ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মানবাধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ গণমাধ্যম

ফেনী সংবাদদাতা : বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান ফেনীর আলোকিত সন্তান একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেছেন, মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের বাঁচার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার। এর প্রধান রক্ষাকবচ হলো গণমাধ্যম। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের শেষ ঠিকানা। তবে গণমাধ্যমকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মিথ্যা অথবা অতিরঞ্জিত সংবাদ দেশ-জাতির জন্য ভয়ানক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

তিনি রোববার সন্ধ্যায় দৈনিক ফেনীর সময় এর আয়োজনে পত্রিকাটির প্রধান কার্যালয়ে ‘মানবাধিকার রক্ষায় গণমাধ্যম’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। দৈনিক ফেনীর সময় এর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন, হাইকোর্টের ডেপুটি এ্যার্টনি জেনারেল কাজী জিনাত হক, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান বি.কম, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহম্মদ।

বিচারপতি কাজী এবাদুল হক আরো বলেন, মানবাধিকার হল মানুষের বাঁচার অধিকার। এ অধিকার শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। শিক্ষার অধিকার- মত প্রকাশের অধিকার, আরো আরো অধিকার। বঙ্গবন্ধুর রোজনামচা বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শেখ সাহেব লিখেছেন, মানুষ যদি কথা বলতে না-পারে তবে তার জীবন অর্থহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ যুদ্ধে কয়েক কোটি মানুষ মারা গেছে। ফেনীর পুরাতন বিমানবন্ধরে মিলিটারির ঘাঁটি ছিল। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ চলাকালে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের মাধ্যমে প্রস্তাব এলো জাতিসংঘ করার। ১৯৪৮ সালে লিগ অব নেশনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ উঠে আসা একটি বড় ঘটনা। তবে বিপ্লবী মানবেন্দ্র রায় তার বইতে অনেক আগে মানবাধিকারের এ বিষয়ে বলেছেন। এ সনদের ভিত্তি আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিমকোর্টে রিট করা যায়।

বিচারপতি কাজী এবাদুল হক আরো বলেন, সংবাদপত্র সোচ্চার হলে মানবাধিকার লঙ্গন কমবে। এজন্য সংবাদপত্রের দায়িত্বও অনেক। ‘প্রেস’ এখন স্বাধীন।

সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের প্রসঙ্গ এনে বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, মাহমুদুর রহমান খুব জেদি মানুষ। এজন্য সে অনেক শাস্তি ভোগ করেছে। সে সুপ্রীমকোর্টের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। তবে তার পত্রিকা বন্ধ করে দেয়াকে সমর্থন করি না। সংবাদপত্রকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দায়িত্বশীল না-হলে তার কোনো দাম থাকে না। তার কথা সত্য হতে হবে, বানোয়াট হলে হবে না। যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, ‘প্রেস’ সেখানে চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডিএম একরামুল হক, ভোরের কাগজ প্রতিনিধি ও জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুকদেব নাথ তপন, অবজারভার ও ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি আবু তাহের ভূঞা, যুগান্তর ও যমুনা টিভি প্রতিনিধি যতন মজুমদার, মানবজমিন ও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম, একাত্তর টিভি প্রতিনিধি জহিরুল হক মিলু, দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, দৈনিক অজেয় বাংলা নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঞা, বাংলানিউজ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সোলায়মান হাজারী ডালিম, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক রাসেল, সাপ্তাহিক ফেনী বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এম এমরান পাটোয়ারি, শিল্পতীর্থ সম্পাদক হুমায়ুন মজুমদার। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন দৈনিক ফেনীর সময় লেখক-পাঠক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন বাবলু, পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আলী হায়দার মানিক, নিউজ ডেস্ক ইনচার্জ আরিফ আজম, বিশেষ প্রতিবেদক শাবিহ মাহমুদ, শহর প্রতিনিধি মোল্লা মো: ইলিয়াছ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ