ঢাকা, বুধবার 03 May 2017, ২০ বৈশাখ ১৪২৩, ০৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুরে বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট ॥ কৃষকরা দিশেহারা

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ মারাত্মকভাবে দেখা দিয়েছে। চাষিরা ওষুধ প্রয়োগ করেও এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে এ রোগ বিষয়ে আগাম কোনো সতর্কতা প্রচার করা হয়নি। নূন্যতম কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি চাষিদের। ফলে ধানক্ষেতে এ রোগের আক্রমণে চাষিরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কীটনাশক কোম্পানির সাথে যোগসাজোসে ট্রুপার নামক ওষুধ দ্বিগুণ দামে বিক্রয় করা হচ্ছে। 

উপজেলার প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরোক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এসব জমি থেকে চাষিদের শুধু ধান গাছ মিলবে, ধান ঘরে উঠবে না। অর্থাৎ কমপক্ষে চার হাজার টন ধান কম উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। কামারপুকুর ইউনিয়নের জসিম বাজার এলাকার কৃষক শহিদুল, দেলো, আহেদুল , বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাসকান্দর গ্রামের কাঙ্গালপাড়ার চাষি তৌহিদুল ইসলাম, কাশিরাম ইউনিয়নের বেলাল হোসেন, বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের কুদ্দুস, খাতামধুপুর ইউনিয়নের মহির উদ্দিন জানান, মাসখানেক আগেও ধান গাছের হƒষ্টপুষ্ট চেহারা দেখে তাদের মনে আনন্দ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বোরোক্ষেতে ব্যাপকভাবে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ বিষয়ে উদাসীন বলে একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২ হাজার টন।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মন্ডল জানান, বিক্ষিপ্তভাবে মাত্র পাঁচ হেক্টর জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে সামান্য উৎপাদন কমবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের মাঝে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা তা মানেননি, জমিতে কৃষকরা মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করেছেন। ফলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ