ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আবারও নিপীড়িত হওয়ার হুমকিতে গৃহহারা রোহিঙ্গারা : জাতিসংঘ

সংগ্রাম ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের যথাযথ সহায়তা না দিলে তারা আবারও নিপীড়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে এ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসেবে ৭৪ হাজার রোহিঙ্গা সদস্য বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির ও অস্থায়ী কেন্দ্রে থাকছে। বর্ষা মওসুম শুরু হওয়ার আগে তাদের অনেকের যথাযথ আশ্রয়ের প্রয়োজন। 

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি শিনজি কুবো বলেন, ‘যথাযথ সহায়তা ছাড়া তাদেরকে আবারও শিশু শ্রম, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও পাচারের শিকার হওয়া লাগতে পারে। ’ বাংলা ট্রিবিউন। 

ইউএনএইচসিআর এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১ লাখ ৬৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়েছে। এ অঞ্চলে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত সর্বমোট সংখ্যা যথাক্রমে ৪ লাখ ২০ হাজার ও ১ লাখ ২০ হাজার। সাম্প্রতিক সহিংসতার আগে অনেক রোহিঙ্গার জন্য মালয়েশিয়া ছিল আকাক্সিক্ষত গন্তব্য। 

মালয়েশিয়া, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় ৮৫ নারীর সাক্ষাৎকার নেয়ার ভিত্তিতে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে ইউএনএইচসিআর। জরিপে দেখা গেছে, ওইসব নারীর বেশিরভাগেরই বাল্যবিয়ে হয়েছে এবং ১৮ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের এক তৃতীয়াংশ পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। 

রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে গত শতকের ৮০ এর দশক থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের মিয়ানমারের নাগরিক বললেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কার্যত কোনও দিনই তা স্বীকার করা হয়নি। তাদের ফিরিয়ে নিতে বার বার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গত বছর অক্টোবরে চেকপোস্টে হামলায় ৯ সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী পুলিশ একযোগে রোহিঙ্গা দমনে অভিযান শুরু করে। 

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা,ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ওঠে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। তাদের বিরেুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ তোলা হয়। রোহিঙ্গা নির্যাতন ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’র শামিল বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ