ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ত্রাণ প্রদানেও বাধা!

সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকা আকস্মিক ঢলের পানিতে ডুবে গেছে। হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে পানিতে। কৃষকরা কাঁচাধান কেটে নিচ্ছেন যেটুকু পারা যায়। কিন্তু কী হবে কাঁচাধান কেটে? মরে গেছে হাওরের মাছ। গবাদি পশুও রক্ষা করা যাচ্ছে না। পানির মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে গরু-ছাগল। আকস্মিক বৃষ্টিপাতে এমনিতেই বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তার ওপর ওপারের ঢলের পানিতে বৃহত্তর সিলেটের হাওর অঞ্চল যেন অথৈ সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মানুষের ঘরে খাবার নেই। থাকবার জায়গা নেই। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা সব বন্ধ। কয়েক কেজি চাল আর ৫০০ করে টাকা দেয়া হচ্ছে ত্রাণ হিসেবে দুর্গতদের। এতে তাদের ক’দিন যায়? তাও সবাই পাচ্ছেন না। প্রতি উপজেলায় ৩ জন করে ডিলারের মাধ্যমে ১০ টাকা মূল্যের চাল দেয়া হচ্ছে। তাও নেয়া হচ্ছে ১০ টাকার স্থলে ১৫ টাকা করে। ১০-১৫ মাইল দূর থেকে চাল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন দুর্গতরা। নৌকা ছাড়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবার উপায় নেই। অনেকের কাছে নৌকার ভাড়া দেবার অর্থও নেই। অনেকের ঘরে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবার-পরিজন শয্যাশায়ী। চিকিৎসার নেই কোনও ব্যবস্থা। তাই দুর্গতরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। সাংবাদিক আর টিভির ক্যামেরা দেখলে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন শ্রমজীবী অসহায় মানুষগুলো।
হাওর অঞ্চলের বাঁধ দেখভালের জন্য প্রকল্প অফিসারসহ দায়িত্বশীল নিয়োগ দেয়া আছে। বাঁধ রক্ষার জন্য সরকারি বরাদ্দও আছে। কিন্তু অনিয়ম আর দুর্নীতির জন্য কিছুই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়নি। বাঁধ মেরামত করা হয় না বছরের পর বছর। অনেকে নৌকা চলাচলের জন্য বাঁধ কেটে দেন। এতেও বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। অল্প পানির তোড়েই তা সহজে ভেঙে যায় এবং হাওরেও পানি ঢুকে ফসল নষ্ট করে ফেলে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে ত্রাণও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণের অর্থ লুটপাট হচ্ছে। এসব যারা দেখ-ভাল করবেন তারা নাকি প্রমোদভ্রমণে আছেন। হাওর অঞ্চলে যখন নায়েগ্রা জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে তখন তারা নাকি সত্যি সত্যি নায়েগ্রা ওয়াটারফলে গিয়ে পিকনিক করছেন। অর্থাৎ রোম যখন পুড়ছে তখন স¤্রাট নিরোরা প্রমোদানন্দের বাঁশরি বাজাচ্ছেন।
শুধু সিলেটের হাওর অঞ্চলেই অকাল বন্যার করালগ্রাসে সব তছনছ হয়নি। নওগাঁ, নাটোর অঞ্চলের চলনবিল এলাকার বোরো ফসলও ডুবে গেছে কাঁচা অবস্থাতেই। দক্ষিণাঞ্চলেও একই অবস্থা বোরোর। এদিকে চালের বাজারে লেগেছে আগুন। দৈনিক সংগ্রামের রিপোর্ট অনুসারে বস্তায় বেড়েছে ১৭০ টাকা করে। পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা কি ভাবছেন এ নিয়ে? অভিযোগ পাওয়া গেছে, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও এনজিওকে দুর্গতদের ত্রাণ প্রদানেও বাধা প্রদান করছেন। বিএনপির তরফ থেকে এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনা সত্যি হলে এর চেয়ে অমানবিক আর কি হতে পারে? তারা দুর্গতদের ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি করবেন, অন্যদের সাহায্যের হাতও বাড়াতে দেবেন না, তা কী করে হয়? সিলেটের হাওর অঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যাকবলিত এলাকাতেও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হোক। মানুষের দুর্দশা নিয়ে রাজনীতি করবার পরিণতি কখনই শুভ হয় না একথা সবার মনে রাখা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ