ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ খাল ভরাট খুলনায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

খুলনা অফিস : শহরের মধ্যে জোয়ারের পানি প্রবেশ, পেড়ি মাটি জমে ড্রেনগুলো বন্ধ হওয়া ও সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ খাল ভরাট রয়েছে। এর ফলে বর্ষা মওসুমে খুলনা মহানগরীতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি করছে। এরই মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে সড়ক উঁচুকরণ ও পানি নিষ্কাশনের খালগুলোকে সংকুচিত করার বড় দুই পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। আর অপরিকল্পিত নগরায়ন জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করছে খোদ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ব্যক্তিরাই।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শহরের বাইরে পানি নিষ্কাশনের অধিকাংশের পথগুলো যেখানে খাল ও জলাভূমির সাথে মিশতো।
ওই পথ দিয়ে তা পানি নদীগুলোতে নেমে যেতো। কিন্তু গেলো দুই এক বছরের মধ্যে রাতারাতি তা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শহরের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথে বিঘœতার সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা যায়, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়া ছড়িছড়া, হরিণটানা, তালতলা, লবণচরা ২নং খাল, নারকেল বাড়িয়া, ট্যাংক টার্মিনাল সংলগ্ন খাল, ওয়াপদাপাড়া, চৌধুরী দেয়ানা ও বাগমারা খাল খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই সব খালের মাথায় স্লুইসগেট নির্মাণ, রূপসা ঘাটে পাম্প হাউজ ও ৮৫ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এ সব কাজ শুরু হবে।
তবে আপদকালীন অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনের আগাম প্রস্ততি হিসেবে সিটি করপোরেশন স্কেভেটর মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন পরিষ্কার ও পেড়িমাটি কাটার ব্যবস্থা করেছে। দখল উচ্ছেদে ২২ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান কয়েকটি স্থানে দখল উচ্ছেদে সহযোগিতা করেছেন। একই সাথে খাল দখলকারীদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবার এন্ড রুরাল প্লানিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানান, নদীর পৃষ্ঠদেশ উঁচু হওয়ায় জোয়ারের সময় শহরের মধ্যে উল্টো পানি ঢুকতে থাকে। পানি প্রবাহের গতিপথ পাল্টেছে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে ভাবতে হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ আবির-উল জবক্ষার বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নদীর পানি শহরের মধ্যে প্রবেশ না করার জন্য শহর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খালের কয়েকটি সংযোগস্থলে পাম্প বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প একনেকে অনুমোদন মিললে ২০২১ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হবে। ফলে দীর্ঘসময় পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় ভুগতেই হচ্ছে নগরবাসীকে। তবে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কমাতে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে ড্রেনের পেড়িমাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে।
কেসিসি’র ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান জানান, মহানগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে আগাম প্রস্ততি হিসেবে ছোট দু’টি এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে ওয়ার্ডের ছোট-বড় ড্রেনের পেড়িমাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার আগেই পর্যায়ক্রমে খুলনার সবগুলো ওয়ার্ডের ড্রেনের মাটি কেটে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা হবে।
অবৈধ খাল দখলকারীদের উচ্ছেদে গঠিত কমিটির আহবায়ক ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু জানান, মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কেসিসি অচিরেই খাল দখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযানে নামবে। কেসিসির ভেতরে ও বাইরের ৩৪টি খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ ও স্থাপনা অপসারণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই কমিটিকে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়ও বর্ষা মওসুমের আগেই নগরীর পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো পরিষ্কার ও মেরামত করার তাগিদ দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ