাধা দিয়ে রেখেছে...। এসব বিষয়েও আমরা আপনাদের কাছ থেকে এক্টিভিজম আশা করি।
সরকারকে অনেকগুলো শাখা-প্রশাখা নিয়ে কাজ করতে হয় এজন্য সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এজন্য সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করে অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই। সরকার প্রধান যিনি আছেন তিনি সব সময়ই এগুলো দূর করার জন্য বলেন। যে গতিতে তিনি চান সেটা অর্জন হয় না। সবাইকে নিয়েই তাকে যেতে হবে। তারও সীমাবদ্ধতা আছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনেক জায়গা আছে। আমার এগিয়ে যাব।
সেমিনারে এসডিজি ওয়াচের উপস্থাপনায় এসডিজির স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমসহ সকলের প্ল্যাটফরম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়া হয়।
সুপারিশে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এসডিজি মনিটরিং কমিটি ও ভল্যান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ কমিটিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ধনী দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে আনতে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং বরাদ্দের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের উপস্থাপনায় সুপারিশে বলা হয়েছে- শুধু মাত্র সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, অর্থের অপচয় রোধ ও দুর্নীতি কমাতে হবে। করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির সিএসআর-এর প্রতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতা বাড়ানো এবং তা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের ব্যয়ের জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
ইকুইটি বিডির উপস্থাপনায় বলা হয়, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো উন্নয়ন কৌশলে কম গুরুত্ব পাচ্ছে। উন্নয়ন কৌশলে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
টেকসই উন্নয়নে সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই অর্থ পাচারের সুযোগ বন্ধ ও দুর্নীতি কমানোর সুপারিশ করা হয় উপস্থাপনায়।
নোয়াখালী রুরাল ডেভেলমেন্ট অথরিটির এনআরডিএস’র প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল আউয়ালের সঞ্চালনায় সেমিনারে উন্নয়ন পরিষদের প্রধান নির্বাহী নিলুফার বানু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মতিন, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক তপন কুমার দাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ