ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুপ্রিম কোর্টে স্থাপিত ‘থেমিস’ মূর্তি রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা

 

স্টাফ রিপোর্টার : গ্রিক দেবী ‘থেমিস’ ভাস্কর্য অপসারণে ইসলামী দল, আলেম-ওলামাদের দাবির মুখে এর নিরাপত্তা জোরদার করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক থাকছেন পুলিশ সদস্যরা। ভাস্কর্যের কাছাকাছি যেমন কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছেনা তেমনি ছবি তুলতেও বারণ করছেন তারা। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এই নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। 

ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই এটি দেখভালের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নির্দেশনার আলোকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয় ভাস্কর্যের নিরাপত্তা জোরদারে।

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল রাতে গণভবনে কওমী মাদরাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণের আশ্বাস দেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফীসহ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্য প্রসঙ্গে বলেন, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। বলা হচ্ছে এটা নাকি গ্রিক মূর্তি আমাদের এখানে গ্রিক মূর্তি আসবে কেন? আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিৎ না। এটা কেন করা হল? কারা করল? কীভাবে, জানি না। গ্রিকদের পোশাক ছিল এক রকম। এখানে আবার দেখি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে। এটাও হাস্যকর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে খুব শিগগিরই বসব। আপনারা ধৈর্য ধরেন, এটা নিয়ে হৈ চৈ করা নয়। আমার উপর আপনারা এটুকু ভরসা রাখবেন। এটায় যা যা করা দরকার আমরা তা তা করব। এরপর প্রধানমন্ত্রী বিচারপতিদের জন্য ২০ তলা ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে কথাও বলেন। এরপর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় ভাস্কর্যটি জাতীয় ঈদগাঁ থেকে দেখা যাওয়ায় নামাযের সময় এটি ঢেকে দেয়া হবে। এ তথ্যে আলেম ওলামারা ফের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তোলেন। 

এরআগে হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, সরকার সমর্থক আওয়ামী ওলামা লীগ ভাস্কর্য অপসারণে প্রধান বিচারপতি বরাবরে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন। 

ইসলামী দলগুলোর অব্যাহত দাবির মুখে ভাস্কর্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। ভাস্কর্যের বিশ গজের কাছাকাছি দুইজন পুলিশ কনস্টেবলকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হয়েছে। এমনকি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমেও ভাস্কর্যের আশপাশের পরিস্থিতি সব সময়ই সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সাধারণ পোশাকধারী কেউ চাইলেই ভাস্কর্যের কাছাকাছি দাঁড়াতে বা সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি ভাস্কর্যের আশপাশে সন্দেহভাজন মনে হলেই তাকে তল্লাশি করছে পুলিশ।

চাইলে সুপ্রিম কোর্ট সাব কন্ট্রোল কক্ষের উপ-পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন জানান, ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই এর নিরাপত্তার বিষয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এছাড়াও আমাদের (পুলিশের) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মিটিংয়ে বসলে তারাও ভাস্কর্যটির নিরাপত্তায় সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দিয়েছেন

তিনি আরো বলেন, ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে অতি সম্প্রতি সেখানে দুজন কনস্টেবলকে ভাস্কর্য দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ভাস্কর্য সংলগ্ন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকে প্রায় চল্লিশজনের বেশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাদেরকেও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই ভাস্কর্যের বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য ফটকের নিরাপত্তা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার বন্ধের দিনেও ভাস্কর্যের নিরাপত্তায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ওইদিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাদ জুমা পূর্বঘোষিত এক সমাবেশে প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সমাবেশ থেকে আসন্ন রমজান মাসের আগেই ভাস্কর্য সরাতে দাবি জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে সরানো না হলে ১৭ রমজান সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবে দলটি।

গত ডিসেম্বর মাসে থেমিস ভাস্কর্যের কাজ শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতির আগ্রহ ও ইচ্ছাতেই এটি নির্মিত হচ্ছে বলে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ভাস্কর্যের নির্মাতা হলেন ভাস্কর মৃনাল হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ