ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচল অনুপযোগী

খুলনা অফিস : খুলনার গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে  মেরামত ও উন্নয়ন করতে পারছে না স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি অর্থবছরে জেলায় মাত্র ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ টাকায় ৪৭টি সড়ক সংস্কার করছে কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হলে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল হবে না বলে অভিমত জানিয়েছেন নাগরিক নেতারা।
এদিকে অল্প বৃষ্টি হলেই খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অভ্যন্তরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে মহাসমস্যা দেখা দেয়। ফলে যে কোন গাড়ি ও পথচারীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। মহাসড়ক যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার অভ্যন্তরের গোলনা, মেছাঘোনা টিপনা নতুন রাস্তার মোড়, পূর্ব জিলেরডাঙ্গা, আঙ্গারদোহা, কাঠালতলা ও চুকনগর গ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে মহাসড়কের অবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ-পাথর ও ইট উঠে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে ভারী ও হালকা যানবহন চলাচল করায় সড়কের ইট পর্যন্ত উঠে তা গুঁড়া হয়ে গেছে। এ কারণে অল্প বৃষ্টি হলেই পানির সাথে ইটের গুঁড়া, ধুলাবালি ও পাথর একত্রে মিশে তা নরম কাঁদায় পরিণত হয়েছে। এ সময় মাল বোঝাই ও অন্যান্য যানবহণ ঝুঁকিনিয়ে চলাচলা করছে।  খর্ণিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার জানান, মহাসড়কের অবস্থা বেহাল। একটু বৃষ্টি হলে সড়ক পথে চলাচল মুশকিল হয়ে পড়ে। মনে হবে মহাসড়কে যেন খাল খনন চলছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। মাঝে মাঝে সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন ভাঙ্গা ইট সড়কের গর্তের ভেতর ফেলে দিয়ে যায়। ওই ইট গুড়া হয়ে ধূলাতে পরিণত হয়।
পাইকগাছা উপজেলা পর্যায়ে এলজিইডির প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সড়কের বেহাল অবস্থার কথা। ৯ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪শ’ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এর মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলা। পাইকগাছা উপজেলার প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, প্রায় দেড়শ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন। তবে নিয়মিত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এগুলো খুব শীঘ্রই মেরামত করা হবে।
এদিকে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল হচ্ছে না। পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়ন থেকে তরকারি বোঝাই ভ্যান পাইকগাছা সদরে নিতে গেলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক শহীদুল হক। ফলে কৃষকরা লাভবান হতে পারছে না। অথচ রাস্তা ভালো থাকলে খরচ কম হতো কৃষক বেশি লাভের মুখ দেখত বলে দাবি করেন তিনি।
কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মৎস চাষী হাফিজুল ইসলাম বলেন, নদীপথে যোগাযোগ কমে যাওয়া মাছ নিয়ে এখন সড়ক পথে জেলা সদরে উঠতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে খরচ বাড়ছে। তিনি সড়ক মেরামতের দাবি জানান।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, সড়কের অবস্থা বেহাল সত্য। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ওই সকল ভাঙা সড়ক মেরামত করে সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ব্যাপক পরিকল্পনা এবং বড় বরাদ্দ নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মহাসড়কে কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনা জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গ্রামীণ সড়ক রয়েছে ৫ হাজার ৫৫৪ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৭৭৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৪৯৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৪ হাজার ২৬৮ কিলোমিটার সড়ক গ্রামীণ। এর মধ্যে পাকা সড়ক ২ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। বাকি ৩ হাজার ৪৫৮ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে চলতি অর্থ বছরে মাত্র ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। যা, প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এ অর্থে জেলার প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংস্কার করা হবে। তবে নতুন করে কোন সড়ক পাকাকরণের বরাদ্দ রাখা হয়নি।
খুলনা জেলার মেরামতযোগ্য ৪৭টি সড়কের মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলায় সাতটি, দাকোপে তিনটি, ডুমুরিয়ায় সাতটি, কয়রায় চারটি, পাইকগাছার ছয়টি, রূপসার সাতটি, তেরখাদার পাঁচটি, দিঘলিয়ার সাতটি ও ফুলতলা উপজেলার তিনটি সড়ক। এ সব সড়কের হালকা পিচ আবরণ, গাড় আবরণ সংস্কার করা হবে। এছাড়াও ছোট ব্রিজ কালভার্টও মেরামত করা হবে।
এলজিইডি খুলনার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এএসএম তরিকুল হাসান খান বলেন, সব উপজেলাতেই ভাঙাচোরা রাস্তার পরিমাণ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দের পরিমাণ না বাড়লে সব সড়ক সংস্কার করা সম্ভব নয়।
তবে জেলায় ভাঙাচোরা সড়কের সংখ্যা ও পরিমাণ কমে আসছে। যে কাজ চলতি অর্থবছরে চলছে আগামী বছর তা’ আরও কমে যাবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নত না হলে যাতায়াতে খরচ বাড়ে। ফলে গ্রামের কৃষক/ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা নেয়ায় লাভবান হবে না। তিনি এসব সড়ক আগে মেরামতের দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ