ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের প্রক্রিয়া অব্যাহত

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের হয়রানি এবং বরখাস্ত করা অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একদিনের ব্যবধানে রাজশাহী, সিলেট ও হবিগঞ্জের মেয়রকে বরখাস্তের খবর দেশে বিদেশে দারুণ সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। কিন্তু তাতে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছেনা। এখনো তারা বিরোধী প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কিভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় তারই ফন্দিফিকির করে যাচ্ছে। সর্বশেষ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাকেও বরখাস্তের আয়োজন চলছে। সাক্কুর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে দুদক কর্তৃক দায়েরকৃত একটি মামলায় আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন এবং মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও উচ্চ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন বলে জানা গেছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি বিরোধী হবার কারণে যেভাবে গণবরখাস্ত, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মিথ্যাা মামলা দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে তাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়ছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও জনগণের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছেন না দেশের অনেক জনপ্রতিনিধি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বিরোধীদলের হলেই রাজনৈতিক মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রেফতার করে কারারুদ্ধও করা হচ্ছে অনেককে। এতে এক দিকে যেমন সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীরা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্য দিকে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় সরকারের উদ্দেশ্য। 

সরকারের এমন আচরণের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধী মতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরকার সহ্যই করছেনা। তাদের নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য একটাই, যেন ক্ষমতাকে আঁকড়ে থাকা যায়। সাক্কুর বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দায়েরকৃত এই মামলায় এতদিন পরে অভিযোগ পত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী এবং মালামাল ক্রোকের নির্দেশে আমরা ক্ষুদ্ধ হয়েছি। সাক্কুর বিরুদ্ধে এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবারো প্রমাণ হলো-এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা। এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট জনাব সাক্কুকে জামিন প্রদান করেছেন। তারপরেও কিভাবে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হলো তা বোধগম্য নয়। সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শুধুমাত্র ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ার কারণে মিথ্যা মামলায় বরখাস্ত করছে এবং নতুন করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্যই বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের যখন তখন এমনকি আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেও বরখাস্ত করা হচ্ছে। তাদের মতে, সরকারের এমন নীতির কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, সিলেট ও হবিগঞ্জের মেয়রকে দ্বিতীয় দফায় বরখাস্ত ও সর্বশেষ কুমিল্লার মেয়রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পর সরকারের মনোভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, সরকার বড় ধরনের ভুল করছে। এটা এখন বন্ধ করা উচিত বলে তারা মনে করছেন।

রাজনৈতিক ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সরকার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধির প্রতিপক্ষ এ কাজটি করছে। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা বা কাল্পনিক অভিযোগ আনা হচ্ছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে তড়িঘড়ি চার্জশিট দেয়া হচ্ছে। এভাবে আইনের ফাঁকগুলো কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিচ্ছে নির্বাচিত মেয়র বা চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষ। আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করলেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে সাময়িকভাব বরখাস্ত করছে। এতে দুর্বল হয়ে পড়ছে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ সরকার এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার কথা বলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। তাদের মতে, এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ক্ষমতাচ্যুত করা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ, গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা বলেন, একজন যে কোনো দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে সেই ব্যক্তি আর দলের থাকে না। সে জনগণের হয়ে যায়। কিন্তু আইন নিজেদের মতো ব্যবহার করে সেই প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। তারা বলেন ভোটাররা ৫ বছরের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন। কিন্তু সেই প্রতিনিধির কোনো অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণের আগেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। অনেক সময় দেখা গেছে চূড়ান্ত বিচারে তাকে নির্দোষ হিসেবে খালাস দেয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখা যায় ৫ বছরের মেয়াদ শেষ। সে ক্ষেত্রে তাকে ওই ৫ বছরের মেয়াদ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও পদ দখল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

সূত্র মতে, সরকার একের পর এক স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করছে। গত সাড়ে তিন বছরে এ ধরনের পৌনে চারশ’ প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়। প্রতিনিয়ত বিরোধী মতের মেয়রসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের বরখাস্ত এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে। শতাধিক প্রতিনিধি বরখাস্ত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা শত শত মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরছেন। এদের প্রায় সবাই সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। রাজনৈতিকভাবে এদের ঘায়েল করার জন্যই এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় সরকার ও আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার সংশ্লিষ্ট আইনটি নিজেদের স্বার্থে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ব্যবহার করছে। তারা এটিকে কালো আইন হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তাদের মতে, চূড়ান্ত সাজার আগেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে এ আইনের সুযোগ নিয়ে বরখাস্ত করা হচ্ছে। আইনের অজুহাত দেয়া হলেও সরকারের অগোচরে কিছু হচ্ছে না বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করার মতো কাজ করে সরকার ভুল করছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর এ ভুলের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজশাহী, সিলেট ও হবিগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, আইন অনুযায়ীই বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। রোববার তিনি বলেন, বেআইনিভাবে কাউকে বরখাস্ত করা হয়নি। আইন মেনেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়নি। সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আইনের ধারাগুলো সরকার খড়গ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি হাতে থাকলে যে কোনো জনপ্রতিনিধি সব সময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন। তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য। এ ধরনের আইনের সুযোগে রাজনৈতিক সরকারগুলোও সামরিক শাসকদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ করছে। এভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে আইনের অজুহাতে এসব করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটকে ভ-ুল করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সরকার এগুলো থেকে বিরত না হলে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে এবং এর পরিণতি ভালো হবে না। বিষয়গুলো বুমেরাং হয়ে এক সময় সরকারের দিকেই ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে এগুলো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এদের অনেককে আগে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আইনি লড়াই করে তারা কেবল অফিসে বসেছিলেন। কিন্তু তাদেরকে আবার বরখাস্ত করা হলো। রাজনৈতিক কারণে এভাবে বরখাস্ত করা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সঙ্কেত। এটা সরকারের জন্যও শুভ ফল বয়ে আনবে না। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চারজন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ৩৫ পৌর মেয়র, ৫৬ কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান ৪৯, ভাইস চেয়ারম্যান ৬৬, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ৯১ ও মেম্বার ৭৪ সহ ৩৭৫ জন বরখাস্ত হয়েছেন গত সাড়ে ৩ বছরে। এদের অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভোট কেন্দ্রে আগুন, গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, পুলিশের ওপর হামলাসহ রাজনৈতিক সহিংসতার মামলার আসামী তারা। এরা পদে বসতে না পারায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন ওই এলাকার জনগণ। ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় সরকারের উদ্দেশ্য। বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা), স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধি যে কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হলে (আদালত কর্তৃক চার্জশিট গৃহীত হলে) কিংবা ওই প্রতিনিধি শারীরিকভাবে সক্ষমতা হারালে কিংবা পরিষদের সভায় পরপর তিনবার অনুপস্থিত থাকলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, সারা দেশেই আমাদের সমর্থিত সিটি মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা বরখাস্ত হচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় অভিযোগপত্র দিয়ে এরই মধ্যে সাড়ে তিন শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। আরও কয়েকশ’ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো অপরাধে মামলা হলে তার শাস্তি হতেই পারে। কিন্তু বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করতে ও রাজনৈতিক ময়দান থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা মামলা দেয়া ঠিক নয়। রাজনীতির এ চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এটি গণতন্ত্রচর্চার জন্য সুখকর নয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চাইলে বিদ্যমান আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার সুবিধা-অসুবিধাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধি যদি অপরাধ করেন তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় কেউ চার্জশিটভুক্ত আসামী হলে বরখাস্ত হওয়া মানে ওই এলাকার মানুষকে শাস্তি দেয়া। এভাবে গণবরখাস্তের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়ছে। স্থানীয় সরকারের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নষ্ট হচ্ছে।

সরকারি আদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এইচএম এরশাদ। একাধিক মেয়রকে বরখাস্ত করার ঘটনার মধ্যে মঙ্গলবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এরশাদ বলেন, এখন দেখি নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। বিনা কারণে মামলা হয়। এ কোন দেশে বসবাস করছি? চেয়ারম্যান জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাকে বরখাস্ত করা যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ