ঢাকা, রোববার 23 April 2017, ১০ বৈশাখ ১৪২৩, ২৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভ্যাট আদায়ে এবার মোবাইল এ্যাপস চালু করবে এনবিআর

স্টাফ রিপোর্টার : মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আদায়ে ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) মেশিনের বিকল্প হিসেবে মোবাইল এপস চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ ব্যবস্থা চালু হলে ক্রয়-বিক্রয় অনেক সহজ হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ডিসিসিআই’র এমন প্রস্তাব বাস্তবায়নে আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আয়কর এবং ভ্যাটবিষয়ক কর্মশালা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ডিসিসিআই’র সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, এফসিএ সহ-সভাপতি হোসেন এ সিকদার, পরিচালক হোসেন আকতার প্রমুখ।
কর্মশালায় এনবিআরের সদস্য পারভেজ ইকবাল আয়কর এবং ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন ভ্যাটবিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থী ওই কর্মশালায় যোগদান করেন।
নজিবুর রহমান বলেন, ঢাকা চেম্বার ও এনবিআরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সবসময়ই ডিসিসিআইর প্রস্তাবনাসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে থাকে।
তিনি জানান, ডিসিসিআইর প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতেই এনবিআর সেরা করদাতাদের মাঝে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করছে। দেশে একটি বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থাপনা চালুর লক্ষ্যে এনবিআর সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। ভ্যাট আইনের ২০১২ দেশের ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি সব স্তরের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
প্রস্তাবিত ভ্যাটবিষয়ক মোবাইল এপস চালুর আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিকাশ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম সফলতা পেয়েছে এবং ভ্যাট আহরণে এ ধরনের মোবাইল এপস চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের পাশপাশি মুঠোফোন কোম্পানি, বেসিস এবং সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং এটুআই প্রকল্প একযোগে কাজ করার প্রস্তাব করেন।
আবুল কাসেম খান বলেন, সরকার ১ জুলাই হতে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পাশপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। ঢাকা চেম্বার মনে করে, প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনে ভ্যাটের হার ৭ শতাংশ করা প্রয়োজন। তাহলে পণ্য-দ্রব্যের দাম কমবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকা- বাড়বে, যা কিনা দেশের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, আয়কর ও ভ্যাটের হার কমানো হলে, দেশে আরো বেশি বিনিয়োগে ব্যবসায়ী সমাজ উৎসাহিত হবেন। ভ্যাট প্রদান প্রক্রিয়াকে সবার কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এর অনলাইন কার্যক্রম গ্রহণে এনবিআরকে ধন্যবাদ।
একই সঙ্গে তিনি ইসিআর মেশিনের বিকল্প হিসেবে মোবাইল এপস চালু ও সেরা ভ্যাট প্রদানকারীদের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ভ্যাট কার্ড’ প্রবর্তনের বিস্তৃতি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।
ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যমান ভ্যাট আইনে নানাবিধ অসঙ্গতি রয়েছে, তবে প্রস্তাবিত ভ্যাট আইন ২০১২-তে এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করা হবে। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনটি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ