ঢাকা, সোমবার 01 May 2017, ১৮ বৈশাখ ১৪২৩, ০৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দায় কার ঘাড়ে বর্তাবে?

 

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের পাহাড়ি ঢল আসছে তার আগাম তথ্য বাংলাদেশ কেন পেল না?- এ প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী প্রধান এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গত শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি বেসরকারি সংগঠন আয়োজিত ‘হাওরে মানবিক বিপর্যয় : পাশে দাঁড়ান’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তুলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের হাওর ডুবে গেছে। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের তথ্য কেন দেয়া হলো না সেই প্রশ্ন বাংলাদেশ তুলতে পারে।

রিজওয়ানা হাসানের এমন প্রশ্নের সাথে সাথে আরো কিছু প্রশ্নের জন্ম হয়েছে বোদ্ধামহলে। আরেকটি প্রশ্ন হলো, সরকার ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পদধারী বিজ্ঞানী-গবেষকরা কেন ভারতীয় নীতিনির্ধরকদের ভাষায় কথা বলছে। মেঘালয় রাজ্য সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিন্দু এম লানং দাবি করেন, ইউরেনিয়ামের কারণে কোনো প্রাণীর মরে যাবার সম্ভাবনা নাই। তাহলে উক্ত অঞ্চলের কোনো প্রাণীই বাঁচতো না। বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের গবেষক দল, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রোগতত্ত্ব প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর, মৎস্য অধিদফতরের প্রতিনিধি দলও ভারতীয় নীতিনির্ধারকের সুরেই কথা বলায় দেশীয় বিশেষজ্ঞদের যোগ্যতা-সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আরেকটি প্রশ্ন হলো, বন্যাপ্রবণ বাংলাদেশে ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাংবার্ষিক হলেও ইতিপূর্বে কখনো এভাবে মাছ ও হাঁস-মুরগীর মড়ক লাগার ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন এবার এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।

গত মার্চ মাসের শেষ দিকে উজানের ঢলে সৃষ্ট এক আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জসহ দেশের ছয় হাওর অধ্যুষিত জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে বিপুল পরিমাণ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজপ্রাণী ও হাস-মুরগীর মড়ক লাগে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ধান পচে তার থেকে গ্যাস ছড়িয়েছে তার কারণেই বুঝি মাছগুলো মরে যাচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে অনুমান করা হয় অন্য কারণ। মেঘালয় সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে উন্মুক্ত ইউরেনিয়াম খনির তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়েই হাওড়ের মাছ, ব্যাঙ মারা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, মারা যাচ্ছে হাওড়ের পানিতে চড়ে বেড়ানো গৃহপালিত হাঁসও। সেই সব অঞ্চলে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয় সেই সব মরা মাছ যেন কেউ না খায়। 

গত বছর জুলাইয়ের ৭ তারিখে ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, মেঘালয়ে ইউরেনিয়াম খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ইউরেনিয়াম উত্তোলনে ভারত সরকারের প্রতিষ্ঠান ইউরেনিয়াম করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিঃ (ইউসিল)-এর যে কর্মতৎপরতা চলছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। রাজ্য সরকারের অনুমোদন বা সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই এই ইউরেনিয়াম প্রকল্প গ্রহণ করা হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত খনি থেকে বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরেনিয়াম আকর উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইউসিল কর্তৃপক্ষ। বছরে এখান থেকে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন ইউরেনিয়াম আকরিক আহরণ করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। উম্মুক্ত এই ইউরেনিয়াম খনি নানাভাবেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় করে থাকে। খাসি সম্প্রদায়ের ছাত্র সংগঠন সেই ১৯৯২ সাল থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে। কিন্তু কোনো প্রতিবাদেই কোনো কাজ হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সহ এ দেশের পরিবেশ কর্মীরাও এ নিয়ে হৈ-চৈ করলেও নীতিনির্ধারণীমহল বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত ‘রামসার সাইট’-খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরের এই বিপর্যয়ের জন্য ভারতের ইউরেনিয়ামের বিষক্রিয়াই দায়ী হতে পারে। এশিয়ার দুটি বৃহৎ জলাশয় হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওরের জলজপ্রাণীর মৃত্যুর জন্য ভারতের ইউরেনিয়াম খনিই যে দায়ী সেটা গত ডিসেম্বরে মেঘালয়ের স্থানীয় খাসি জনগোষ্ঠী সেই এলাকার রানিকর নদীর পানির রঙ নীল থেকে বদলে সবুজ হয়ে যেতে দেখে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছিল। 

বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের কয়েকজন বিজ্ঞানী নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, “ইউরেনিয়ামের কারণেই পানির রঙ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর কারণেই পানির নিচের মাছ-ব্যাঙ মারা যাচ্ছে। সাধারণত ধান পঁচে যে আমোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হয় তাতে এতো মাছ মারা যাওয়ার কথা নয়।”

এছাড়া আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক চুক্তির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থাকলেও ভারত বরাবরই বাংলাদেশকে সেসব তথ্য-উপাত্ত দেয় না বলে পুরনো অভিযোগ রয়েছে। তারপরও সরকার এ বিষয়ে ভারতকে কখনো কোন চাপ দেয়নি বা চুক্তি লংঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। এমনকি ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বহু চুক্তি-আলোচনা হলেও আবহাওয়া-জলবায়ূ বিষয়ক তথ্য বিনিময় নিয়ে কোন কথা হয়নি বললেই চলে।

এদিকে অসময়ে ভারিবর্ষণ ছাড়াও চারটি সীমান্ত নদীর ড্যাম (বাঁধ দিয়ে ভারতের পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প) কাল হয়ে দাঁড়ালো কিনা সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। দেড়শতাধিক হাওরের বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পেছনে এখানকার ৫টি ড্যাম কোনো নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করার জন্য কেউ কেউ সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের মতে, শুধু পাহাড়ি ঢলে পানির এ রকম ভয়াবহ চাপ হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও পরিবেশ পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের মতে, সীমান্ত নদীর ভারতের অংশে থাকা ড্যামগুলো বাঁচাতেই পানি ছেড়ে দেয়া হতে পারে। এমন আশঙ্কার বিষয়ে সরকারিভাবে খোঁঁজখবর নেয়া উচিত। তিনি বলেন, অসময়ে হঠাৎ করে এত পানি যেহেতু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে সে কারণে মেঘালয় রাজ্যের নদীগুলোতে ভারতের যে ক’টি পানিবিদ্যুৎ ও সেচ প্রকল্প রয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। বাঁধে কোনো ত্রুটি আছে বা হয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন।

অবশ্য এ বিশেষজ্ঞ এ-ও মনে করেন, উজানে বাঁধ থাকলে যে কোনো দেশই তার বাঁধ বাঁচাতে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেবে, এটাই স্বাভাবিক। এখন বাস্তবে তেমনটি ঘটেছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া দরকার।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বছর এ অঞ্চলে গত ২০ বছরের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর পাশাপাশি মেঘালয়ে এ সময়ে যে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। তার দেয়া তথ্যমতে, ২৯ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ দিনে সিলেটের ৯টি পয়েন্টে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫০৮৮ মিলিমিটার, যা ১৯৯৭ সালের পর সর্বোচ্চ। আর এই পুরো পানিই ধারণ করতে হয়েছে সিলেট অঞ্চলের এসব নদীকে।

অন্যদিকে মেঘালয় এবং আসামের চারটি পয়েন্টে এই ৯ দিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ২২৫৩ মিলিমিটার। যার মধ্যে সুনামগঞ্জের ওপারের চেরাপুঞ্জিতেই ১১৮৬ মিলিমিটার। এ সময়ে এত বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অতীতে ছিল না বলেও জানান তিনি। কিন্তু এসব পানি নদীগুলো ধারণ করলেও সুরমার সঙ্গে যেখানে মিলিত হয়েছে সেদিকে যে গতিতে যাওয়া প্রয়োজন তা হয়নি। এতে করে হাওরের পাশের নদীতে পানির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

তবে পানি উন্নয়ন বোডের এই কর্মকর্তার কথার কিছুটা মিল পাওয়া যায় যাদুকাটা নদীর উৎসমুখে থাকা স্থানীয়দের কথায়। স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কাসেম আলী বলেন, এবার বৈশাখে যত পানি ভারত থেকে যাদুকাটায় এসেছে তা তার এই বয়সে দেখেননি। তিনি বলেন, পানি আসে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝিতে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর উৎপত্তি হয়েছে মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা উ¤্রটু নদী থেকে।

ভারতের ‘ওয়াটার রিসোর্সেস ইনফর্মেশন সিস্টেম’ ওয়েবসাইটের তথ্যমতে উ¤্রটু নদীতে তিনটি পানিবিদ্যুৎ ও সেচ ড্যাম রয়েছে। বাকি দুটি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প এখানকার অন্যান্য নদীতে।

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৬টি ছোটবড় নদ-নদী রয়েছে। যার মধ্যে সুরমা, কুশিয়ারা, কালনী, রক্তি, যাদুকাটা, চলতি, বৌলাই, মরাচেলা অন্যতম। এর মধ্যে যাদুকাটা দিয়ে সবচেয়ে বেশি পানি সুনামগঞ্জে প্রবেশ করে। তাই যাদুকাটা, চলতি, মরাচেলা ও খাসিয়ামারা নদীকে এ অঞ্চলের দুঃখ বলা হয়ে থাকে।

দীর্ঘদিন ধরে হাওরের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও পরিবেশ প্রকৌশল অধিদফতরের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, হাওরের পানি ব্যবস্থাপনার চরিত্র বুঝতে হলে এর পানির উৎস ও হাওরের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান আগে জানতে হবে। বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলের উঁচু পাহাড়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টির পানি একসঙ্গে জমে ঢল আকারে সাগরে পরিবাহিত হওয়ার জন্য নিচে নেমে আসে। ওই অঞ্চলে বিদ্যমান নদীগুলোর একসঙ্গে এত পানি পরিবহন করার ক্ষমতা না থাকায় পানি চারপাশের নিচু জায়গায় প্রবেশ করে বৃহৎ জলাশয় সৃষ্টি করেছে। এ জলাশয়ের দুটি অংশ। একটি স্থায়ী জলাশয়, যার পানি সারা বছর থাকে। অন্য অংশটি অস্থায়ী, যার পানি শুধু বর্ষা মওসুমে জমা হয় এবং কয়েক মাস অস্থায়ীভাবে জমা থাকে। এ দুই পানির অংশই মিলিতভাবে হাওর বা হাওরাঞ্চল নামে পরিচিত। হাওরে পানি জমা অবস্থায় ততদিন থাকে, যতদিন ওপরের ঢল ও নদীর পানি বের করে দেয়ার ক্ষমতার মধ্যে সাম্যতা থাকে। ওপরের ঢল বন্ধ হয়ে গেলে নদীর মাধ্যমে পানি সাগরে চলে যায় এবং হাওরের দ্বিতীয় অংশ প্রায় শুকিয়ে যায়। এটি জলজ পরিবেশের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শাখাকে নির্দেশ করে, যা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। তাই এর পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার জন্য সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কোনো নদী বা খালের বেসিন হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্টের ওপরদিকের যেসব অঞ্চলের বৃষ্টির পানি বা ঢলের পানি পরিবহন করে। বেসিনের পানির পরিমাণ সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত থেকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করতে হবে এবং সে সাপেক্ষে নদী বা খালের পানি পরিবহন ক্ষমতা বাড়াতে হবে। বেসিনের পানির পরিমাণ এমনভাবে নির্ণয় করতে হবে যাতে আগাম বর্ষা বা অতিবৃষ্টির পানি সংযুক্ত থাকে এবং মোটের ওপর ৫ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত ইমারজেন্সি পানি সারপাøস হিসেবে সংযুক্ত করতে হবে।

সর্বমোট বেসিনের পানি হিসাব করার পর নদী ও খালকে এমনভাবে খনন করতে হবে, যাতে হাওরের পানি ২-৩ দিনের মধ্যে নেমে যায়। সে জন্য নদীকে ও সংযুক্ত সব নদীকে ভাটি পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে খনন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিতে হবে। এ ছাড়া পাহাড়ের পাদদেশের কিছু দূরে বিশেষ সুগভীর খাল খনন ও এক পাড় উঁচু করে শক্তপোক্ত বাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢল ও ঢলের বিধ্বংসী গতি সামান্য হলেও কিছু সময়ের জন্য রোধ করা যায়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মেঘালয়ের কৃষি জমিতে ইউরিয়া সারের কারনে নাকি কাঁচা ধান পচে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়েছে! যদি তাই হয়, তাহলে সেই বিষাক্ত পানি ভারতের মাছ, পাখি ও জলজপ্রানীর কোন ক্ষতি না করে বাংলাদেশের হাওরের সর্বনাশ করলো কি করে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ