ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কয়রার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানি সঙ্কটে

খুলনা অফিস : খুলনার কয়রার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানি সঙ্কটে রয়েছে। নিরাপদ ও সুপেয় পানির জন্য স্থাপিত রিং টিউবওয়েলগুলো সংস্কার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কিছু সংখ্যক টিউবওয়েল ভালো থাকলেও লবণাক্ততার কারণে পানি পানের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয়গুলোতে পানির সঙ্কট রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার কিছু সংখ্যক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুপেয় পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ওই সকল এলাকায় কোমলমতি শিশুদের আর্সেনিক থেকে রক্ষার জন্য সরকার পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর হতে আর্সেনিক মুক্ত রিং টিউবওয়েল বা ইদারাযুক্ত নলকূপ স্থাপন কাজ শুরু করে। সরকারি বরাদ্দে ওই অর্থবছরে প্রতিটি নলকূপ স্থাপনে প্রায় এক লাখ টাকা করে খরচ করা হয়। কিন্তু যেনতেনভাবে কাজ করায় টিউবওয়েলগুলো অকার্যকার হয়ে পড়ে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
তথ্য মতে জানা গেছে, এ পর্যন্ত স্থাপিত টিউবওয়েলগুলোর মধ্যে মদিনাবাদ মডেল, গড়িয়াবাড়ি, মনোরমা, ৬নং কয়রা, কাশির খাল ধার, পাথর খালি, ৪নং কয়রা, ৩নং কয়রা, বতুল বাজার, খেজুর বাগ, সিদ্দিকিয়া, মঠবাড়ি, হায়েত খালি, উত্তরচক, হড্ডা ডি.এম, পল্লীমঙ্গল, চৌকুনী, কালীকাপুর, ভাগবা, গিলাবাড়িসহ বিভিন্ন মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ সকল নলকূপগুলো শিশুদের কোনো কাজে আসছে না। অনেক নলকূপে পানি ওঠে না আবার যেটায় ওঠে তা লবণাক্ততার কারণে পান করা সম্ভব হয় না। তাছাড়াও নলকূপগুলো অনেক ঝুঁকিপূণ অবস্থায় রয়েছে।
কয়রা মনোরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, খগেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, নলকূপ স্থাপন করার পর কিছু দিন ভালো ছিলো। তার পর থেকে পানি ওঠে না, অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া নলকূপগুলো স্থাপন করার সময় ত্রুটি ছিল। যত গভীর করার প্রয়োজন ছিল ততটা করা হয়নি। বর্ষা মওসুমে কিছুদিন পানি থাকে। শুষ্ক মওসুমে মোটেও পানি থাকে না। অতি কষ্টে কিছু পানি উঠলেও তা লবণাক্ততার কারণে পান করা যায় না বলে তিনি জানান।
গড়িয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুকুমার থান্দার জানান, তার বিদ্যালয়ে ২০০৪ সালে একটি টিউবওয়েল বসালেও প্রচুর লবণাক্ত থাকায় কাজে আসছেনা। যে কারণে বাধ্য হয়ে হাত ও মুখ ধোয়ার কাজে ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা।
গড়িয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক আসাদুল ইসলাম লস্কর জানান, বিদ্যালয়ের পানিতে সমস্যা থাকায় তিনি তার সন্তানের স্কুল ব্যাগে প্রতিদিন বোতলে করে পানি দিয়ে স্কুলে পাঠান। এ রকম সমস্যা রয়েছে প্রায় সব বিদ্যালয়ে।
কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা সে ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ