ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাবিতে হল ক্যান্টিনের ২ বয়ের হাত পা কেটে দিল ছাত্রলীগ 

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার রেশ যেতে না যেতেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সংঘর্ষে দুই ক্যান্টিন বয়’র হাত পা কেঁটে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এছাড়া মারধর করা হয়েছে ক্যান্টিন পরিচালককেও এবং ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়েছে ক্যান্টিনে। এতে ক্যান্টিনের কয়েক হাজার টাকা নষ্ট হয়েছে। সংঘর্ষে ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গত রোববার রাত ৯টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, গত রোববার দুপুরে হল ক্যান্টিনে সভাপতি গ্রুপের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফারুক ও নাহিদ খাবার খেতে যায়। এসময় খাবার টেবিলে বসার আসন ফাঁকা না পেলে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের জামিলকে দ্রুত খাবার শেষ করার জন্য বলে। এসময় জামিলের সাথে ফারুক ও নাহিদের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে রাত ৯ টার দিকে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা নাহিদের উপর চড়াও হয়। পরে অন্য কর্মীরা রড-লাঠি নিয়ে এসে হল ক্যান্টিনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। 

আহত কর্মীদের মধ্যে- সভাপতি গ্রুপের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের রুবেল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নাহিদ, একই বিভাগের রাকিব, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের সুলাইমান, দর্শন বিভাগের বিল্লাল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অটল ও আইন বিভাগের রিফাত হোসেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের সুজন হোসেন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের শাহাদাত হোসেন, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সজিব আহমেদ, শিল্প কলার ইতিহাস বিভাগের ফখরুল হোসেন সোহাগ। 

সংঘর্ষের সময় হল ক্যান্টিনে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে দুই ক্যান্টিন বয়কে। ক্যান্টিন বয় মাসুদের হাত ও মহসিনের পা কেটে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মারধর করা হয়েছে ক্যান্টিন পরিচালককে। 

ক্যান্টিন পরিচালক মোহাম্মাদ বাবুল মিয়া বলেন, আমি ২০০১ সাল থেকে এই হলে ক্যান্টিন পরিচালনা করি। আমার ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। ক্যান্টিনের সব খাবার নষ্ট করা হয়েছে। ৭০টিরও বেশি প্লেট-বাটি ভেঙ্গে চুরমার করা হয়েছে। ক্যান্টিন বয়দের আহত করা হয়েছে। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ খাবারের মান উন্নত করতে বলেছিল। আমি উন্নত করেছি। এখন আমার কত টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। আমাকে কে দেবে?”

হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার বলেন, আগের ঘটনার বিচার না হওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আগের ঘটনার বিচারকে ভিন্নখাতে প্রবাহতি করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সময় দ্রুত আমি সভাপতি হলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, যারা ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আগের ঘটনার বিচার না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে সাধারণ সম্পাদক যে দাবি করেছেন সে বিষয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, যদি তাই হয় তবে সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। কেননা, তার গ্রুপের কর্মীরা আমার গ্রুপের কর্মীদের উপর আগে হামলা চালিয়েছে। 

ঘটনার বিষয়ে বিশ্বিবদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, আগের ঘটনার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় কমীটির কাছে ৬ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে। আর আজকে যে ঘটনা ঘটেছে তাতেও কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষের সাথে একাধিকবার তার মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ এপ্রিল রাতে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার টি’টয়েন্টি ম্যাচের খেলা দেখা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ কর্মী আহত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ