ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর চবিতে ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনার পর রাতে পুলিশ ছয়টি হল এবং শুক্রবার দুপুরে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে বিভিন্ন কটেজ, বাসাবাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। এ সময় ১টি শাটার গানসহ ৩ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার ও হল থেকে ৩২ রাউন্ড গুলী, বিপুলসংখ্যক দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ রড, পাইপ, লাঠিসোঠা, রাম দা ইত্যাদি উদ্ধার করেছে। হল থেকে এক বহিরাগতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 

এদিকে পুলিশ শুক্রবার দুপুরে তল্লাশীকালে চবি থেকে ১টি শাটার গানসহ ছাত্রলীগ নেতা নিয়াজউদ্দিন, জাহাংগীর রাশেদকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুরানো ৩ মামলার আসামী ছাত্রলীগ নেতা আবু বকর তোহাকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

এ দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বার বার দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, মারামারির কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনার পর রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ চবি ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ সন্ত্রাসী ধরতে এ্যাকশনে নামে। ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত চবির শাহজালাল, আলাওল, সোহরাওয়ার্দী, এ এফ রহমান, আব্দুর রব ও শাহ আমানত হলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে জেলা পুলিশের শতাধিক পুলিশ সদস্য কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের এ অভিযানে সহযোগিতা করে চবি প্রশাসন। 

রাত ১০টা থেকে অভিযান শুরু করে চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত। এসময় ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত হল থেকে ৩২ রাউন্ড গুলী, ৩ বস্তা লোহার রড, রামদা, কিরিচ ও হাঁসুয়া মিলে ৪০টির মতো ধারাল দা, রাম দা, ছুরি, কিরিচ, চাপাতি, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। 

জানা গেছে, হল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলে উপস্থিত থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করেনি। তল্লাশিকালে বহিরাগত এক যুবককে আটক করা হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় রাতে ছেলেদের ৬টি আবাসিক হলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ সময় বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র ও শাহ আমানত হল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২ রাউন্ড গুলী উদ্ধার করা হয়। তল্লাশিকালে বহিরাগত এক যুবককে আটক করা হয়েছে। 

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, গভীর রাতে পুলিশের অভিযান শেষ হয়েছে। এ সময় বেশ কিছু দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র এ প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্রলীগের কয়েকটি গ্রুপ বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার কারণে আমরা হলে তল্লাশির জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানাই। ছাত্রলীগের বিবাদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে পরবর্তীতে যেকোন ধরনের সংঘর্ষ মোকাবেলায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি শাখা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের স্থগিতাদেশ আমরা পেয়েছি। সবার ভালোর জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে সংগঠনকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়। আহতরা হলো চবির শিক্ষার্থী-মাসুমখান, আবু বকর, জামান নুর, মেহেদী হাসান, সাইফুল, আশিক, নাফী। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার পাঠানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সুএ জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন চত্বরে তুচছ বিষয় নিয়ে গতবৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের সিক্সটিনাইন ও সিএফসি গ্রপের কর্মীদের মধ্যে কথাকাটির জের ধরে হাতাহাতি থেকে মারামারি লেগে যায়। এ সময় দেশীয় অসএ, লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পযার্য়ে উভয় গ্রুপ শাহ আমানত হল ও শাহজালাল হলে অবস্থান নিয়ে পরস্পরকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় ৭ জন আহত হয়। এতে ক্যাম্পাসে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে বিপুল পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়নএনে আনে। আহতদেও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে পাঠানো হয়। ছাত্রলীগে চবি শাখার প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর সমর্থকরা এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বলে চবি সুএ জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে কথা কাটাকাটির জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী মাসুম বিল্লাহকে মারধর করে সভাপতির অনুসারীরা। তাৎক্ষণিক এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা জড় হয়ে সভাপতি অনুসারীদের ধাওয়া দিলে তারা শাহজালাল হলে এসে অবস্থান নেয়। পরে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা শাহ্ আমানত হলে ও সভাপতির অনুসারীরা শাহজালাল হলে অবস্থান নিয়ে দেশিয় অস্ত্রসহ ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে দু’গ্রুপের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আকতারুজ্জামান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশনে এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনাকে ঘিরে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজনের মাথা ফেটে যাওয়াসহ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ