ঢাকা, বুধবার 03 May 2017, ২০ বৈশাখ ১৪২৩, ০৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তারেক রহমানসহ ৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

গাজীপুর সংবাদদাতা : সরকার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও ভাংচুর করার অভিযোগে ২০১৫ সালে গাজীপুরে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের নাশকতার মামলায় বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভুইয়া এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শরিক দল টানা ২য় বারের মতো সরকার গঠন করার পূর্বে ও পরে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থ যোগান ও উস্কানি দিয়ে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের ২য় নেতা বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করে তার ব্যক্তিগত সহকারি লুৎফর রহমান বাদল এবং গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান পুত্র বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান রনিদের নিয়ে তাদের ফ্ল্যাট-৩ (অঁফষবু ঈড়ঁৎঃ, ৩২-৩৪, ঐরষষহ ঝঃৎববঃ, খড়হফড়হ, ডওঔ ৫ঘচ. টক) এর বাসা থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল ও বিশেষ জেলা গাজীপুর অঞ্চলে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের যাতায়তের প্রধান মহাসড়কে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে নাশকতা, গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে রাস্তা অবরোধ করে এবং উক্ত বাড়ি হতে সরকার পতনের আলোচনা করে। তারেক জিয়া বিদেশে বসে সারা দেশে এক সঙ্গে নাশকতার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন এর জের ধরে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে গাজীপুরের মনিপুর খাসপাড়া এলাকার তারেক জিয়া মোড় এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ সৃষ্টি করে। এসময় তারা একটি বাসে কেরোসিন ও পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাসটি পুড়ে গিয়ে ক্ষতি সাধিত হয়। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানার এসআই দিলীপ চন্দ্র সরকার বাদি হয়ে ১৮ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৪০-৪৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক একই বছরের ২৫ আগস্ট বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারি লুৎফর রহমান বাদল ও গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের ছেলে মঞ্জুরুল আহসান রনিসহ বিএনপির ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর দীর্ঘদিন মামলা চলাকালে আসামীরা পলাতক থেকে আদালতে হাজিরা না দেয়ায় গত ৩০ এপ্রিল আদালত তারেক রহমান, লুৎফর রহমান বাদল ও মঞ্জুরুল হক রনিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ড/অ) জারি করেন। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভ’ইয়া এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন- তারেক রহমান, লুৎফর রহমান বাদল, মঞ্জুরুল আহসান রনি, মোঃ সোহেল, মোঃ ইমরান, হালিম সিকদার, ডাঃ আলী আকবর, মোঃ মোবারক হোসেন ও আঃ আজিজ।

প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা : ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলায় তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে যুবদল দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। গতকাল এক বিবৃতিতে কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে বর্তমান অবৈধ সরকার কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন। নেতৃদ্বয় বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ মামলায় উদ্দেশ্য মূলক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। এর মধ্যে আজ বুধবার দেশের সকল জেলা সদরে এবং ৪ মে বৃহস্পতিবার দেশের সকল মহানগরে যুবদল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে। নেতৃদ্বয় দেশের সকল সাংগঠনিক জেলাকে যথাযথ ভাবে ঘোষিত কর্মসূচী পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে ১ দিনের কর্মসূচি ঘোষনা করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকরামুল হাসান। বিবৃতিতে তারা জানান, আজ বুধবার দেশের সকল জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তারেক রহমানের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এক বিবৃতিতে আজ বুধবার সারা দেশের জেলায় ও ৪ মে মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মামলাবাজ অবৈধ সরকার তারেক রহমানকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে আর অধীনস্থ আদালতকে প্রভাবিত করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। কিন্তু এ জনবিচ্ছিন্ন সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাকে একের পর এক হাস্যকর মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তাদের অবৈধ ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায়। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বরতে চাই শত ,সহস্র , লাখো মামলা দিয়ে তারেক রহমানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না , কারণ তারেক রহমান ইতিমধ্যে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। আমরা অবিলম্বে তারেক রহমানের সকল গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ