ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপসার সন্ত্রাসী ‘ছোট বাবু বাহিনী’র হাত থেকে রক্ষা পেতে বৃদ্ধার আকুতি

খুলনা : সন্ত্রাসী ছোট বাবু এবং তার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা উপজেলায় সন্ত্রাসী আবু আহাদ হাফিজ বাবু ওরফে ছোট বাবু এবং তার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে সন্তানদের নিয়ে এক অসহায় বৃদ্ধা আকুতি জানিয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধার অভিযোগ, তাদের জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে ‘ছোট বাবু বাহিনী’ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিনিয়ত তার সাজানো পরিবারটিকে কুরে কুরে খেয়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। একের পর এক হামলা-মামলা, ভাংচুর এবং জীবন নাশের হুমকিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ সব অভিযোগ করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রূপসা উপজেলার উত্তর বাগমারা গ্রামের নূর মোহাম্মদ গাজীর স্ত্রী ফাতেমা বেগমের পক্ষে তার মেয়ে মনিরা বেগম। সঙ্গে ছিলেন স্বামী, সন্তান ও স্বজনরা।  ফাতেমা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে রূপসার বাগমারায় রেলের জমি ইজারা নিয়ে বসবাস করছিলেন। তার এ জমি দখলের জন্য ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী আবু আহাদ হাফিজ বাবু ওরফে ছোট বাবু এবং তার বাহিনীর সদস্য তানসেন শেখ, তৌহিদ শেখ, দারা শেখ, হেজু শেখ, সালাম শেখ, আল-আমিন শেখ, আজিজুল, মোহন শেখ, আলমগীর, রাজু ও সুমনসহ অন্যরা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে সন্ত্রাসীরা কয়েক দফায় তাদের ওপর হামলা, ভাংচুর এবং লুটপাট চালিয়েছে। এ সব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু তারা থেমে নেই। সর্বশেষ ১০ এপ্রিলও ছোট বাবুর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ঘরের দরজা জানালা ভাংচুর করে। বাধা দিতে গেলে ছোট বাবু নিজেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার মেয়ে মনিরার ওপরও হামলা চালায়। ব্যর্থ হয়ে আলমারি থেকে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে এ সন্ত্রাসীরা তার সন্তান ও নাতিদের যেখানে পাবে সেখানেই মারধর করবে এবং তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধসহ অবৈধ মাদক ও অস্ত্র দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ত্রাসী বাহিনীর বিভিন্ন অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ছোট বাবু পূর্ব রূপসার মৃত মুনছুর আহম্মদ’র পুত্র। সে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রেলের জায়গায় আলিশান বাড়ি এবং পাজারো গাড়িসহ রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। রূপসায় মাইক্রোস্ট্যান্ড, খানজাহান আলী ফিস নামক মাছের ঘর, এছাড়াও জলিল ফিস, শোভন ফিস ও ইব্রাহিম ফিসসহ প্রায় ১০টি মাছ ঘরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার হয়েছে। তার বাহিনীর সদস্য সুমন ওরফে বোমা সুমন, আজিজুল, রাজু, মঈন উদ্দিন মোহন, রফিক, সাকিব, আলামিনসহ বহিরাগতদের দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তার ভয়ে সাধারণ চিংড়ি ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে সাহস পায় না। এছাড়া মাদক সিন্ডিকেট ও জুয়ার বোর্ডেরও শেল্টারদাতা সে। এমনকি রূপসা এলাকার কয়েকটি বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। 

উল্লিখিত সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক যে কোন সময় তিনি বা তার ছেলে মেয়েদের হত্যাসহ বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ