ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাইবান্ধায় কিংবদন্তির মীরের বাগানে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের কিংবদন্তি খ্যাত আমবাগানের মীরের বাগানে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বসেছে ইচ্ছা যা মানত পূরণের মেলা। প্রতি বছর বৈশাখ মাস জুড়েই চলে ঐতিহ্যবাহি এই মেলা।

মীরের বাগানের ঐতিহাসিক পীর শাহ সুলতান গাজী, মীর মোশারফ হোসেন ও ইবনে শরফুদ্দিন শাহ এর মাজার আর মসজিদের সম্মুখে এবং দু’পাশের ৩.৯৫ একরের খোলা প্রান্তর জুড়ে বসেছে এ মেলা। নির্দিষ্ট এলাকায় চারু, কারু পণ্যসহ মেলার বেচাকেনার নানা পসড়া সাজানো ছোট ছোট দোকান। এর সাথে রয়েছে নানা মিষ্টি, মুড়ি, জিলাপির দোকান। আর মাজার সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী চুলা বানিয়ে চলে বিশেষ খিচুরী রান্না। মানত বা ইচ্ছা পূরণের আশায় দূরদূরান্তর থেকে প্রতিদিন শত শত ভক্ত নারী-পুরুষ এখানে এসে মাজার জিয়ারত করে এবং খিচুরী রান্না করে। রান্না করা খিচুরি মাজার কর্তৃপক্ষ এবং দরিদ্রদের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে নিজেরা খায় এবং তবারুহ হিসেবে বাড়িতেও নিয়ে যায়। 

এখানে খিচুরী রান্নার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মুরগীর মাংসের খিচুরী রান্না করে। ভক্তরা বাড়ি থেকে চাল-ডাল, মুরগী, জ্বালানি কাঠ, কাঁচা মরিচ আর পিঁয়াজ কেটে নিয়ে আসে মাজারে। মাজারের নির্দিষ্ট স্থানে মুরগী জবাই করে কেটে-কুটে মাজারের সামনে চুলায় রান্না করা হয় খিচুরী। ভক্তরা জানান, দুরারোগ্য অসুখ, নিঃসন্তান কামনাসহ নানা সমস্যা সংকট নিরসনে মানত পূরণের লক্ষ্য নিয়ে তারা এখানে আসেন। 

মাজারের মোতওয়াল¬ী কারী মোঃ আলী আশরাফী জানান, দারিয়াপুরের মীরের বাগানের সাথে ইতিহাস খ্যাত মীর জুমলার সম্পর্ক আছে বলে কিংবদন্তী রয়েছে। অতীতে বিশাল এক আমবাগানের জন্য এই মীরের বাগান খ্যাত ছিল। ১৩০৭ সালে (তথ্যসূত্র: মসজিদ গাত্রের শিলালিপি) কলকাতার পীর সৈয়দ ওয়াজেদ আলী বাহারবন্দ পরগণার ঘন জঙ্গল থেকে পীর ইবনে শরফুদ্দিনের স্মৃতিবাহী কবর ও মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উৎঘাটন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেন।

ময়মনসিংহের ক্বারী করিম বক্সের উত্তরাধিকারীগণ বংশ পরস্পরায় মোতওয়াল¬ী হিসেবে এই ওয়াক্ফ সম্পত্তিটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন।

জনশ্রুতি আছে যে, সংস্কারকালে মসজিদের ভেতরে একটি কালো পাথর পাওয়া গিয়েছিল এতে ‘১০১১ই সাই’ উৎকীর্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালের কোন এক সময় তা হারিয়ে যায়। বহু অনুসন্ধান করেও এই কালো পাথরটির আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। মীরের বাগানের পীর সাহেবের মাজার জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। অসুখ-বিসুখ কিংবা যে কোন ধরনের ‘বালামুসিবত’ দূর করতে বহুদূর থেকে মানুষ এখানে এসে ‘মানত’ করে থাকেন। বিশেষত সন্তানধারণে অক্ষম মহিলারা এখানে মানত করলে সন্তান সম্ভাবনা হবে বলে ধারণা করা হয়। প্রতি বছর বৈশাখ মাসে এখানে বিরাট আকারের মেলা বসে। স্থাপত্যকলার বিচারে মীরের বাগানের মসজিদের নির্মাণ শৈলীতে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মমতের শিল্পরীতির বিন্যাস লক্ষ্যণীয়। সঠিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে মীরের বাগান সামগ্রিকভাবে বাংলার ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বের তথ্যের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। 

উগ্রবাদ প্রতিকার শীর্ষক সভা

পলাশবাড়ীতে উপজেলার যুব সমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উগ্রবাদকরণ এবং সহিংস উগ্রবাদ প্রতিকার শীর্ষক প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিউট (বিইআই)-এর আয়োজনে এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন্ট অ্যাফেয়ার্স ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্ট, কানাডার অর্থায়নে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিউটের মহা-পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ন কবীবের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ তোফাজ্জল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান কোহিনুর আকতার বানু শিফন, জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক এমপি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান, সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, জাসদ সভাপতি নুরুজ্জামান প্রধান, আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুলার রহমান চৌধুরী, মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান সরকার রোজ, প্রেসক্লাব সভাপতি রবিউল ইসলাম পাতা ও অপরাংশ প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান খন্দকার। প্রকল্প অবহিতকরণ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন বিআইয়ের উপ-পরিচালক (গবেষণা) আশীষ বণিক। এসময় উপজেলা প্রশাসনের অপরাপর দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণসহ সুধিমহল উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ