ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নরসিংদীর বিষ্ণুপ্রিয়া ডায়াগনোস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদী শহরের ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপ্রিয়া মেডিকেল হল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করা, একই ফ্রিজে রি-এজেন্ট এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি রাখার অপরাধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদী কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি মোঃ শাহ আলম মিয়ার নেতৃত্বে আইন সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মো: শাহ আলম মিয়া জানান, শহরের বিষ্ণুপ্রিয়া ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সটি মেয়াদ উত্তীর্ণ। এ লাইসেন্স ব্যবহার করেই মালিক জিতেন্দ্র চন্দ্র সাহা তার ডায়াগনোস্টিক সেন্টারটি চালিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এছাড়া এ ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যে সকল রি-এজেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল এগুলো ব্যবহারের মেয়াদ ছিল না।

মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারের কারণে সকল স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলই ভুল আসবে। যে কারণে রোগীদের চিকিৎসাতেও ভুল হবে। আর এ কারণে রোগীর মৃত্যু ঝুকি থেকে যায়। একই ফ্রিজে রি-এজেন্টের সংগে অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য রাখা হয়েছে। যাহা বিপদজনক। নিয়ম অনুযায়ী যে ফ্রিজে রি-এজেন্ট রাখা হবে সে ফ্রিজ অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এসকল অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এ ডায়াগনোস্টিক সেন্টারকে নগদ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়। 

এছাড়া এ ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে কর্তব্যরত ভূয়া এক্সরে টেকনেশিয়ান এবং ল্যাব এসিস্টেন্ড দুজনের কাগজপত্র ও বায়োডাটা পরীক্ষা করে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে মুচলেকা নিয়ে এরকম কোন টেকনিকেল চাকুরীতে পুনরায় যোগদান না করার শর্তে সর্তক করে ছেড়ে দেয়া হয়। 

এ ব্যাপারে বিএমএ নরসিংদী জেলার সাবেক সভাপতি ডা. এটিএম গোলাম দাস্তগীর-এর সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে রি-এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই মালিক ও টেকনিশিয়ানদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যেকটি ফলাফলই ভুল আসবে। এ কারণে ভাল অভিজ্ঞ ডাক্তাররাও ভুল চিকিৎসা দিয়ে ফেলবেন। যে কারণে রোগী মৃত্যুর  মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। 

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. সুলতানা রাজিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, কোন ডায়াগনোস্টিক সেন্টারই মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার কিংবা ভুয়া টেকনিশিয়ান দিয়ে ব্যবসা চালানোর সুযোগ নেই। কারণ আমার কার্যালয়ের লোকজন নিয়মিতই এগুলোর উপর নজর রাখছে। তবে কোন অসাধু ব্যবসায়ী যদি সস্তা পেয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট কিনে এনে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যবহার করে তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ