ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সর্বত্র  বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে জমি থেকে ধান কাটা শেষ করেছে। এখনও যা আছে তাতেই দেখা যাচ্ছে জমিতে পাকা ধানের সোনালী শীষে ক্ষেত-খামার ভরে রয়েছে। ধানে  শোভা পাচ্ছে ক্ষেতগুলো।
অভিজ্ঞ কৃষকদের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে কৃষকদের মনে খুশির বন্যা বইছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে কৃষাণ-কৃষাণীরা বর্তমানে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। ফকিরহাট উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে ৮৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৪৬০০ হেক্টর এবং উপশী ৩৯০০ হেক্টর। গত  ২০১৬অর্থ বছরে বোরো ধানের আবাদ ছিলো ৮০২০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ৩০০০ হেক্টর এবং উপশী জাতের ৫০০০ হেক্টর। গড় হিসাবে গত ২০১৬ অর্থ বছরের তুলনায় চলতি ২০১৭অর্থ বছরে ৪৮০ হেক্টরের অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।কৃষকদের সঙ্গে আলাপ কালে তারা জানান, এবার কৃষি অফিস সময়মত স্থানীয় সকল কৃষকদের বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ ও তদারকি করার কারণে আমরা উৎসাহীত হয়েছি।  পাশাপাশি, এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি পড়তে হয়নি। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা কাঙ্খিত দাম  থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশংকায় রয়েছে। অনেক কৃষক জানান, কৃষকের ঘরে যখন ধান ফুরিয়ে যায়, ঠিক তখন ধানের বাজার বেড়ে যায়। যে কারণে কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি অনেকে জানিয়েছেন চলতি মৌসুমে জমিতে ভাড়ার ট্রাকটর দিয়ে জমি চাষ, বীজ-সার ক্রয় করে ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে যে পরিমাণ খরচ হয় সে তুলনায় বাজার মুল্য পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে শংকায় রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোতাহার হোসেন এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, অত্র উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন। তারা তাদের জমিতে তাদের বপনকৃত ফসলের কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাছে ছুটে আসেন। আমরা তাদেরকে নানা প্রকার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এছাড়া আমাদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের কে কৃষকদের সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করার জন্য জমিতে পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি। শুধু তাই নয়, কৃষকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে রোগের নিরাময় করা হয়ে থাকে। যে কারণে তারা উৎসাহী হয়ে পতিত জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন কৃষকেরা। তারই ধারাবাহিকতায়, এ বছর অত্র উপজেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ