ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুই যুগেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি ভোমরা স্থলবন্দর

খুলনা অফিস: প্রায় দুই যুগেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি ভোমরা স্থল বন্দরটি। এর পিছনে দশটি কারণ উদঘাটন করা হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এ বন্দরটি অন্য বন্দরের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। সরকার একটু সুদৃষ্টি দিলে এ বন্দর মডেল বন্দর হিসেবে পরিগণিত হতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের সমস্যা ১০টি হলো অন্যান্য শুল্ক স্টেশনের ন্যায় নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সকল পণ্য আমদানির অনুমতি না পাওয়া, ভোমরা শুল্ক স্টেশনে যানজট নিরসনের জন্য সরকারি ট্রাক টার্মিনাল না থাকা, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভারত থেকে আসা পণ্যের নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল থাকা, সোনালী ব্যাংকের সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু না থাকা, কাস্টমস ভবন এখনও নির্মাণ না হওয়া, সকল স্টেশনে একই পণ্যের একই মূল্য নির্ধারণ না করা, লাইসেন্স রুলস’র বিদ্যমান আইন নিয়ে জটিলতা, বন্দরের ১০টি পয়েন্টে  পণ্যের এন্ট্রি করতে গিয়ে সময়ের অপচয় ও একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মিত না হওয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থায়ী আদেশ (২০/০৫) এখনও বাতিল না হওয়া এবং অনলাইন সিস্টেম এ্যাসকুড বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার এবং কাস্টমস কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ  না হওয়া।
সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে সাতক্ষীরা জেলায় ভোমরা শুল্ক স্টেশন চালু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। ২০১৩ সালের ১৮মে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এ বন্দরের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বন্দরটি উদ্বোধনের পর এ বন্দর দিয়ে আমদানী নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সকল পণ্য আমাদানীর অনুমতি প্রদানের জন্য অুনরোধ জানান নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। চাহিদা পত্রের (ডিও) মাধ্যমে বুড়িমারী, হিলি, তামাবিল, সোনামসজিদ বন্দরের অনুরূপ সকল পণ্য আমদানীর সুযোগ দানের জন্য আদেশ জারীর অুনরোধ জানান নৌ পরিবহন মন্ত্রী। অথচ অদ্যাবধি শুধুমাত্র কৃষিজ পণ্য যেমন, পেয়াজ, রসুন , আদা, চালসহ বিভিন্ন পণ্য এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কৃষিজ পণ্য ছাড়া অন্য কোন পণ্য এ বন্দর দিয়ে না আনতে পারায় ব্যবসায়ীরা নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
সূত্র মতে, ভোমরা স্থল বন্দর দেশের সর্ব দক্ষিণের আমদানী রফতানীর সিংহদ্বার হিসেবে বিবেচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ায় ভোমরা স্থল বন্দরে এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ হাজারের বেশী মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া সমুদ্র বন্দরের সাথে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব যে কোন বন্দরের তুলনায় কম। যে কারণে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর দিয়ে আমদানী রপ্তানী করতে দার”ণভাবে আগ্রহী হন। পাশাপাশি এ বন্দর ব্যবহারে আমদানী ব্যয়ও সাশ্রয় হয়।
এ ব্যাপারে ভোমরা কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, ভোমরা শুল্ক স্টেশনের সুযোগ ও সাফল্য ধরে রাখতে বুড়িমারী, হিলি, তামাবিল, সোনামসিজদ শুল্ক স্টেশনের ন্যায় ভোমরা শুল্ক স্টেশনে আমদানিযোগ্য সকল পণ্য আমদানির সুযোগ প্রদানে ব্যবস্থা করতে হবে। বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে এলসি স্টেশনের জন্য প্রযোজ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থায়ী আদেশ (২০/০৫) বাতিল করতে হবে এবং পূর্ণাঙ্গ শুল্ক স্টেশনের জন্য প্রযোজ্য আদেশ প্রদান সাপেক্ষে অন্যান্য শুল্ক স্টেশনের ন্যায় অনাপত্তি পত্র (এনওসি) ও অগ্রিম শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়া এলসি’র মাধ্যমে আমদানীর সুযোগ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও আমাদানীকৃত পণ্য বন্দর অভ্যন্তরে আইন অনুযায়ী ৪৫দিনের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
অপরদিকে ভোমরা কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালনা প্রবিধানমালা ২০০৭ এক ও অভিন্ন রেখে বেনাপোলের ন্যায় ভোমরার ক্ষেত্রে অভিন্ন সিডিউল বাস্তবায়ন এবং সাথে সাথে পণ্য খালাসের জন্য অয়্যার হাউজের সীমানা বৃদ্ধি করতে হবে।
ভোমরা স্থল বন্দরের জিরো পয়েন্টে ভারত-বাংলাদেশ থেকে আসা-যাওয়াকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা  অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ভোমরা বন্দর অধিক রাজস্ব আদায়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় বন্দরে পরিণত হয়েছে। এ বন্দর দিয়ে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সে বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জরাজীর্ণ অফিস ভবন আধুনিয়াকন করা জরুরী।
ভোমরা বন্দরের নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ভোমরা বন্দরের যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিক। সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ