ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই হাওরে বিপর্যয়

সংসদ রিপোর্টার : সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাওরগুলোতে চলমান বিপর্যয়ের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, শিল্পায়নের নামে উন্নত দেশগুলো যে হারে কার্বন নিঃসরণ করছে তার বিরূপ প্রভাব পরিবেশের উপর পড়ছে এবং ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশসহ অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যে আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি উন্নত দেশগুলো দিয়েছে তা পূরণে তারা কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না। পরিবেশবিদরা দায়ী দেশগুলোকে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইউনিসেফসহ আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোকে এবিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

জাতীয় সংসদ ভবনের আইপিডি কনফারেন্স কক্ষে গতকাল সোমবার সর্বদলীয় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় ফোরাম ও কোস্ট ট্রাস্ট’র যৌথ আয়োজনে ‘উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শিশু-কিশোর-যুবকদের সুরক্ষা: মনপুরা দ্বীপের উদাহরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। 

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। অনুষ্ঠানে এমপিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাইমুম সরোয়ার কমল, টিপু সুলতান, নবী নেওয়াজ, জেবুন্œেছা আফরোজ। এছাড়া অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, অধ্যাপক ড. শারমিদ নিলোর্মি, বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেইগবেডার এসময় বক্তৃতা করেন। 

জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত সমস্যা প্রকট হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের নামে যে হারে কার্বন নিঃসরণ করছে তার বিরূপ প্রভাব পরিবেশের উপর পড়ছে এবং এর ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন সরকার এর আগে কেউই ছিল না। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকবেলায় করণীয় বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী জোড়ালো বক্তব্য তুলে ধরেছেন। 

এ সময় আলোচনাসভায় উপস্থিত ইউনিসেফসহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট করছে উন্নত বিশ্ব আর তার খেসারত দিচ্ছে আমাদের সরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাজেটও বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু এ দায় কী শুধু বাংলাদেশের? পরিবেশের হুমকির জন্য যারা দায়ী তাদের কেন ক্ষতিপূরণবাবদ পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না? এসময় তিনি ইউনিসেফসহ বিশ্বের পরিবেশবাদী সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে কোরাস ভয়েসে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। 

বাঁধ সংস্কারে নতুন কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় কিনা সে বিষয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু মনপুরা নয় সারা দেশের হাওর ও চর অঞ্চলের লোকের পাশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। যারা ভুক্তভোগী তাদের সšি§লিতভাবে কথা বলা দরকার। এসময় দেশের সব বিত্তবান মানুষকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। 

সভাপতির বক্তব্যে ড. হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ইনোসেন্ট ভিক্টিম। আমাদের দায় নেই, কিন্তু আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার। বাংলাদেশে হাওরগুলোতে চলমান বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোকে তাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করতে ইউনিসেফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করা এবং এর সংস্কারের উপরও গুরুত্বারোপ করেন ড. হাসান মাহমুদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ