ঢাকা, সোমবার 01 May 2017, ১৮ বৈশাখ ১৪২৩, ০৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মোহামেডান শেখ জামাল ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব,  শেখ জামাল ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন।  মোহামেডান ৭ উইকেটে হারায় ভিক্টোরিয়া স্পোটিং ক্লাবকে। শেখ জামাল ৪ উইকেটে পারটেক্সকে আর ব্রাদার্স ইউনিয়ন খেলাঘরকে ৭১ রানে হারিয়ে জয় পেয়েছে। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল মোহামেডান ও ভিক্টোরিয়া। ম্যাচটিতে সহজেই ৭ উইকেটে জিতেছে মোহামেডান। ফলে ৫ ম্যাচের তিনটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে দলটি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি কমিয়ে আনা হয় ৪০ ওভারে। ভিক্টোরিয়ার দেয়া ১৫৫ রান তারা তিন উইকেট হারিয়ে টপকে যায়। হাতেও ছিল দশ ওভার। গতকাল বৃষ্টির কারণে বিকেএসপির ফ্ল্যাট উইকেট হয়ে ওঠে স্পিন স্বর্গ। মোহামেডানের অধিনায়ক তার স্পিনারদের জন্যই সুযোগটা তৈরি করে দেন। উইকেটে এমনই টার্ন ছিল যে ব্যাটসম্যান শামসুরও বল হাতে তুলে নেন দুটি উইকেট। ব্যাট হাতে ৭৪ রান এবং বল হাতে দুই উইকেটের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে। শুরুতে টস জিতে ভিক্টোরিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মোহামেডান অধিনায়ক রকিবুল হাসান। ব্যাট করতে নেমে দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও এনামুল হক জুনিয়রের ঘূর্ণিতে পড়ে ৪০ ওভারে ১৫৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় ভিক্টোরিয়া। ভিক্টোরিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন ওপেনার রুবেল মিয়া। এনামুলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি  খেলেছেন ৪২ রানের ইনিংস। এছাড়া মঈনুল ইসলাম ২৭ ও রবিন বাসিত  খেলেছেন ২১ রানের ইনিংস। মোহামেডানের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৩৭ রান খরচায় নিয়েছেন চারটি উইকেট। এছাড়া এনমুল হক জুনিয়র তিনটি এবং শামসুর রহমান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। জয়ের জন্য ১৫৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে মোহামেডান। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সৈকত আলী। তবে শামসুর রহমান ও রকিবুল হাসান মিলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। রকিবুল ব্যক্তিগত ২০ রানে ফিরে গেলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অভিষেক মিত্র ক্রিজে নামেন। বাকি সময়ে শামসুর ও অভিষেক মিলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। এই সময়েই শামসুর চলতি লিগের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ৭৪ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় তিনি তার অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। এছাড়া অভিষেক ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ভিক্টোরিয়ার বোলারদের মধ্যে মাহবুবুল আলম,  মঈনুল ইসলাম ও মনির হোসেন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। পারটেক্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দলটি। এই জয়ে লিগের পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। পারটেক্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শেখ জামালের অবস্থান এখন তিনে। অবশ্য ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ২২ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা পারটেক্স ৪৬.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০১ রান করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছেন পারটেক্সের ওপেনার জনি তালুকদার। ৮৪ বলে চার ৪ ও দুই ছক্কায় তিনি তার ৬৫ রানের ইনিংসটি সাজান। এছাড়া ভারতীয় ক্রিকেটার পরেশ ড্রগরা ৩০ ও সাজ্জাদ  হোসেন ২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। শেখ জামালের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। তার ঘূর্ণিতেই লন্ডভন্ডু হয়ে যায় পারটেক্সের ব্যাটিং লাইনআপ। আব্দুর রাজ্জাক ৫ উইকেট নিলেও তানভীর হায়দার দুই,  শাহাদাত হোসেন ও সোহাগ গাজী প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ২০২ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শেখ জামাল। দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ মাহবুবুল করিম ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন। এছাড়া তানভীর হায়দার ৩৪,   সোহাগ গাজী ৩১ ও ইলিয়াস সানী ২৩ রান করেছেন। শেষ দিকে তানভীর ও ইলিয়াস দুইজন প্রতিরোধ না গড়লে হয়তো হারই দেখতে হতো শেখ জামালকে! পারটেক্সের বোলারদের মধ্যে মামুন হোসেন ৩৭ রানে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া নুরুজ্জামান মাসুম দুটি এবং রাজিবুল ইসলাম একটি উইকেট নিয়েছেন।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। খেলাঘরকে ৭১ রানে হারিয়ে লিগের দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। টস হেরে আগে ব্যাটিং করা ব্রাদার্স ইউনিয়ন নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছেন মাইশুকুর রহমান। ৯০ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি তার অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। এছাড়া ফরহাদ  হোসেন ৬৭,  মিজানুর রহমান ৪৮ ও ধীমান ঘোষ ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন। খেলাঘরের বোলারদের হয়ে তানভীর ইসলাম ুেসরা সাফল্য দেখিয়েছেন। তিনি ৪৯ রান খরচায় নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এছাড়া মাসুম খান,  রেজাউল করিম ও নাজমুস সাদাত একটি করে উইকেট নিয়েছেন। ২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে  নেমে খেলাঘর নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান তুলতেই থেমে যায়। শুরুতে নাজিমউদ্দিনের ৬৮ এবং শেষ দিকে ডলার মাহমুদের অপরাজিত ৫৩ রানও হার ঠেকাতে পারেনি খেলাঘরের। ুব্রাদার্সের বোলারদের মধ্যে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদ-উজ-জামান সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া অলক কাপালি ও বিসলা দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ