ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মূল্যায়নের ‘ত্রুটি সারাতে’ পাসের হারে ধাক্কা

অনলাইন ডেস্ক: উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতির রোগ সারানোর চেষ্টায় চলতি বছর মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার নেমে এসেছে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ, অর্থাৎ পাঁচে পাঁচ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় পাঁচ হাজার কমে এবার ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ হয়েছে।  

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এবারের ফলাফল দেখে কেউ বিস্মিত হতে পারে, কারও কারও কাছে ধাক্কা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু তার কাছে এটা প্রত্যাশিতই ছিল।

গতবছর ৮৮ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করার পর এই হার আরও বাড়ার প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন তিনি। বছর বছর পাস বাড়লেও শিক্ষার মান বাড়ছে না- এমন অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন জোরের সঙ্গে।

তবে নাহিদ এবার স্বীকার করে নিয়েছেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে আগে পরীক্ষকদের গাফিলতি আর পদ্ধতিতে ত্রুটি ছিল। এবার নতুন পদ্ধতিতে ‘যথাযথ’ মূল্যায়ন হওয়ায় পাসের হার কিছুটা কমেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এবারের ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এটা আমাদের অগ্রগতি, সেই কারণে জিনিসটা আমি সবাইকে স্বাভাবিকভাবে নিতে অনুরোধ জানাব।”

তার বক্তব্যের সার কথা হল- আগে পরীক্ষকরা দায়সারাভাবে খাতা দেখতেন, তাদের মূল্যায়নের পার্থক্যও হত অনেক বেশি। ফলে শিক্ষার্থীদের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হত, কেউ আবার বাড়তি সুযোগ পেয়ে যেত।

তিন বছর গবেষণা করে এবার একটি নমুনা ও মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নে ‘সমরূপতা’ এসেছে বলে দাবি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের, যিনি বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটেরও (বিইডিইউ) প্রধান।   

এসএসসির ফল প্রকাশের পর এই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সাধুবাদ ও সমালোচনা- দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই এসেছে।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা অনেক দিন ধরেই পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কারের কথা বলে আসছিলেন। আগের ত্রুটি স্বীকার করে নিয়ে সরকার দেরিতে হলেও তা ‘সারানোর’ পথে এল।

অন্যদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির সমালোচনায় বলেছেন, এতে ‘শিক্ষার আমলাতান্ত্রিকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছাল।-বিডিনিউজ24

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ