ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের অসংখ্য পরিত্যক্ত বাড়ি প্রভাবশালীদের দখলে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের অসংখ্য পরিত্যক্ত বাড়ি এখনও প্রভাশালীদের দখলে রয়েছে।
হাউজিং এস্টেটের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর খালিশপুর হাউজিং এলাকায় বিহারীদের অধিকহারে আগমন ঘটে। ১৯৬৫ সালের পর এই এলাকায় ব্যাপকভাবে বিহারীদের বাড়িঘর তৈরী করার কাজ  শুরু হয় এবং স্থায়ীভাবে তারা বসবাস করতে শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এরপর বিহারীরা খালিশপুর এলাকা ছাড়তে শুরু করে। যাবার সময় অনেকেই তাদের বাড়িঘর বাঙালী প্রতিবেশী ও বন্ধুদেরকে দানপত্রের মাধ্যমে হস্তান্তর করে দিয়ে যায়। আবার কেউ কেউ বাড়িঘর ফেলে রেখে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
দেশ স্বাধীনের পর যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে উত্তপ্ত ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল তখন জোর যার বাড়ি তার এমন চিন্তাভাবনায় একটি প্রভাবশালী মহল বিহারীদের বাড়িঘর দখল করতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে এই দখল প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, ১৯৮৬ সালে খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের পরিত্যক্ত বাড়ির একটি তালিকা তৈরী করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী খালিশপুরে বিহারীদের ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ছিল  প্রায় আড়াই হাজার। এর মধ্যে অনেক বাড়ি বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারি স্বার্থে বিক্রি করে দেয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নয়শত ৮৮টি পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে অধিকাংশ বাড়ি  প্রভাবশালীরা কৌশলে এখনো দখল করে রেখেছে। ভুয়া দানপত্র ও ভুয়া বিনিময়পত্রের মাধ্যমে দখল করে ঐ মহলটি  বাড়ির উপর তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে কয়টি বাড়ি আছে তারও একটি  হিসাব হওয়া দরকার বলে অনেকে মনে করছেন।
এদিকে এখানে বহু বাড়ি আছে যা একের পর এক হাত বদল হয়ে চলেছে। আবার অনেক বাড়ীর কোন সঠিক কাগজপত্র না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। এ সকল বাড়ীতে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও তা’ দেখার কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের বাড়ীগুলিতে মিলের শ্রমিকরা বসবাস করতো।
কয়েকটি মিল বন্ধ হওয়ার কারণে বাড়ীগুলি ফাঁকা হয়ে গেছে। সম্প্রতি খালিশপুর হাউজিং এস্টেট এলাকার কয়েকটি বাড়ী দিন দিন মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাজনৈতিক নেতা জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ