ঢাকা, মঙ্গলবার 25 April 2017, ১২ বৈশাখ ১৪২৩, ২৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রকল্পে বরাদ্দ টাকার বেশির ভাগই আত্মসাৎ

আবুল কালাম আজাদ, বেড়া (পাবনা) : পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নে ৫টি কর্মসৃজন প্রকল্পে বরাদ্দ ১৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার বেশির ভাগই আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পগুলোতে নামমাত্র কাজ করানো হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা শ্রমিক তালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তসহ কাজে ফাঁকি দিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করে। এ ঘটনার সাথে জড়িত চেয়ারম্যান, মেম্বর ও ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে চরঢালা গ্রামের আফাজ উদ্দিন দূর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, সরকার অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি’র আওতায় বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে ২১৯ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দ টাকা রামনারায়ণপুর বালাজ মেম্বরের বাড়ীর সামনের রাস্তা, মীরপুর জামালের বাড়ী হতে রামকেষ্টপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় রাস্তা, মালদা দিদারের বাড়ী হতে দূর্গাপুর নিলু সরদারের বাড়ী পর্যন্ত, গোয়ালনগর রওশন মোল্লার বাড়ী হতে সিঅ্যান্ডবি পাঁকা রাস্তা পর্যন্ত এবং সিঅ্যান্ডবি রাস্তা হতে ককিলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন- ঢালারচর ইউপি’র বালাজ, রফিক, লুৎফর, রাজ্জাক ও আজিজ মেম্বর। তারা প্রকল্পগুলোতে স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে লোক দেখানো নামমাত্র কাজ করিয়েছেন। রাস্তার পাশে গর্ত সৃষ্টি করে মাটি কাটা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধুয়ে আবার গর্তে চলে যাচ্ছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে প্রত্যেক শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবে টাকা পোষ্টিং করে দিয়েছিলেন। শ্রমিকরা চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করবেন এটাই নিয়ম। এ ক্ষেত্রে সে নিয়মের ব্যতিক্রম করা হয়েছে, মেম্বররা নিজেরাই শ্রমিকদের চেকে ডান-বাম হাতের টিপ স্বাক্ষর দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বেশির ভ্গাই আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিটি প্রকল্প কাজ তদারকির জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল। ট্যাগ অফিসার প্রকল্প কাজ তদারকি না করেই উৎকোচের বিনিময়ে চেয়ারম্যান-মেম্বরদের তৈরি করা ভুয়া মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, কর্মসৃজন প্রকল্প তালিকায় তাদের নাম আছে, কিন্তু ব্যাংকের পাস বই তাদের কাছে ছিল না, মেম্বররা রেখে দিয়েছিলো। সে জন্য তারা নিজেরা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। মেম্বররা ব্যাংক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ডান-বাম হতের টিপ স্বাক্ষর দিয়ে ব্যাংক থেকে তাদের বিলের টাকা উত্তোলন করেছে। তাদের মাত্র ৩৫ দিনের কাজের টাকা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢালারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলী সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রকল্পগুলো সরেজমিন তদন্ত এবং ব্যাংক চেকের টিপ স্বাক্ষর পরীক্ষা করলেই দূনীতির ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে তারা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ