ঢাকা, বুধবার 03 May 2017, ২০ বৈশাখ ১৪২৩, ০৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে শিশু মেয়েকে নিয়ে বাবার আত্মহত্যা : ছেলেসহ ইউপি সদস্য আটক

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী শিশু কন্যাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে শনিবার এক দিনমজুর আত্মহত্যা করেছে। নিহত ওই দিনমজুরের স্ত্রীর দাবী শিশু কন্যার ধর্ষণ ও গরু চুরির বিচার না পাওয়ায় এবং নির্যাতনের শিকার হওয়ায় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এঘটনায় পুলিশ শ্রীপুরের গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল হোসেন (৫২) তার ছেলে মিঠুনকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতরা হলো- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার কালাই গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন সরকারের ছেলে হযরত মাহমুদ (৬৫) ও হযরতের পালিত মেয়ে আয়েশা আক্তার (৭)। নিহত আয়েশা আক্তার গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের হেরা পটকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী।
এলাকাবাসি জানায়, শনিবার সকালে হযরত মাহমুদ তার মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে শ্রীপুর রেলগেইট এলাকার এন.এন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল লাইনের পাশে পায়চারী করতে থাকে।
সকাল ৯টার দিকে দেওয়ানগঞ্জগামী  তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন ওই এলাকায় পৌঁছলে হযরত মাহমুদ প্রথমে তার মেয়েকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ছুঁড়ে ফেলে নিজেও ওই  ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এতে ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন ও স্বজনরা জানান, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে দিনমজুর হযরত মাহমুদ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্নপুর ছিটপাড়া গ্রামের হালিমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে হযরত তার শ^শুর বাড়ীতে ঘর জামাই হিসেবে থাকে।
অভাব অনটনের সংসারের যোগান দিতে হালিমা ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়ীতে ঝিঁয়ের কাজ করে। নিঃসন্তান এ দম্পতি আয়েশাকে দত্তক নিয়ে লালন পালন করতো। ফারুক নামের স্থানীয় এক বখাটে যুবক প্রায় দু’মাস আগে আয়েশাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। থানায় এব্যাপারে  অভিযোগ দেয়া হলে ধর্ষক ও তার লোকজন হালিমা ও তার স্বামীর উপর ক্ষুব্ধ হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন এঘটনার বিচারের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু কোন মীমাংসা ছাড়াই তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এঘটনার পর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্থানীয় ক’যুবকের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় গরু চুরির অভিযোগ করেন হালিমা। এঘটনারও মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব নেন ওই ইউপি সদস্য আবুল হোসেন। কিন্তু এবারও তিনি কোন সমাধান করেন নি। হযরত মাহমুদ এঘটনার বিচারের জন্য তাগাদা দিলে এতে দুর্বৃত্তরা হালিমা ও তার স্বামীর উপর আরো বেশী ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে তারা মারধর করার জন্য দা’ লাঠি নিয়ে শুক্রবার দিনভর হালিমার স্বামী হযরত মাহমুদকে খোঁজাখুঁজি করে এবং হুমকি দেয়। এতে হযরতের পরিবার আতংকিত হয়ে পড়ে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা হযরতকে তার বাড়িতে মারধর করে। একপর্যায়ে গরু চুরি ও শিশু কন্যা ধর্ষণের ঘটনার বিচার না পেয়ে এবং প্রভাবশালীদের নানা হুমকির প্রেক্ষিতে আতংকিত হযরত ক্ষোভে ও অভিমানে শিশু কন্যাকে নিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।
শ্রীপুর মডেল থানার এসআই কায়সার আহমেদ স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গরু চুরির ঘটনার সমাধান দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন কোন সমাধান দেন নি। উপরন্তু শুক্রবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা হযরতকে তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ইউপি সদস্য ও তার ছেলেকে শনিবার আটক করা হয়েছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত দু’জনের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ