ঢাকা, শুক্রবার 05 May 2017, ২২ বৈশাখ ১৪২৩, ০৮ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা বিষয়ে জাতিসংঘে প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত

 

০৪ মে, বিবিসি : জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বিভিন্ন দেশের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত। ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘের চালু করা রীতি অনুযায়ী প্রতি চারবছর অন্তর সদস্য দেশগুলোকে নিজেদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নি য়ে অন্য দেশগুলোর কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

সেই হিসাবে নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য এই প্রথম এবং দেশ হিসাবে তৃতীয়বার মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগিকে ওই সব প্রশ্নের জবাব নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার হাজির হওয়ার কথা মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে। বিভিন্ন দেশ ভারতের কাছে যেসব প্রশ্ন জানতে চেয়েছে, তার মধ্যে মূলত রয়েছে সংখ্যালঘু আর দলিত শ্রেণীর মানুষদের সুরক্ষার জন্য ভারত কী কী করছে।

লিঙ্গ বৈষম্য, হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু, নারী অধিকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফস্পার বলে বলীয়ান হয়ে যে সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে- থাকবে সেই সব বিষয়ও। ভারত সরকারের জবাব ছাড়াও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজও তাদের নিজস্ব রিপোর্ট পাঠায়।

ওইসব প্রতিবেদনের ওপরে ভিত্তি করেই যে যে অংশে মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন আছে বলে বাকি দেশগুলো মনে করে, সে ব্যাপারে উপদেশ দি য়ে থাকে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবারের প্রশ্নোত্তর পর্বে ১১২টি দেশের প্রতিনিধিদের ভারতের কাছে মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো তুলার কথা। কী কী প্রশ্ন আসতে চলেছে ভারতের কাছে?

ব্রিটেনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন আসতে পারে সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ভারত সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

আর সাম্প্রদায়িক হিংসা বন্ধের জন্য বিশেষ আইন তৈরির দিকে কতটা এগিয়েছে ভারত সরকার?

সুইজারল্যান্ড জানতে চাইবে সংখ্যালঘুদের ওপরে হিংসাত্মক ঘটনায় প্ররোচনা দেয়া অপরাধীদের আড়াল করছেন যেসব সরকারী কর্মী, তাদের দায়-দায়িত্ব নিশ্চিত করতে ভারত সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফস্পা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে ভারত সরকার কী ভাবছে? নরওয়ে তা জানতে চাইবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কী করা উচিত বলে ভারত মনে করে?

আর নেদারল্যান্ড প্রশ্ন তুলবে, যে সাতটি ভারতীয় রাজ্যে ধর্ম-পরিবর্তন রোধ করতে আইন করা হয়েছে, সেখানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে কী করা হচ্ছে?

সাংবাদিকদের ওপরে হামলার ঘটনায়দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতে সরকারী স্তরে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হ য়েছে- এই প্রশ্নও করবে নেদারল্যান্ড।

সব প্রশ্নেরই উত্তর তৈরি করে গতকাল বৃহস্পতিবার কাউন্সিলের সভায় হাজির হওয়ার কথা ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ