ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে সোনার ফসল পানির নিচে ॥ উৎকন্ঠায় কৃষক

মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী, সিংড়া(নাটোর): কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার চলনবিলে বর্ষার পানি ঢুকছে। অতি বর্ষন এবং আত্রাই নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় সিংড়া উপজেলার আনন্দনগর, বেড়াবাড়ি, কালিনগর, সারদানগর, হুলহুলিয়া, চৌগ্রাম, পাটকোল, দমদমাসহ বিভিন্ন বিলে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একদিকে প্রতিকুল আবহাওয়া অপরদিকে অকাল বন্যায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ধান,ভুট্টাসহ নানা ফসল পানির নিচে। অন্যদিকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকের পাকা ধান কাটতে পারছে না। সব মিলে চলনবিলে কৃষকের মনে শান্তি নাই।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান রুবেল কৃষকদের নিয়ে বাঁধ দিয়েছেন।
সরকারী হিসেবে , নিচু এলাকার ৬০ হেক্টর জমি পানির নিচে। পানিবন্দি আরো ৩০০ হেক্টর জমি। আশংকায় রয়েছে আরো প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি। কৃষি জমি রক্ষায় পাটকোল, নিংগইন ও তেলিগ্রামে বাঁধ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয়ভাবে উত্তর দমদমাসহ কয়েকটি এলাকায় বন্যায় ফসলী জমি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ,দেশের প্রায় ৮০%মানুষ কৃষির উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে,কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে ধান কেটে বাড়ীতে তুলতে পারছে না,জমিতে পানি জমে গেছে।
 শ্রমিক সংকট থাকায় পাকা ধান বাড়িতে তুলতে পারছেন না কৃষক। পানি বেড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চলনবিলের কৃষকদের।
এলাকাবাসী জানান, টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সিংড়া উপজেলার আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বেড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে। এতে জোড় মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল ব্রিজের নিচ দিয়ে চলনবিলের ফসলি জমিতে প্রতিনিয়ত পানি ঢুকছে। চলনবিলের মাঠের কয়েক হাজার বোরো ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এখন তাদের চোখে ঘুম নেই।
এদিকে সোমবার থেকে জোড়মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, আত্রাই নদীর  পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলে প্রবেশ করছে। এতে প্রায় ৬০ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে।  তবে বাঁধ দেয়ায় এখন আর ঢুকতে পারছে না। তবে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে চলনবিলে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, টানা বর্ষণের নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চলনবিল এলাকায় পানি ঢুকছিল। ৩টি স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে  এলাকার কৃষকরা বাধ নির্মাণ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ