ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তৃণমূলে বিএনপি কর্মীরা তৎপর হওয়ায় বেপরোয়া ক্ষমতাসীন আ’লীগ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: কেন্দ্র ঘোষিত ৫১ টিমের নেতাদের নেতৃত্বে জেলায় জেলায় কর্মীদের নিয়ে তৎপর হওয়ার পরই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এমন অভিযোগ বিএনপির। দলটির অভিযোগ, গত ২৪ এপ্রিল থেকে সিনিয়র নেতাদের সফর শুরুর পর নাটোর, বাগেরহাটসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সরকারি দলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় পণ্ড হয়েছে বিএনপির সম্মেলন। অনেক জেলাতে প্রতিনিধি সভা করার অনুমতিও দেয়া হচ্ছে না। ক্ষমতাসীনদের এমন বাধা সত্ত্বেও তৃণমূলে জনসংযোগ চালিয়ে যেতে চায় বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো, ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং আন্দোলনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে বিএনপি। দেশের প্রতিটি জেলায় গিয়ে কর্মিসভা, প্রতিনিধি সভা করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যখন তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হচ্ছিল তখনই সরকারি দল বাধা দিতে থাকে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলন, গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ বানচাল করতে ন্যক্কারজনকভাবে সরকারের সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘরোয়া পরিবেশে বিএনপির খুবই শান্তিপূর্ণ কর্মিসভাও সরকার সহ্য করতে পারছে না। অবস্থাদৃষ্টে এটি মনে না করার কোন কারণ নেই যে, এ দেশটা আওয়ামী লীগের নিজস্ব সম্পত্তি বলেই জনগণের টাকায় প্রতিষ্ঠিত হল-মিলনায়তনও তারা দখলে রেখেছে, জনগণের সম্পত্তি তারা ভোগদখল করবে কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার কোন অধিকার নেই। যেহেতু তাদের জনসমর্থন এখন শূন্যেরও নীচে এবং নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এতটাই খুনোখুনিতে মেতে উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ আর রাজনৈতিক দল নয়, এটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাই লোকসমাগম হবে না বলেই নিজেরা সভা-সমাবেশ করে না এবং বিপুল জনসমাগম হবে বলে পুলিশী নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলকেও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। রিজভী বলেন, নাটোরে বিএনপির কর্মিসভা পণ্ড করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাগেরহাটেও পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে কর্মিসভা করতে দেয়নি। অনেক জেলাতে কর্মিসভার স্থান বরাদ্দে অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। এছাড়া সভা-সমাবেশ না করতে ক্ষমতাসীন দলের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। 

সূত্র মতে, সারা দেশের বিএনপির ৫১ টি কেন্দ্রীয় টিমের এই সফরকে ঘিরে জেলায় জেলায় নেতাকর্মীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। শোডাউন করছেন পদপ্রত্যাশী স্থানীয় নেতারা। পাশাপাশি যারা আতœগোপনে ছিলেন তারাও প্রকাশ্যে আসছেন। অবস্থার উন্নতি দেখেই ক্ষমতাসীনরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাটোরে বিএনপি আয়োজিত কর্মিসভা পণ্ড করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বাসভবনে পুলিশ এবং সরকার সমর্থকরা তালা লাগিয়ে সেখানে অবস্থান নেয় এবং কর্মিসভা পণ্ড করে দেয়। বাগেরহাটেও পুলিশ কর্মিসভা করতে দেয়নি। 

জানা গেছে, গত কয়েক বছর সরকারের নানামুখী চাপ ও মামলার ভয়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে বেশির ভাগ নেতা-কর্মী নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন রাজপথ ছেড়ে অনেকটা স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন। এখন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তারা সরব হয়ে উঠেছেন। তারা আগেভাগে মাঠে নেমে সাংগঠনিক পদ-পদবি রক্ষা এবং নিজেদের অবস্থান অক্ষুণœ রাখতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর ও কর্মিসভা সামনে রেখে সবাই তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রথম দিকে কয়েকটি জেলাতে বাধা না দিলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে সভা-সমাবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। 

তৃণমূলকে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে বিএনপির ৫১ টিম প্রধানের অনেককে নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হলেও দলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে যারা মামলা হামলা এবং নির্যাতনের ভয়ে সিষ্ক্রিয় ছিলেন বা আত্মগোপনে ছিলেন তারা এখন সক্রিয় হবেন। ফলে স্থানীয় কর্মীদের মাঝে যে উৎকণ্ঠা ছিল তা কেটে যাবে। ভবিষ্যতে আন্দোলনের সফলতা ও নির্বাচনে ইতিবাচক ফলের জন্য দলকে ঐক্যবদ্ধ এবং সক্রিয় করতে এই উদ্যোগ বেশ কাজে আসবে বলে মনে করেন তারা। তবে একেবারেই নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাদের দিয়ে যেন আবারো তৃণমূলে কমিটি না করা হয় সেদিকে তারা খেয়াল রাখতে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। 

তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, নেতৃত্ব নিয়ে এলাকাতে কিছু কোন্দল রয়েছে। গুটিকয়েক নেতা ছাড়া বেশির ভাগই দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকেন। দলের কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত। তাদের কোন্দলের ঢেউ এসে পড়েছে তৃণমূলেও। তাই তৃণমূলে আসার আগে কেন্দ্রীয় তথা জেলা পর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্র ঐক্যবদ্ধ আছে এমন একটি বার্তা তৃণমূল পেলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল পুনর্গঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে গতি আসবে বলে আমরা মনে করি। বর্তমান রাজনীতিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে, যা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

সূত্র মতে, আগামী ৭ মে’র মধ্যে এ সফর শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হলে সরকারি দলের বাধার মুখে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। এখনো কোনো কোনো টিম জেলা সফরে বের হয়নি। বাকি একদিনের মধ্যে কিভাবে তারা এ সফর শেষ করবেন তা বোধগম্য নয়। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আসল কাজ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই, কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই সফরের মেয়াদ চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। 

জানা গেছে, আজ শনিবার সকাল ১০টায় খুলনা প্রেসক্লাবে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগর বিএনপি’র কর্মিসভা এবং একই স্থানে বেলা ৩-৩০টায় খুলনা জেলা বিএনপি’র কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মিসভা দুটিতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া আজ সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রেসক্লাবে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ