ঢাকা, শুক্রবার 28 April 2017, ১৫ বৈশাখ ১৪২৩, ০১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা

আব্দুর রাজ্জাক রানা : (গত সংখ্যার পর) এদের কেউ প্রবীণ আবার কেউ একেবারে নবীন। এদের মধ্যে কবি ও সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্যদের হলোÑ কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, খান বাহাদুর, কাজী ইমাদাদুল হক, মৌলভী মেঘরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, শচীন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত, সফি উদ্দিন আহম্মেদ, আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, মান কুমারী বসু, কাজী আনোয়ারুল কাদির, সতীশ চন্দ্র মিত্র, খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ, আবদুল গফুর সিদ্দিকী, মো. ওয়াজেদ আলী, শেখ হবিবুর রহমান, মোহা. নূরুজ্জামান, এম. আনিসুজ্জামান, কাজী আকবর হোসেন, মুনশী খয়রাতুল্লাহ সরদার, ভূপেশ চন্দ্র আইচ, দ্বিগরাজ ভট্রাচার্য, সারদার কান্ত দাশগুপ্ত, হাসান আলী, অন্ধকবি ইসমাইল হোসেন, কাবিদুল ইসলাম,  ইবাদ উল্লাহ, ইমদাদুল হক, কবি নেসার উদ্দিন, সিকান্দার আবু জাফর, এ,এফ এম, আবদুল জলীল, রইচ উদ্দিন আহমেদ, আবুল হোসেন, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, ডা. আবুল কাশেম, হাসান আজিজুল হক, আল কামাল আবদুল ওহাব, আনোয়ারা বেগম, মোহাম্মদ রফিক, বেদুঈন সামাদ, সৈয়দ সোহরাব আলী, একেএম মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ সোহরাব আলী, মর্জিনা বেগম,  আব্দুল খালেক আজীজী, আনোয়ার আহমেদ, খোন্দকার আবুল হাসেম, অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবু তালিব, আবদুল হাকিম, বিকাশ রায়, ইজাজ হোসেন, সৈয়দ তোসারফ আলী, জ্যোতির্ময় মল্লিক, মকবুল হোসেন মিন্টু. এ কে হিরু, মো. আ. হালিম, মওলানা আকরাম খাঁ, নজরুল হক, শেখ মোতাহার হোসেন, খান আকতার হোসেন, শেখ আবদুল মজিদ, রাজিয়া মজিদ, আবদুল মবিন, ইলিয়াস হোসেন, মিলন মাহমুদ, ধুলবল আজাদ, মীর মোয়াজ্জেম হোসেন, হাফিজুর রহমান, মনু ইসলাম, এম. হেফজুর রহমান, রুহুল আমিন সিদ্দিকী, গোলাম মোস্তফা সিন্দাইনী, নুর মুহাম্মদ টেনা, স.ম. বাবর আলী, স.ম. ইউসুফ আলী, ফরিদা ইয়াসমিন রানু, ফাতিমা আলী, শেখ দিদারুল আলম, শামীমা সুলতানা শীলু, নাসরিন হায়দার, অধ্যাপিকা মাজেদা হক, অধ্যাপিকা মাজেদা আলী, অধ্যাপিকা মিনু মমতাজ, সায়মন স্বপন, কামরুজ্জামান ননী, মোজাম্মেল হক, সুরাইয়া নাসরিন, আলমগীর মহীউদ্দিন হাদী, মো. হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, ফারহানা ইসলাম জয়া, মাইমাউল ইসলাম ইম্মা, আবুল কাশেম, শিতিল ইবনা ইসলাম, সৈয়দ আবদুস সাদিক, সৈয়দ আব্দুল মতিন, সৈয়দ আলী হাকিম, সৈয়দ আলী হাফিজ, নূরুল ইসলাম সিদ্দিকী, কামাল আহমেদ, মিজানুর রহিম, এনায়েত আলী বিশ্বাস, অধ্যাপক অসিত বরণ ঘোষ, এমএ ওহাব, সৈয়দ মর্জিনা খানম, আন্নী পারভীন, শালী ব্যানার্জী, মানু মান্নান, মাহমুদুর রহমান, এ জি রানা, জেমস রতিন মুন্সি, রেবেকা সুলতানা, আহসান মোহাম্মদ আলী, জাহানারা আক্তারী, ফাইজা হোসেন অন্নেষা, ভুষন চন্দ্র তরুণ, সুশীল কুমার রায়, বিমল কৃষ্ণ রায়, নূর মোহাম্মদ, শংকর চন্দ্র শীল, শামীম আরা রীতা, হালিম নজরুল, নূরুন নাহার হীরা, কাজী গোলাম সারোয়ার, সাঈদ সাত্তার, জি এম লিটন, আব্দুল ওদুদ, একে আজাদ পান্না, মোহাম্মদ শরীফ মিয়া, মো. রেজাউল কারীম, মো. বেল্লাল আলী, মোহাম্মদ আবুল হাসান জারজিস, মাহিরা মজিদ রুবি, তাপস কুমার পাল, ফিরোজ আহমেদ, শিরিন আফরোজ রানী, লুৎফন নাহার, শামসুন নাহার, মহসীন মোর্শেদ, নাসিরুদ্দিন, ফারুক আনোয়ার, বিদ্যুৎ সরকার, মাইকেল সুশীল অধিকারী, খান আবদুল লতিফ, ফকির মোহন্ত, তরুণ কান্তি সরকার, শেখ সাখাওয়াৎ হোসেন, মো. হাকিম উদ্দীন খান বনচারী, ফরিদা আখতার পারভীন, সুরাইয়া ওয়াহেদ, সুরাইয়া হামিদ শিরীন, সাহানা পারভীন পরী, এ, হেনা, মোস্তফা কামাল, ইয়াহহিয়া আখতার, সুকান্ত সরকার, নঈম নওরোজ, মো. আবদুল মজিদ, এস,এম, আবদুল জব্বার, সরদার সুলতান মাহমুদ, নূর জাহান শেলী, নাজিম শাহরিয়ার, এহসানুল হক, রাধেশ্যাম দাস, রানা সিদ্দিক, জাফর তালুকদার, অধ্যাপিকা শাহনাজ বেগম, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, ভার্গব বন্দোপাধ্যায়, হোসনে আরা লিলি, রিনা নাসরিন, শফী আহমেদ, শেখ আখতার হোসেন, তরিকুল আলম, জোসনা ইয়াসমীন, চৌধুরী ফরিদ আহমেদ, শংকর চন্দ্র শীল, ফারুক নওয়াজ, কামাল মাহমুদ, ভোলানাথ, এডভোকেট অর্পণউজ্জামান, এডভোকেট নাসিরুজ্জামান, ডি কে ম-ল, হারুন অর রশীদ হাওলাদার, সৈয়দ জীবন, শাহ মুহম্মদ আবদুল হাই, বিষ্ণুপদ সিংহ, কামরুল ইসলাম, মুহাম্মদ নাযিম উদ্দিন, নাসির উদ্দিন আহমেদ, হাসিনা বানু শিরীন, জহিরুল আলম, অধ্যাপিকা সবুরুন্নেসা, শেখ আবু আসলাম বাবু, স্মৃতিখো কীর্তনিয়া, কাজী মনোয়ার হোসেন, মোল্যা ফজলুর রহমান, আকরাম হোসেন রাজা, তাহেরা খাতুন, ওমর ফারুক, বিউটি মারিয়াম, ফাতেমা মাকছুদা কুটু, রীনা গুলশান, বেগম আশরাফুন নেসা, কাজী নূরন্নবী, সুশান্ত সরকার, ফাতিমা আলী, এরফাউল্লাহ খান, মাহমুদ খান তাহের, অমূল্য ধন, কাজী সামছুল হুদা, কাজী ফারুক হোসেন, গাজী শামসুর রহমান, আঞ্জুমান আরা, আনোয়ারা বেগম, শেখ ইমান আলী, নঈমা জোহা, এস,এ জলীল, কাজী মাহবুবুর রহমান, গাজী ওয়ালিউর রহমান, একে মকবুল আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, কাজী আবদুল খালেক, মীর আমীর আলী, মাকিদ নূরী, হালদার মোজাম্মেল হক, জাহিদ হোসেন, অমল রাহা, শিরীন আখতার শিরীন, উর্মি রহমান, কাজী রোজী, বুলবুল আজাদ, রুমা ইসলাম, মো. হুমায়ুন কবির, মো. মুজিবর রহমান, শাপলা, আবু ঈসা, শামসুর হাসান, রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সুখেন রায়, কাজল ইসলাম, কাজল ঘোষ, হুমায়ুন কবীর ববি, ভারতী বসু, সবীর বসু, শেখ হীরা, তানভীর মোজাম্মেল, অচিন্তা কুমার ভৌমিক, শেখ আবু হাসান, অরুণ সাহা, আমিয় কান্তি পাল, আতিয়ার রহমান, আসিফ আলতাফ, মুক্তি মজুমদার, শাহনিমা রহমান, জ্যোতি চট্রপাধ্যায়, সাধন ঘোষ, খন্দকার আবুল হাশেম, ধীরেন রায়, ড. আব্দুল মজিদ,  গাজী লুৎফর রহমান, আবদুর রহমান, লিয়াকত আলী, লুৎফর জাহাঙ্গীর, লিয়াকত আলী, আনোয়ার রহমান, শামসুন নাহার মাহমুদ, জোবেদা আলী, অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম টিপু, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, ইয়াসিন আলী, রফিক নওশাদ, দবির উদ্দিন আহমেদ, সরদার মুজিবর রহমান, খান আবদুস সালাম, আ. খালেক, এ,এম আমজাদ হোসেন, শরীফ আমজাদ হোসেন, আনসার উদ্দিন আহমেদ, এ,কে,এম ফজুলুল হক, রিজিয়া বেগম, নুরুন্নাহার বেগম, মমতাজ বেগম, সৈয়দ সফিকুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, আতা সাঈদ রহমান, সৈয়দ কামাল, রবিউল হক, রোকেয়া হক, পুতুল হায়দার,  হোসনে আরা বুলবুল, এবি সিদ্দিক, কাজী রিয়াজুল হক, ফারুক হোসেন, মনোয়ার আলী, সালাউদ্দিন, শেখ সৈয়দ আলী, কাজী সুফিউল্লাহ ফারুকি, আবদুস সাত্তার, বুলবুল জামাল, আখতার আহসান, পারভীন সুলতানা, আনোয়ার হোসেন রাজু, শিবদাস রায়, বিমল কৃষ্ণ রায়, মালা মাহমুদ, মনির হোসেন, ওহাব আজাদ, শামীম ইমাম, রেজাউল করিম, বেদুঈন সামাদ, অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন জোয়ার্দ্দার,  সৈয়দা লিলি পারভীন, চিত্তরঞ্জন মন্ডল, এম,সরকার, নূর সৈয়দ হায়দার, আহম্মদ আলী শাহ, মুহম্মদ আবদুল হাই, তরিকুল আলম, জোসনা ইয়াসমীন, মাসুমা এদিব খানম, অশোক কুমাক দে, উজ্জল কুমার দে, মনোরঞ্জন মন্ডল, খান  আব্দুস সালাম, আবু ইসহাক, শাহাব উদ্দিন আহমেদ, মো. জাকির হোসেন, বুলবুল ইসলাম কাদের, একে আজাদ, আব্দুস সাত্তার, তুহিন চৌধুরী, হাসিবুজ্জামান বাবু, মাধব রঞ্জন, মো. সোলায়মান আলী, মো. সুজা উদ্দিন ছোটন, সুমন পালিত, হরে কৃষ্ণ ঘোষ ভোলা, নারায়ণ চন্দ্র রায়, সরদার মোহম্মদ আলী, আব্দুল্লাহ প্রমূখ। এছাড়া খুলনায় পল্লী অঞ্চলে লোক কবি রয়েছেন। অনেকেই কালের অতলে প্রতিভা নিয়ে হারিয়ে গেছে। আবার অনেকের খোঁজ এখনো মেলেনি। নিম্নে কয়েকজন ‘লোক’ কবির নাম দেয়া হলো-আবদুর রহমান খাঁ, আবদুল জব্বার, ভোলাই খাঁ, অশ্বিনী কুমার সরকার, রসিক সরকার, শওকত আলম, সুধীর সরকার, কানাইলাল সরকার, ইমান আলী, কুশলাদি, পাচু দফাদার, নওয়াজ আলী, আববর বয়াতী, তোরাপ আলী, গোলাম হোসেন, মোকাম ফকির, আবুল কাসেম প্রমুখ। তবে এই মুহূর্তে যাদের নাম স্মরণে আসেনি তাদের নাম দেয়া সম্ভব হয়নি। 

সঙ্গীতাঙ্গন: বৃটিশ আমল থেকেই খুলনায় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বেশ সুনাম রয়েছে। তার মধ্যে খুলনা নাট্য নিকেতনের সঙ্গীত বিভাগের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। কিন্ত ১৯৪৭ সালের পরে খুলনায় বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিষ্ঠানিকভাবে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে উত্তরণের কিছুটা প্রচেষ্টা চললেও ষাটের দশকের প্রথম দিকে এসে তার একটা নবজন্ম ঘটে। সেই সময়ে জন্মলাভ হয় সন্দীপণ। সন্দীপণের সঙ্গীত বিভাগের প্রধান ছিলেন সাধন সরকার। পরবর্তীতে আসে উত্তরণের কথা। উত্তরণ সঙ্গীত অঙ্গনে বেশ আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। এ দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মাহমুদ আলম খান। গুণী সঙ্গীত শিল্পী ও উত্তরণ সঙ্গীত স্কুলের শিক্ষক ছিলেন আবদুল মালেক চিশতী। এ সংগঠনের উল্লেখযোগ্য শিল্পী ছিলেন বুলবুল চৌধুরী, নাজনীন প্রমুখ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সংগঠন দু’টি তেমন কোন ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ১৯৭২ সালের দিকে খুলনার সঙ্গীতাঙ্গনে বেশ ভাটা পড়েছিল। 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের উভ্যুদয়ের আগে কয়েকজন শিল্পী মোটামুটিভাবে সঙ্গীতাঙ্গনের বাতিটুকু জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। তারা হলেন-কালিদাশ চট্টোপাধ্যায়, বিনয় রায়, শুকলাল চক্রবর্তী, পূর্ণচন্দ্র দালাল, ওস্তাদ সামসুদ্দিন, সাধন সরকার, নাসির হায়দার প্রমূখ। তাছাড়া দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার মজুমদার পরিবার ও সঙ্গীত প্রবাহকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। অগ্রণী শিল্পী সংঘ, সাহিত্য শিল্প সঙ্কেত, নয়া সাংস্কৃতিক সংসদ, সংস্কৃতি মজলিস, ষ্টুডেন্ট কালচারাল এসোসিয়েশন, সাহিত্য পরিষদসহ আরো কয়েকটি সংগঠনের ভূমিকা ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কম ছিল না। খুলনা ও ইউনাইটেড ক্লাবের সান্ধ্য সঙ্গীত আসরের বেশ সুনাম রয়েছে। ১৯৬২ সালে স্থাপিত হয় পল্লীমঙ্গল আর্ট সেন্টার। এর প্রতিষ্ঠাতা এস, আবদুল গফুর। এখানেও সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখার ক্লাশ নেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বেশ অবদান  রেখেছে।

বাংলাদেশের জন্মলাভের পর খুলনায় তৈরি হয় ‘স্কুল অব মিউজিক’। আজিজ খান ও আকরাম হোসেনসহ আরো কয়েকজনের প্রচেষ্টায় স্কুল অব মিউজিকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিজস্ব ভবনে বহু ছাত্রছাত্রীর সমন্বয়ে সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখার নিয়মিত ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এর পর আসে ‘খুলনা মিউজিক সোসাইটি। এর উদ্ধোধন করেন শৈলজারঞ্জন মজুমদার। সংগঠনটি মাঝে মাঝে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর করে থাকে।  (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ