ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আজ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারে নামবে বোয়িং ৭৩৭

বিডিনিউজ : সুপরিসর উড়োজাহাজে চড়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যার মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচলেরও সূচনা হচ্ছে।

আজ শনিবার এই সফরে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের উদ্বোধন এবং দুটি এলএনজি টার্মিনালের ভিত্তিফলক উন্মোচনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন সরকারপ্রধান। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য সম্প্রসারিত রানওয়েতে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ চলাচলের উদ্বোধন করবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের নির্মাণ করা এ বিমানবন্দরটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এতদিন কেবল ড্যাস কিউ ৪০০ মডেলের ৭৪ আসনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এবং এর চেয়ে ছোট যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজই এ বিমানবন্দরে ওঠানামা করত।

কিন্তু কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী এবং মহেশখালীকে বিনিয়োগের ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরুর প্রোক্ষপটে সরকার এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার কাজ শুরু করেছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মোহান্ত বলেন, “কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার লক্ষ্যে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তখন এখানে বোয়িং ৭৪৭ বা ৭৭৭ এর মতো বড় উড়োজাহাজও নামতে পারবে।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাকিল মেরাজ বলেন, “এতদিন কক্সবাজারে ন্যারোবডি এয়ারক্রাফট ফ্লাইট অপারেট করত। আগামীকাল (আজ শনিবার) বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নিউজেনারেশনের মডেলের ১৬২ আসনের বিমানে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আসবেন। বাংলাদেশের এভিয়েশনে এটি একটি মাইলফলক।”

এটি কমার্শিয়াল ফ্লাইট হলেও প্রধানমন্ত্রী থাকায় সেটিকে ‘ভিভিআইপি ফ্লাইট’ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাকিল মেরাজ বলেন, এখন থেকে এই মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে কক্সবাজারে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট চালাবে বিমান। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে।

মেরিন ড্রাইভ : বিমানবন্দরের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন ইনানীতে। সেখানে এক অনুষ্ঠানে তিনি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন করবেন।

পযটক আকর্ষণের জন্য নির্মিত ৮০ কিলোমিটার এ সড়কের একপাশে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, অন্যপাশে পাহাড়ের সারি। হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে তিন ধাপে এই নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে।

ইনানির অনুষ্ঠান শেষে বিকাল ৩টায় কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন।

উদ্বোধন, উন্মোচন : প্রধানমন্ত্রী এই সফরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী নিবাস, কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হল, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী নিবাস, উখিয়ার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব মহিলা কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন এবং মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনের উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), এলজিইডির আওতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার বাকখালী নদীর উপর খুরুস্কুল ঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্সগার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, মহেশখালীতে ইনস্টলেশন অব সিংগেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস ভবনের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

উপকূলে সাজসাজ রব

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : সেনাবাহিনীর হাতে গড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুভ উদ্বোধনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন আজ শনিবার। জননেত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে বিস্তৃর্ণ উপকূল তথা কক্সবাজারে সাজ্ সাজ্ রব পড়েছে। নেতাকর্মী, সমর্থকদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য। নিশ্চিন্দ্র নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব কাজী নিশাত রসুল প্রেরিত পত্রের সূত্র জানায়, আজ শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানযোগে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বোয়িং বিমান বন্দরের শুভ উদ্বোধন করবেন। এরপর পরই তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে উখিয়ার ইনানির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সকাল ১১টায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের তত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৬ ইসিবি কর্তৃক ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও পাহাড় ঘেষে নির্মিত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুভ উদ্বোধন করবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সেনা প্রধান উপস্থিত থাকবেন। 

আজ শনিবার দুপুর ২টায় কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পৌঁছে উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হলের উদ্বোধন, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রী নিবাসের উদ্বোধন এবং মহেশখালী আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালনসহ ৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বাঁকখালী নদীর উপর খুরুশকুল ঘাটে একটি বক্স গার্ডার ব্রীজ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস ভবন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, এলএনজি (লিকুসাইড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনাল, একটি এসপিএম (ইনস্টলেশন অফ সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং), নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং কুতুবদিয়া কলেজ একাডেমি ভবনসহ ৮টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। ওইদিন বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কক্সবাজার জেলা আ’লীগ কর্তৃক আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ