ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুম্বাই থেকে আবুধাবি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ওজনের নারীকে

 

সংগ্রাম ডেস্ক : আগামী সপ্তাহে অধিকতর চিকিৎসার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ওজনের মিসরের নারী ইমান আহমেদকে আবুধাবিতে আনা হচ্ছে। আবুধাবির ভিপিএস হেলথকেয়ার’স বুরজিল হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে বলে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন। আমাদের সময়।

ভিপিএস হেলথকেয়ার’স বুরজিল হাসপাতালের মেডিসিন ইভাকেশন বিভাগের পরিচালক সনোত মিয়ের মুম্বাই থেকে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ওজনের মিসরের নারীকে আবুধাবি আনা একটি মানবিক মিশন।

আমরা এ মিশন বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। আমরা যত ধরনের সমর্থন দেয়ার প্রয়োজন সবই দেবো। রোগির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবই করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ভিপিএস হেলথকেয়ার’স বুরজিল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা: সামসির ভায়ালিল মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালে পৌঁছান। যেখানে ইমানকে চিকিৎসা করা হচ্ছে। ভারতীয় চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার চিকিৎসা সম্পর্কে খবর নিচ্ছেন। পরে তারা কর্ম পরিকল্পনা শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ইমানকে মুম্বাই থেকে আবুধাবি নিয়ে যাওয়া হবে। গত ৭ মার্চ থেকে মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি বিভাগে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে।

বিশ্বের স্থূলতম নারী ভারতে অস্ত্রোপচার করে তার প্রায় অর্ধেক ওজন কমে গেছে। তবে তার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে দাবি করেছেন ইমানের ছোট বোন। আর তাই এবার তাকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুধাবি হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমানের পরিবার।

ইমান আহমেদের ওজন ছিল ৫০০ কেজির বেশি। চিকিৎসক মুফাজ্জল লাকড়াওয়ালা ইমানের অস্ত্রোপচারের কথা বিশদে জানিয়ে একটি অনলাইন প্রচার চালিয়েছিলেন। মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালে শুরু হয় ইমানের অস্ত্রোপচার। দু’মাসে প্রায় অর্ধেক ওজন কমে ইমানের।

এরপরই মারাত্মক অভিযোগ আনেন ইমানের বোন শাইমা সেলিম। জানান, ভারতীয় চিকিৎসকরা ইমানকে সঠিক পথে চিকিৎসা করছেন না। ইমানের সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারেও মিথ্যাচার করছেন ভারতীয় চিকিৎসকরা। এরপরই তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন চিকিৎসক মুফাজ্জল লাকড়াওয়ালার দিকে।

শাইমার দাবি, ইমান একটুও সুস্থ হননি। গত দেড় মাস ধরেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন তিনি। আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ করেন শাইমা। তার বক্তব্য, ভুল ওষুধ দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বন্ধ করে রাখা হয়েছে ইমানের।

অভিযোগের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে শাইমা বলেন, ইমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার চোখ-মুখ নীল হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়বার স্ট্রোক হয়েছে তার। এমনকি, মুম্বাইয়ে আসার পর বেশ কয়েকবার মৃগীর আক্রমণে খিঁচুনিও দেখা দিয়েছিল তার। থ্রম্বোসিসের আক্রমণের কথাও বলেন তিনি। ফিডিং টিউব ব্যবহার করায় ইমান নিশ্বাস নিতে পারছেন না।

যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাকড়াওয়ালা। তিনি জানান, ইমানের স্নায়বিক পরিস্থিতি দেখতে সিটি স্ক্যানও করা হয়েছে তার। ইমানকে মিসরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন না শাইমা। তাই তিনি মিথ্যা অভিযোগ আনছেন। কারণ চিকিৎসা শুরুর ১৫ দিন পরেই হাসপাতাল থেকেই বলা হয়েছিল ইমানকে মিসরে নিয়ে যেতে পারেন শাইমা। তবে আর্থিক কারণেই তা চান না। ইমানের অস্ত্রোপচারের পরই দ্রুত সুস্থ হতে থাকেন তিনি। ওজন কমতে থাকে।

তার দাবি, বর্তমানে ইমানের ওজন ১৭১ কিলোগ্রাম। তার কিডনি, হার্ট (হৃদযন্ত্র) ও ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সঠিক ফিজিওথেরাপির সাহায্য নিলে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে ইমান নিজে চলাফেরা করতেও সক্ষম হবেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি একটি কার্গো প্লেনে এসেছেন। এখন ওজন কমানোর পর তিনি হুইলচেয়ারে বসেই যাতায়াত করতে পারবেন। তার আরও সুস্থ হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ফিজিওথেরাপি ও নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হবে।

এরই জেরে সাইফি হাসপাতালের ১৩ সদস্য চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জনই পদত্যাগ করে ইমানের চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে চলছে দুই পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। তার সূত্র ধরেই এবার তাকে আবুধাবি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমানের পরিবার। গালফ নিউজ ও বিবিসি অবলম্বনে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ