ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাওরের ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল ॥ সহায়-সম্বল হারিয়েছে সাড়ে ৮ লাখ পরিবার

 

স্টাফ রিপোর্টার : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বন্যায় দেশের হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় মোট দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও সহায়-সম্বল হারিয়ে বিপন্ন হয়ে পড়েছে আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার। 

গতকাল শুক্রবার হাওর পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির এক বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির হালনাগাদ এ তথ্য তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মহসীন হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। 

এদিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হাওরে প্রাকৃতিক কারণে দুর্যোগ হলেও নিজের নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, পানির চাপে বাঁধ ভেঙে যায়। তবে এখানে যদি মন্ত্রণালয়ের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে আমি পদত্যাগ করতেও প্রস্তুত আছি। 

গতমাসের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তালিয়ে যায়। বোরো ধান কাটার এই মওসুমে হঠাৎ এই বন্যায় লাখ লাখ কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এরপর পানি বিষাক্ত হলে মাছ মরা শুরু হয় পর মরতে থাকে হাঁস।

পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দল ওই এলাকা ঘুরে পানি পরীক্ষা করে দাবি করে, প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের গবেষক দলও অনুরূপ দাবি করে। তবে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সীমান্তের মেঘালয়ে ওপেনপিট ইউরেনিয়াম খনি উত্তোলনে ভারতের পরিবেশবাদীরা পর্যন্ত প্রতিবাদ-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও সুনামগঞ্জসহ হাওরের পানিতে ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয়তার প্রমাণ না পাওয়ার বাংলাদেশী গবেষকদের দাবি ভুক্তভোগীসহ সর্বসাধারণ বিশ্বাস করতে পারছে না। 

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় এক লাখ ৭২ হাজার ৬১৭ পরিবার, সিলেটে ২ লাখ ১২ হাজার ৫৭০, নেত্রকোণায় এক লাখ ৬৭ হাজার ১৮০, কিশোরগঞ্জে এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৭, হবিগঞ্জে ৭৪ হাজার ৪৪০ ও মৌলভীবাজার জেলায় ৭৪ হাজার ৫৯৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের দুই হাজার ৮৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৪৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এই ছয় জেলায় মোট ২১৩ দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোণা জেলায় সর্বাধিক ১১৮ দশমিক ৮২ মে. টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে তিন হাজার ৯০২টি হাঁস ও চারটি মহিষ মারা গেছে বলে সরকারিভাবে তথ্য দেয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত পরিবার প্রতি ৩০ কেজি চাল ৫০০ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামীকাল রোববার সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হাওর ডুবিতে মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি থাকলে পদত্যাগে প্রস্তুত পানিসম্পদ মন্ত্রী : হাওরে প্রাকৃতিক কারণে দুর্যোগ হলেও নিজের নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রথমে বাঁধ টপকিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। পরে বাঁধ ভেঙে যায়। তবে এখানে যদি মন্ত্রণালয়ের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে আমি পদত্যাগ করতেও প্রস্তুত আছি। গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

আগাম এবং অতি বর্ষণ, তাছাড়া সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে দেশের পুরো হাওর এলাকা। বাঁধ ভেঙ্গে বা উপচে একের পর এক তলিয়ে গেছে হাওর এলাকার আধাপাকা ধানের ক্ষেত।

কেন আগাম ও অতি বন্যা হচ্ছে সেটার কারণ বের করে ভবিষ্যতে কিভাবে আরো ভালোভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শিগগিরই মতবিনিময় করবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ