ঢাকা, সোমবার 01 May 2017, ১৮ বৈশাখ ১৪২৩, ০৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের বনদস্যু আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর প্রধানসহ ২৫ সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা

খুলনা অফিস : সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু আলিফ ও কবিরাজ বহিনীর দুই প্রধানসহ ২৫ সদস্যের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। র‌্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। গত শনিবার গভীর রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে তাদেরকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার সকালে পটুয়াখালীর শিল্পকলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১ শত ১০ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বনদস্যু আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর ২৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করে। এ সব বনদস্যু গত শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা ও ছোট সুন্দরী খাল এলাকায় আত্মসমর্পণ করে। এ নিয়ে গত ১১ মাসে সুন্দরবনকে ঘিরে দস্যুতায় লিপ্ত ১২টি বনদস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করল। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আব্দুল জলিল জানান, শরণখোলা থানায় দায়ের করা অন্ত্র ও দস্যুতা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বনদস্যু আলিফ বাহিনীর প্রধান মো. আলিফ মোল্লা ওরফে দয়াল (৪২), মো. রেজাউল ইসলাম শেখ ওরফে ছোট (২৮), মো. সফিনুর রহমান সফি (২০), মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ওরফে আব্দুল্লাহ (৪০), মো. হযরত আলী (৩৮), মো. শাহিনুর আলম ওরফে শাহিন (২৯), মো. জামির আলী জামু (৪৬), মো. আলামিন মোল্লা (৩৫), মো. তাইজেল ওরফে বড় ভাই (২৭), মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে সুমন (৪১), মো. আলমগীর গাজী (২৬), মো. কামাল শেখ (৩৮), মো. হোসেন আলী শেখ ওরফে ভাগ্নে (২৮), মো. সেলিম মোড়ল (৩৯), মো. হযরত আলী গাইন ওরফে আঙুল কাটা হযরত (৩৯), মো. পিয়ার আলী (৩৭), মো. লিটন বিশ্বাস ওরফে দেওয়ান (৩২), মো. হাবিবুর রহমান ওরফে বাছা (২৭), মো. এনামুল গাজি ওরফে এনা (৩৫)। এছাড়া কবিরাজ বাহিনীর প্রধান মো. ইউনুস আলী ওরফে কবিরাজ ওরফে লাদেন (৩৮), মো. নাজিম শেখ (৪৮), মো. আফতাব উদ্দিন ফকির ওরফে বেয়াই (৩৩), মো. আবু শেখ (৪৬), মো. সেলিম হাওলাদার (৩০), মো. আশরাফ হোসেম ওরফে রাজু (৩৭)। আত্মসমর্পণকৃত এ সব বনদস্যুদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গত বছরের ৩১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু ‘মাস্টার বাহিনীর’ ১০ জন বনদস্যু ৫২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৩ হাজার ৯০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে প্রথম বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। তার ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই বনদস্যু ‘মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর’ ১১ জন দস্যু ২৫ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক হাজার ২০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর বনদস্যু ‘আলম ও শান্ত বাহিনীর’ ১৪ জন বনদস্যু ২০ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সর্বমোট এক হাজার ৮ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেয়। ১৯ অক্টোবর সাগর বাহিনী ১৩ সদস্যকে ২০টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৬ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। গত ২৮ নবেম্বর খোকাবাবু বাহিনীর ১২ সদস্য ২২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ৩ রাউন্ড গোলাবারুদ’সহ আতœসমর্পন করে। ৭ জানুয়ারি নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্য ২৫টি অন্ত্র ও এক হাজার একশ’ পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ২৯ জানুয়ারি বনদস্যু জাহাংগীর বাহিনীর ২০ সদস্য ৩১ টি দেশি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ৫০৭ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে আত্মসর্মপণ করে। ৩০ মার্চ ছোট রাজু বাহিনীর ১৫ সদস্য ২১টি দেশি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ২৩৭ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। সর্বশেষ শনিবার সকালে আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর ২৫ সদস্য ৩১ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১শ’ ১০ রাউন্ড গুলিসহ দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করল। দীর্ঘদিন আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের মংলা, হারবাড়িয়া ও শিবসা এলাকায় জেলেদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো বলে জানায় র‌্যাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ