ঢাকা, শনিবার 29 April 2017, ১৬ বৈশাখ ১৪২৩, ০২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাওমি শিক্ষাব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক ভাবনা

এডভোকেট মাহবুব ফেরদৌসী : কাওমি মাদরাসা এক ধরনের বেসরকারি ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে। কাওমি মাদরাসা সাধারণত সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে সাধারণ জনগণের সহায়তায় পরিচালিত হয়।
ভারত ,পাকিস্তান ও বাংলাদেশে কাওমি মাদরাসা বহুল প্রচলিত। ভারত উপমহাদেশের পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কাওমি মাদরাসা রয়েছে। তবে উপমহাদেশের বাইরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সাধারণত দারুল উলুম বা দেওবন্দি মাদরাসা নামে পরিচিত।
শব্দ বিশ্লেষণ : কওম আরবি শব্দ। এর অর্থ গোষ্ঠী, গোত্র,জাতি, সম্প্রদায়, জনগণ। কওমি অর্থ হলো গোত্রীয়, জাতীয়, জনগণ সম্পর্কিত। শব্দ দু'টি এই অর্থে ফার্সি এবং উর্দু ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়। মাদরাসাও আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো অধ্যয়নের স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল। একই অর্থে শব্দটি উর্দু ও ফার্সি ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ‘কাওমি মাদরাসা’র মানে হলো জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা জাতীয় বিদ্যাপীঠ যাকে ইংরেজিতে national university বলা চলে।
যেহেতু কাওমি মাদরাসা সাধারণত সরকারি অনুদানের পরিবর্তে পুরোপুরি জনসাধারণের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাই হয়তো এ ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কাওমি মাদরাসা বলা হয়।
এর কর্মকান্ডে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। বাংলাদেশে কাওমি মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ৩০০০০ যা সরকারি মাদরাসার তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশে কাওমি মাদরাসা বোর্ড বা বেফাকুল মাদারিস দ্বারা এর সনদ প্রদান করা হয়। সরকারি মাদরাসার সনদ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দেয়া হয়। একটি কাওমি মাদরাসায় নূরানি, ফোরকানিয়া, হাফিজিয়া ও কিতাব বিভাগের সবকয়টি বা কয়েকটি থাকতে পারে। বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাওমি মাদরাসাকে নিয়ে আসা ও কাওমি মাদরাসা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কাওমি মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে বৈঠকের বেশকিছু সময়ের পর অবশেষে কাওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে সরকার মাস্টার্স বা এমএ ডিগ্রির সমমান ঘোষণা করেছে। সরকারের এ উদ্যোগে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্দেশের চেয়ে অধিকমাত্রায় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি  বিদ্যমান থাকলেও আমি এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এর ফলে দেশের বৃহৎ একজন শক্তি সত্যিকারার্থে দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে। এ মানের কারণে তারা নিজেদের সঠিক যোগ্যতায় নিয়ে আসতে পারবে। অনেকেই ভাবেন আগে তাদের উপযোগি করে তৎপরে মান দিলে ভাল হতো। সেটা এক প্রকার ঠিক হলেও এ মান প্রদানও বেঠিক হয়নি। আগেতো বউয়ের মর্যাদা তারপরে কতটা সাংসারিক তার পরিচয়টা। তাই নয় কি?
কাওমি মাদরাসার এ মান বাংলাদেশে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।
দারুল উলুম দেওবন্দ ভারত উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও সুপ্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিগত শতাব্দীর মুসলিম বিশ্বে খ্যাতনামা মনীষীবর্গের জন্মদাতা। উম্মাহর ইলম ও আমলের পথে সফল রাহবার। এই মাদরাসার ইলমী পরিচয়, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ভারতবর্ষে তার অবদান কী তা জানতে হলে আমাদের কে ফিরে তাকাতে হবে প্রায় দেড় শতাব্দি পেছনে। ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল মুসলমানদের পক্ষ থেকে হিন্দুস্তানকে ফিরিঙ্গী আগ্রাসন মুক্ত করার সর্বশেষ সশস্ত্র পদক্ষেপ। এই আন্দোলনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শক্তি এতটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, মুসলিম জাতি কোন অবস্থাতেই গোলামির জিন্দেগী বরন করে নিতে সম্মত হবে না। তাই তারা কর্ম কৌশল পরিবর্তন করল। যে পিঙ্গল বর্ণে শোষকরা হিন্দুস্তানের মাটিতে লক্ষ মুসলমানের বুকের তাজা খুনের দরিয়া রচনা করেছে, তারাই আবার সর্বসাধারণের কল্যাণকামীর মুখোশ পরে তাদের সামনে হাজির হল। উদ্দেশ্য ছিল, ভয়-ভীতি দেখিয়ে কিংবা গায়ের জোরে যে কওমকে দমন করা যায় না, ধীরে ধীরে তাদের চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন আনা। যেন তারা ধর্মীয় অনুশাসন, স্বকীয় সভ্যতা ও দীপ্তিমান অতীতকে ভুলে গিয়ে অদূরভবিষ্যতে নিজেকে স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে মূল্যায়ন করতে না পারে।
এই হীন উদ্দেশ্য সফল করার সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ ছিল মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা। এবং এর মাধ্যমে তাদের দিল-দেমাগে পাশ্চাত্যের চতুর্মুখী প্রভাব বদ্ধমূল করা। যেন এতে প্রভাবিত হয়ে তারা নিজ বিবেক দিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘লর্ড ম্যাকল‘ এদেশের মানুষের জন্য এক নতুন শিক্ষানীতির সুপারিশ করেন। তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করেন। তাতে ভারতবর্ষের জাতীয় শিক্ষানীতি তথা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে ন্যক্কারজনক ভাবে উপহাস করা হয়। এবং ওলামায়ে কেরামের ওপর ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরিশেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “এখন আমাদের কর্তব্য হল, এমন একদল লোক তৈরি করা যারা আমাদের অধিকৃত অঞ্চলের অধিবাসী ও আমাদের মাঝে দোভাষীর দায়িত্ব পালন করবে। যারা রক্ত ও বর্ণে হিন্দুস্তানী হলেও চিন্তা-চেতনা, মেধা-মনন ও চারিত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে হবে ইংরেজ।”
দূরদর্শী ওলামায়ে কেরাম এই সুদূর প্রসারী চক্রান্ত ও তার ভয়াবহতা সম্পর্কে বেখবর ছিলেন না। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, এহেন পরিস্থিতিতে মুসলমানদের দীন-ঈমান রক্ষার্থে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে তারা স্বতন্ত্রজাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। কয়েক খান্দান পরে হয়তো ইসলাম ও তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যাবলী সম্পর্কে সচেতন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই তাঁরাও সম্মুখ সমরে লড়াই পরিহার করে কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনয়নে সচেষ্ট হলেন। নব উদ্ভুত শিক্ষানীতির ধ্বংসের হাত থেকে মুসলিম জাতিকে রক্ষার একটি মাত্র পথ তখন খোলা ছিল। ‘দারুল উলূম’ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে তাঁরা সে দিকেই অগ্রসর হয়েছিলেন।
হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী, রশিদ আহমদ, হাজী আবেদ হুসাইন রহ. ১৮৫৮ সালের জিহাদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। এমনকি উত্তর প্রদেশের একটি ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন। এ কারণে অবশ্য দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁদের ইংরেজ প্রশাসনের কোপানলের শিকার হয়ে থাকতে হয়েছিল। সশস্ত্র সংগ্রাম আপাত ব্যর্থ হলে তাঁরা নীরব ও সফল আন্দোলনের বীজ দেওবন্দের মাটিতে বপন করেন। যা ধীরে ধীরে গোটা ভারতবর্ষে আপন শাখা-প্রশাখা, পত্র-পল্লব বিস্তার করে এক মহীরূহের রূপ ধারন করে। যার সুশীতল ছায়ায় ইসলাম ও মুসলিম জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ, তাহযীব-তামাদ্দুন ও স্বাতন্ত্র্যবোধ লালিত হতে থাকে। হাঁ, সেই ‘সাজারে তুবা‘র নাম ‘দারুল উলুম’।
তদানীন্তন হিন্দুস্তানে কোনও দীনি মারকায প্রতিষ্ঠা করা ছিল নিজেকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেবার নামান্তর। সুলতান মুহাম্মদ তুঘলকের শাসনামলে শুধুমাত্র দিল্লিতেই সহস্রাধিক মাদরাসা ছিল। কিন্তু ফিরিঙ্গি আগ্রাসনের পর পুরো ভারতবর্ষের কোথাও একটি মাদরাসা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। ওলামায়ে কেরামকে আযাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণের অপরাধে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হতো কিংবা আন্দামান দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হতো। আর যারা মুক্ত ছিলেন, সংঘবদ্ধ হওয়া তাদের জন্য ছিল দুষ্কর। তাই আকাবিরত্রয় প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রামকেই বেছে নিয়ে প্রভুত কল্যাণের এই ধারা রচনা করেন।
১৫ মুহাররম ১২৮৩ হিজরী মোতাবেক ৩০ মে ১৮৬৭ খৃস্টাব্দে নিতান্ত অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে এই নীরব আন্দোলন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এখলাসের সাথে দীনের খেদমতই যেহেতু একমাত্র লক্ষ-উদ্দেশ ছিল তাই কোন প্রচার মাধ্যমের আশ্রয় না নিয়ে দেওবন্দের ছোট পল্লিতে, ছাত্তা মসজিদের আঙ্গিনায়, একটি ডালিম গাছের ছায়ায়, আবে হায়াতের এই নহর তারা রচনা করেন। দুই বুযুর্গের মাধ্যমে কার্যত প্রতিষ্ঠানটির পদযাত্রা শুরু হয়। প্রথমজন শিক্ষক; হযরত মাওলানা মোল্লা মাহমুদ। দ্বিতীয়জন ছাত্র; দেওবন্দের নওজোয়ান মাহমুদ হাসান। যিনি পরবর্তীতে শাইখুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান নামে খ্যাত হন। এবং ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
লর্ড ম্যাকল কর্তৃক ইসলামকে মিটিয়ে দেওয়ার হীন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দীনকে অক্ষুন্ন রাখা ছিল দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য। এরই সাথে ওলামায়ে কেরামের এক জানবাজ জামাত তৈরি করাও ছিল সময়ের দাবি, যারা যেকোনও পরিস্থিতিতে দীনকে আগলে রাখবেন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে পৌছে দেবেন। যেন সাধারণ মানুষ ইসলামের হেদায়েত অনুসারে জীবনযাপন ও তার আলোকে নিজ ভবিষ্যত গড়তে পারে। যদি বলা হয় ‘দারুল উলূম‘ নিজস্ব পরিমন্ডলে সফল, তাহলে অত্যুক্তি হবে না। প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্ন থেকে তালীম তরবিয়ত, তাযকীয়া-তাসাউফ, দাওয়াত-সিয়াসত সহ প্রতিটি অঙ্গনের জন্য সে জন্ম দিয়ে আসছে যুগের খ্যাতনামা মনীষীবর্গকে। যারা দীনকে আগলে রেখেছেন অক্ষুন্ন আদলে। তার অমিয় বাণী পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন উম্মাহর প্রতিটি ব্যক্তির কানে। আহারে-অনাহারে, দুঃখে-স¦াচ্ছন্দ্যে যেকোন প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে, আপন স্বার্থকে পেছনে ফেলে উম্মতের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে তারা নিবেদিত প্রাণ। বাতিলের শত ঝড় ঝাপটার মুখে হিমালয়ের মত অবিচল, তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় উত্তাল, নববী আদর্শের মূর্ত  প্রতীক। যে ইতিহাসে কাওমি মাদরাসার গোড়াপত্তন সে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্যে স্বকীয়তা বজায় রেখে এ শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন আবশ্যক। সরকারের এ মান প্রদানে এ শিক্ষাব্যবস্থাকে সেদিকে ধাবিত করবে বলেই ধারণা হয় বৈ কি! আলিয়া মাদরাসার দাখিলকে এসএসসির মান দেয়া সেদিনকার ঘটনা হলেও সে যাত্রা থেমে না থেকে অনেকদূর পানি গড়িয়ে আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থা জাতির আশা-আকাক্সক্ষার অনেকটাই পুরণ করতে সক্ষম হচ্ছে।
আমার মনে হয় তারা অচিরেই নিজদের যোগ্য প্রমাণ করে সমালোচকদের মুখে ফুলচন্দন ছিটিয়ে দেবেন। শুধু মানুষ নয় সকল প্রাণিকুল পরিস্থিতিতে নিজদেরকে খাপ খাইয়ে নেয়। আর আশরাফুল মাখলুকাত তা পারবে না এটা বিশ্বাস করাটাও বোকামি। 
কাওমি শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি ফতোয়া দেয়ার মত যোগ্যলোক তৈরির প্রচেষ্টাও যদি সম্ভব করা যায় তাও কম কিসে! তাদের শিক্ষার স্তরের নামকরণ ও তার মানপ্রদান হয়ত ক্রমান্বয়ে হয়ে যাবে আর তাতে সরকার ও বেফাকের সদিচ্ছাই হবে যথেষ্ট।
এ মান যাতে কাওমি শিক্ষাব্যবস্থার সম্মান বাড়িয়ে দেয় সে প্রাণান্তকর দুআ ও চেষ্টা সকল সচেতনমহলের করা উচিত। স্বকীয়তা রক্ষার মানসে যে শিক্ষাব্যবস্থার গোড়াপত্তন তা অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে যাক সম্মুখে এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ