ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপসা ফেরীঘাট বিনোদনের ভিন্ন অঙ্গন হতে পারে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর পার্ক বা বিনোদনের জায়গাগুলোয় বিভিন্ন মেলা আর অনুষ্ঠানের কারণে বন্ধ থাকায় বিনোদন পিপাসুরা খোঁজে ভিন্ন অঙ্গন। শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু স্বস্তির আশায় অনেকেই ছুটেছে তাই রূপসা ঘাট এলাকায়। কিন্তু নির্মাণ ত্রুটি আর অব্যবস্থাপনায় সে আশা নিরাশায় পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‘কন্সট্রাকশন অব রূপসা বাস টার্মিনাল’ প্রকল্পটি উদ্বোধন হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে এ প্রকল্পের ইউনি ব্লক, আরসিসি রাস্তা-ড্রেন এবং কার্পেটিং। নির্মাণ ত্রুটি, অব্যবস্থাপনা এবং মনিটরিং’র অভাবে এমন পরিণতি হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘কন্সট্রাকশন অব রূপসা বাস টার্মিনাল’ প্রকল্পটি ১০ কোটি ২৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিসিটিএইজেভি ঠিকাদারি ফার্মের আওতায় কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ‘রিভার ক্রসিং পার্ট-১’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এআইজেডসিকেই নামের ঠিকাদারি ফার্ম। যার বরাদ্দ রয়েছে ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। যা তদারকি করছে কেসিসি ও সিআরডিপি। রূপসা বাস টার্মিনাল, ওয়াকওয়ে, আরসিসি ড্রেন, কার্পেটিং রাস্তা, আরসিসি রাস্তা, ইউনি ব্লকের মাধ্যমে টার্মিনাল চত্বর উন্নয়ন, টোল ঘর, প্যাসেস, সড়ক ডিভাইডারের মাঝে বনায়ন কর্মসূচি, নদী তীরবর্তী ঘাট সংরক্ষণ করা হবে। সরেজমিন দেখা গেছে, রূপসা ঘাট টোল ঘরের দক্ষিণ পাশের চত্বরটির ব্লক উঠে যাচ্ছে। নদীর পাড়ে ব্যবহৃত ব্লকগুলোতে ইটের খোয়া বেরিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ব্লক উঠে যাওয়ায় নতুন করে বালু সিমেন্ট দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। আরসিসি রাস্তা, ওয়াকওয়ে, আরসিসি ড্রেন সকল জায়গাতে প্লাস্টার উঠে গেছে। এখন চলছে নতুন করে প্রলেপ দেওয়ার কাজ। পাশে মাছ বাজারে যাওয়ার বড় ড্রেনের ওপরে ব্রিজটিতে উঠতেই টালি, প্লাস্টার ফেটে গেছে। তার পাশে রয়েছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টস এসোসিয়েশন এর নিজস্ব ঘাট। দেয়া আছে সাইনবোর্ড। যেখানে লেখা আছে, হিমায়িত রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা সমূহের মালিক, কর্মচারীদের পারাপারের নিজস্ব ঘাট। পূর্ব রূপসার শফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো ঘাট উদ্বোধন হয়নি। উদ্বোধন হওয়ার প্রস্ততি চলছে। কিন্তু এখনই প্লাস্টারে ফাটল ধরেছে। টাইলস উঠে যাচ্ছে। ঢালাইয়ে ইটের খোয়া দেখা যাচ্ছে। এ কাজটি দেখার কোন লোক নেই মনে হচ্ছে।
নতুন বাজার এলাকার হারুন অর রশীদ বলেন, যে কোন মানুষ এখানে আসলে বুঝতে পারবে যে এখানে কি পরিমাণ অনিয়ম হয়েছে। মনিটরিংতো হয়নি। ঠিকাদাররা যা ইচ্ছা তাই করেছে। এখন বার বার পট্টি দিচ্ছে। ঠিকাদাররা এখন কোন মতে কাজ বুঝে দিতে পারলে বাঁচে। তবে ইতেমধ্যে বাজেটের প্রায় সব টাকা ঠিকাদাররা পেয়ে গেছে। তাহলে আর ঠিকাদারের সমস্যা কোথায়।
আহসান আহমেদ রোড়ের বাসিন্দা সোহানা আক্তার বলেন, জায়গাটা সুন্দর। কিন্তু কাজগুলো ভাল হয়নি। এখনই ইট-পাটকেল বেরিয়ে গেছে। কাজগুলো দেখলে মনে হয় ১৫-২০ বছর আগে এ কাজ করেছে। পাশের ঘাটটি নাকি ফ্রোজেন ফুডস’র নিজস্ব ঘাট।
বিসিটিএইজেভি ঠিকাদারী ফার্মের কামরুজ্জামান সাচ্চু বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না, যা বলার পরে বলবো। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের এস্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, রূপসা ঘাট এলাকাটিতো সরকারি জায়গা। সেখানে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের ঘাট কিভাবে হয় আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে কেউ আমাদেরকে অভিযোগ করে নাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ