ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বৃষ্টিতে ঝালকাঠি পৌর এলাকাসহ অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত

ঝালকাঠি : বৃষ্টিতে পৌর এলাকা ডুবে যাওয়ার দৃশ্য

ঝালকাঠি সংবাদদাতা : ৩ দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে সুগন্ধা ও বিষখালী নদী উপকূলীয় প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ৩ দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী ঝালকাঠি পৌর এলাকার ও নলছিটি পৌর শহরের কয়েকটি এলাকাসহ জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে আবাসিক এলাকাসহ ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ঝালকাঠি পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস রোড, ২ নং ওয়ার্ডের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক, জেলা কারাগারে প্রবেশের রাস্দা, ৯ নং ওয়ার্ডের সিটি পার্ক চর, লঞ্চঘাট, কলাবাগান, কাঠপট্টি ট্রলার ঘাট, ৩ নং ওয়ার্ডের গুরুধাম, বাসস্ট্যান্ড, পেট্রোল পাম্প, সুতালড়ি, সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, রাজাপুরের বড়ইয়া, মঠবাড়ি, নলছিটির কুলকাঠি, সিদ্ধকাঠি, রানাপাশা, নাচনমহল, মোল্লারহাট এবং কাঠালিয়া সদর, আমুয়া, চেচরীরামপুর, পাটকেলঘাটা ইউনিয়নসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকাসমূহে সাপ এবং বিষাক্ত পোকা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঝালকাঠি পুরাতন স্টেডিয়াম সংলগ্ন দারুন্নাজাত মহিলা মাদারাসার পরিচালক মাওঃ মাইনুল হক জানান, ৩ দিন ধরে মাদরাসাটি পানি বন্দি হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় সমস্যা হয়। বৃষ্টির পানি ছাড়াও জোয়ারের পানিতে মাদরাসায় আসা যাওয়ার সড়কটি তলিয়ে যায়। যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয় এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা আবাসিকে থাকে তাদেরও থাকতে অনেক কষ্ট হয়। মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী মরিয়ম, সাজিয়া, লাবনি বলেন, মাদরাসাটির চারপাশে পানি থাকার কারণে আমাদের থাকতে খুব কষ্ট হয়। অনাবাসিক শিক্ষার্থী ফাতিমা, তানিয়া ও মিতু বলেন মাদরাসায় আসা ও যাওয়ার সড়কটি পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে আমাদের মাদরাসায় আসতে ও যেতে অনেক কষ্ট হয়।
কৃষকরা জানান, ৩ দিনের বৃষ্টি মৌসূমী সবজি, ভুট্টা, তরমুজ ও বাঙ্গি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ফসলসমূহ অপরিপক্ব অবস্থায় তুলতে হচ্ছে। এতে খরচের টাকা উঠানোও কষ্টকর হয়ে পড়বে।
নলছিটির নাচনমহল ইউপি সদস্য নান্নু হাওলাদার জানান, নদী তীরবর্তি গ্রামে বেড়িবাঁধ না থাকায় অবাধে পানি ঢুকে আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ