ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পেঙ্গুইনদের অতীত বর্তমান

অনলাইন ডেস্ক : অ্যান্টার্কটিকার প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষা, বিশেষ করে পেঙ্গুইনদের আবাস রক্ষায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ ২৫ এপ্রিল বিশ্ব পেঙ্গুইন দিবসে তারা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন৷

পেঙ্গুইন-অনেকেরই পছন্দের প্রাণি, কেননা মাতালের মতো এদের অদ্ভুত চলাফেরা সবাইকে আকৃষ্ট করে৷ আর এ থেকেই গবেষকরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা করতে পারেন৷ ফিশারিজ বায়োলজিস্ট ক্রিস্টিয়ান রাইস বলেছেন, ‘‘পেঙ্গুইনরা হলো দক্ষিণ মহাসাগরের সেরা দূত, যাদের মাধ্যমে সেখানকার প্রাণিদের প্রয়োজন সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়৷’’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশ্বে পেঙ্গুইনের ১৮টি প্রজাতি রয়েছে৷ গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু করে অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত মোট পেঙ্গুইনের দুই তৃতীয়াংশের বাস এখানে৷ ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে গেছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ায় আবাসন সংকটে রয়েছে ‘কোট পড়া ভদ্রলোকেরা’৷ পানি উষ্ণ হওয়ায় তাদের খাওয়ার অভাব দেখা দিয়েছে৷

চাপের মুখে

পেঙ্গুইনদের প্রধান খাবার কিল মাছ৷ এই মাছদের ধরা , সমুদ্রে দূষণ, পেঙ্গুইনদের প্রজনন অঞ্চল ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে পেঙ্গুইনদের সংখ্যা কমার জন্য দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা৷ কেবল অ্যাডেলিয়ে এবং কিং -এই দুটি প্রজাতির পেঙ্গুইনই সংখ্যায় বাড়ছে৷

অবিলম্বে কাজ শুরু করা প্রয়োজন

পেঙ্গুইন তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় সমুদ্রে কাটায়৷ প্রজনন এবং ডিম ফোটানোর জন্য পানি ছেড়ে উপরে উঠে আসে৷ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন বিজ্ঞানী ক্যাস্যান্ড্রা ব্রুকস বলেছেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং পেঙ্গুইনের সংখ্যার মধ্যে জটিল রসায়নের জট ছাড়ানোর জন্য এখনই বিজ্ঞানীদের কাজ শুরু করা প্রয়োজন৷’

বাস্তু সংস্থান

অ্যান্টার্কটিকার ‘রশ সি’ উপসাগর বিশ্বের এমন একটি সমুদ্র বাস্তুসংস্থান যেটি এখনও পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছে৷ পেঙ্গুইনদের এই অভয়ারণ্যটিতে গবেষণার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা৷ এই দুই দেশ মিলিতভাবে রশ সি-তে অ্যান্টার্কটিকার সামুদ্রিক প্রাণিদের জন্য একটি সংরক্ষিত এলাকা বানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে৷ গত বছর এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে৷

সর্ববৃহৎ পেঙ্গুইন

১৮ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ প্রজাতির পেঙ্গুইনরা হলো ‘এমপেরর’ অর্থাৎ সম্রাট৷ এরা ১২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, ওজন হয় ৪০ কেজির মতো৷ তবে বছরের বিভিন্ন সময় ওজনের তারতম্য হয়৷ অ্যান্টার্কটিকায় যে জীবাশ্ম পাওয়া গেছে তা থেকে বোঝা যায়, এক সময় পেঙ্গুইনদের আকার কত বড় ছিল৷ ৩ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে তারা অ্যান্টার্কটিকায় রাজত্ব করত৷ তখন তাদের উচ্চতা ছিল ২ মিটার এবং ওজন কোনো কোনোটার ১১৫ কেজি পর্যন্ত ছিল৷

দূরের পথের যাত্রী

অ্যান্টার্কটিকায় বাস করা ৫ প্রজাতির পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি অ্যাডেলিয়ে৷ অন্যরা হলো এমপেরর, জেনটু, চিনস্ট্র্যাপ এবং ম্যাকারনি পেঙ্গুইন৷ অ্যাডেলিয়ারা দারুণ সাঁতারু, এদের অনেকের সাঁতারের রেকর্ড ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, অর্থাৎ একবারে যাওয়া আসায় ৩০০ কিলোমিটার সাঁতরাতে পারে তারা৷ সন্তানদের খাবার সংগ্রহের জন্য তারা এই দূর পথ পাড়ি দেয়৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ