ঢাকা, বুধবার 03 May 2017, ২০ বৈশাখ ১৪২৩, ০৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৭টি মহিষের মধ্যে শেষ সম্বলটুকুও এখন নেই

নূরুল ইসলাম, ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকে হাওরের পানিতে ডুব দিয়ে খাদ্য খাওয়ায় ইউরেনিয়ামের বিষাক্ত তেজসক্রিয়ায় একই পরিবারের ৭টি মহিষের মধ্যে সর্বশেষ সম্বল মহিষটিও মারা গেছে। গত ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টায় উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাতিরকান্দি গ্রামের মৃত আবদুল কাহার-কালা মিয়ার পুত্র লিলু মিয়ার একমাত্র সম্বল ছিল ৭টি মহিষ। এগুলো দিয়ে তিনি অন্যের জমি বর্গা চাষ করতেন। লিলু মিয়ার নিজের কোন জমি-জমা না থাকলেও আমন ও বোর মৌসুমে মহিষের বদৌলতেই ভাড়াল ভর্তি ধান তুলতেন। স্বামি-স্ত্রী, ২সন্তান, মাতা ও একভাইসহ ৬ সদস্যের পরিবার চলতো সুখেও স্বাচ্ছন্দ্যে। কিন্তু হঠাৎ করে এ সুখী পরিবারের উপর বজ্রপাত যেন আঘাত হানলো। একপর্যায়ে গত ২২ ও ২৪ এপ্রিল ৭টির মধ্যে ৬টি মহিষ মারা যায়।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৭এপ্রিল) বেঁচে থাকা অপর মহিষটিও মারা গেছে। ৭টি মহিষ হারিয়ে লিলু মিয়া এখন পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছেন। চিরাচরিত নিয়মে গ্রামের পার্শ্ববর্তী নাইন্দার হাওরে পানিতে ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে এগুলো অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে থাকে। মারা যাওয়ার আগে পেট ফুলেও ১০৭ ডিগ্রীর উপরে জ্বর থাকে। মারা যাবার পর পায়খানার রাস্তাও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এ ব্যাপারে লিলু মিয়ার চাচাতো ভাই গোলাম মোস্তফা তালুকদার জানান, মহিষগুলো ছিল তার পরিবার নির্বাহে একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সবগুলো মহিষ মারা যাওয়ায় পরিবারের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা- কখনও পূরণ হবার নয়। এ ব্যাপারে সহায়তার জন্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার ছাইফুল ইসলামও ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার আবদুস শহিদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে একটি তদন্ত টিম এসে জীবিত মহিষটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। কিন্তু রাতেই এটি মারা যাওয়ায় শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) মহিষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যক্ষ কেটে ময়নাতদন্তের জন্যে নিয়ে আসা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ