ঢাকা, সোমবার 01 May 2017, ১৮ বৈশাখ ১৪২৩, ০৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিভেদ নয় ঐক্যের রাজনীতি চায় জনগণ

-মাহমুদুল হক আনসারী
স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও জাতিয় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠেনি। রাজনীতিতে বিভেদ, অর্থনীতিতে মন্তর গতি, পরিকল্পনায় অপরিপক্ব সমন্বয়হীনতা এখনো জাতি সব ক্ষেত্রেই অনৈক্য আর বিশৃংখলায় আবদ্ধ। দেশের মানুষের অধিকার, তাদের উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলের মধ্যে নেই কোনো ন্যূনতম ঐক্য। বৃহত্তর ঐক্য, স্বাধীনতার স্বপক্ষের ঐক্য, অর্থনীতির স্বার্থে ঐক্য সামাজিক ও রাজনৈতিক কোনো ঐক্যই এ জাতির নেই। আছে শুধু বিশৃংখলা, হানাহানি, মারামারি, হামলা মামলা আর অন্যমতের মানুষকে চাপের মুখে রাখা। প্রশাসনের নিকট সঠিকভাবে প্রাপ্তি মিলছে না। প্রশাসনকে সরকার জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। প্রশাসন দায়িত্ব পালনে এখনো জনগণের সেবক হতে পারেনি। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো সব দিকেই বিশৃংখলায় পরিপূর্ণ। রাষ্ট্রের আদেশ নিষেধ সঠিকভাবে পালন করছে না। জনগণ ঠিকমত সেবা পাচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অফিসে ফাইল ঠিক সময়ে নড়াচড়া করে না। সময়মত ফাইল পাওয়া যায় না। অপরাজনীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। স্থানীয়, জাতীয় ও অর্থনৈতিক কর্মকা- সঠিকভাবে বাস্তবায়নে বাধা, সব মিলিয়ে জাতীয় সরকারের আদেশ নিষেধ বাস্তবায়ন ধীর গতিতে চলছে। স্থানীয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে গ্রুপিং বিভেদ আর শৃংখলা না থাকায় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সুফল জনগণ পাচ্ছে না।
রাজনৈতিক সুফল ও ঐক্য জনগণ কোনটাই পাচ্ছে না। দলও অপরাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ রাজনীতি থেকে বিমুখ হচ্ছে। দলে দলে হানাহানি, হাঙ্গামা, মারামারি দলীয় কর্মী অপর কর্মীকে হত্যা করছে। নেতায় নেতায় পাল্টা পাল্টি মিটিং, একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি, সাধারণ মানুষের জান মালের উপর আঘাত, দোকান মার্কেটে ভাংচুর, অনুসারীকে হত্যা, পরিবার/সমাজে অশান্তি আর আহাজারী, একটি গোছালো পরিবারকে সব আশা হারিয়ে নিঃস্ব করে ফেলছে। নেতাকর্মীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসীন। সে কর্মীকে আবার কারণে অকারণে হত্যার স্বীকার হতে হয়। দেশ স্বাধীন হয়েছে, মন ও অন্তর স্বাধীন হতে পারেনি এখনো। মন মানসিকতায় নোংরামি রয়ে গেছে। ক্ষমতায় একবার গেলে বার বার যেতে চায়, কি মজা আর ভোগ করার নেশা! ক্ষমতা, অর্থ খ্যাতির জন্য রাজনৈতিক বিশৃংখলা চলছে। এখানে জনগণের কিছুই পাওয়ার নেই। জনগণকে আশায় রেখে ক্ষমতা আর ক্ষমতার বাইরের রাজনীতি দেশকে এগুতে দিচ্ছে না। জনগণ যাবে কোথায়। করবেই বা কি? ভোট ও ভাতের অধিকারও ঠিকমত পাচ্ছে না। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পূর্বেই ভোট হাইজ্যাক হয়ে যায়। ভোট না দিতে পারার ব্যাথায় ক্ষোভ নিয়ে সেন্টার থেকে চলে আসতে হয়। এ সবের মূল কারিগর রাজনৈতিক চক্র। তারাই দেশকে ভোটের ও ভাতের অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে। অন্যমতের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা ভালবাসা নেই। এ দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে আইনের শিকার হচ্ছে। আইন কারো জন্য আশির্বাদ, কারো জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। তাহলে আইনের স্বাধীনতা থাকলো কই। আইন থেকে জনগণ পাচ্ছেটা কি? রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য,  শ্রদ্ধাবোধ না থাকায় অগ্রগতির সুফল জনগণ পাচ্ছে না। সরকার ও বিরোধী দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ নিজ দলের কর্মীরাই অনুস্মরণ করছে না। কারণে অকারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। ক্ষমতাকে বড় করে দেখা হচ্ছে, সেখানে জনস্বার্থ পদদলিত হচ্ছে। ক্ষমতাবানদের তোয়াজ বেড়ে চলছে। অপরাধী বেপরওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। সমাজের শান্তিপ্রিয় মানুষ সমাজ হতে আইনের আশ্রয়, অধিকার পাচ্ছে না। এখানে সব শান্তিকামী মানুষের জাতীয় ঐক্য দরকার। জাতীয়ভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ঐক্য না থাকার কারণে অপরাধীরা পার পাচ্ছে। উন্নয়ন অগ্রগতিতে ঐক্য থাকতে হবে। উন্নয়ন রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য ও মানুষের জন্য হতে হবে। উন্নয়নবিরোধী কর্মসূচি কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থাকবে। উন্নয়ন আর দুর্নীতি এক সাথে চলতে দেয়া যায় না। উন্নয়নের নামে দুর্নীতি প্রতিহত করতে হবে। সব ক্ষেত্রেই জাতীয় ঐক্য রাজনৈতিক সমঝোতা থাকা চাই। রাজনীতির কর্মসূচি হতে হবে জনবান্ধব। ধংসাত্মক রাজনীতি জনগণ গ্রহণ ও মেনে নিবে না। ক্ষমতার বৈধ পালাবদল মেনে নিতে হবে। জবর দখলের ক্ষমতা বেশিদিন টিকে থাকে না।
ক্ষমতার জবরদখল রাজনীতি হতে পারে না। সুপ্ত ও সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য ঐক্যভিত্তিক রাজনীতি চায় জনগণ। জনগণের আশা ভরসার আলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হওয়া চাই। একদল অপর দলকে ঘায়েল ও মাঠছাড়া করার সংস্কৃতি থেকে নেতাদের সরে আসতে হবে। মাটি ও মানুষের স্বার্থের রাজনীতি করতে হবে। ব্যক্তি দলের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ বেশি এবং সেটাই সব দল ও নেতার মধ্যে থাকা চাই। ঐক্যভিত্তিক রাজনীতি সমাজকে এগিয়ে নেবে। হানাহানি, মারামারি থেকে জাতি মুক্তি পাবে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ ও শান্তিতে থাকবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক, ইমেইল: mh.hoqueansari@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ