ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন মায়া দিগুইতো

 

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দিগুইতো। বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছে।

দিগুইতো ছাড়া একই দায়ে অভিযুক্ত হতে যাচ্ছেন রেমিটেন্স সংক্রান্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের ৪ কর্মকর্তা। এই কর্মকতারা হলেন এনরিকো তিয়াদ্রো ভাসকোয়েজ, আলফ্রেড সান্তোষ ভার্গারা, মাইকেল ফ্রান্সিস্কো ক্রুজ ও জেসি ক্রিসটোফার লাগরোস। জিএমএ নিউজ অনলাইনের এক খবরে আজ সোমবার এসব তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, যে ৪ একাউন্টে চুরি হওয়া অর্থ পাচার হয়, দিগুইতো ওই একাউন্টগুলো ২০১৫ সালের মে মাসে খোলেন। এর জন্য ব্যবসায়ী কিম অং-এর সুপারিশও নেয়া হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে তিনি ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ অপরিচিত ওই হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করেন।

এরপর ওই অর্থ এক জায়গায় করে আরেক ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর হিসাবে দেয়া হয়। এর আগে ফিলরেম থেকে ওই অর্থ ক্যাসিনো মালিক উইক্যাং জুর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, অর্থপাচারের সঙ্গে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী জু ও কিম অং-এর সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি তারা। আর সে কারণে তাদের খালাস দেয়া হচ্ছে।

গত মার্চে ফিলিপাইনের ব্লু রিবন সিনেটের তদন্তে কিম অংকে দায়ী করা হয়। বলা হয়, তার কোম্পানি ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০০ কোটি পেসো স্থানান্তর হয়েছে।

এই ব্যবসায়ী তা স্বীকারও করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি পেসো পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটা তো বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা নয়। এটা তাদের বিনিয়োগ ও ঋণ হিসেবে এক দম্পতি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ নিয়ে কিছু জানেন না।

এদিকে, এবিএস-সিবিএনের এক খবরে বলা হয়েছে, দিগুইতোসহ যাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তাদের প্রজাতান্ত্রিক আইন ৯১৬০ অথবা মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের জন্য বিচার হবে।

বিচার বিভাগের কাগজপত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও বলা হয়, দিগুইতো রিজাল ব্যাংক থেকে ওই অর্থ তোলারও ব্যবস্থা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সে অর্থ কল্পিত কোনো হিসাবে জমা দিতে সহায়তা করেছিলেন।

২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংক সিস্টেম হ্যাক হয়। অভিযোগ আছে, ওই অর্থ ফিলিপাইনের আর্থিক সিস্টেমে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সময় রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে সুইফট বার্তা পাঠায় এবং হ্যাক হওয়া অর্থ লেনদেন থামানোর নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তখনও লেনদেন চালু রাখা হয়।

এর আগে ম্যানিলার একটি আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে দুই দফায় চুরি হওয়া অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। অং ওই সময় ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কিছু টাকা পরিশোধ করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ওই আদালত আরও জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকই এই অর্থ পাওয়ার সঠিক দাবিদার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ