ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্রোমিয়ামের ছোবল

গত বৃহস্পতিবার এনটিভি’র রিপোর্টে বলা হয়, ঢাকার সাভারে গরুর দুধে বিষাক্ত রাসায়নিক ক্রোমিয়াম ভয়াবহ মাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রোমিয়াম হচ্ছে একটি মৌলিক রাসায়নিক পদার্থ। এর রাসায়নিক সংকেত সিআর। পারমাণবিক সংখ্যা ২৪। এটি ট্যানারি ও লৌহসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ট্যানারিশিল্পে ব্যবহৃত এর বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে মেশে। ফলে নদীর পানি যেমন দূষিত হয় তেমনি মাছেও সংক্রমিত হয় ক্রোমিয়ামদূষণ। মাছ খায় মানুষ। তার মানে ক্রোমিয়ামের বিষাক্ত প্রভাব এখন মানুষের শরীরে। আবার ট্যানারির ফেলে দেয়া বর্জ্যের প্রোটিন থেকে প্রস্তুত হয় পোল্ট্রিফিড। এ ফিড ব্যবহৃত হয় পোল্ট্রিফার্মে। ফলে ফার্মের মুরগির গোশতের মাধ্যমেও বিষাক্ত ক্রোমিয়াম প্রবেশ করছে মানবদেহে। উল্লেখ্য, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভারে সরিয়ে নেবার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু বর্জ্য পরিশোধনের নিরাপদ ব্যবস্থা হয়নি। হলেও সময় লাগবে।
টিভি চ্যানেলটির বিশেষ রিপোর্টে একটি গবেষণাকর্মের উদ্ধৃতিসহ বলা হয়, সাভারের গরুর দুধেও ভয়াবহ মাত্রার বিষাক্ত ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। ঘাস, পানিসহ নানা পশুখাদ্যের মাধ্যমে এটি ছড়াচ্ছে গরুর দুধে। এ দুধ সব বয়সের মানুষের প্রিয়খাদ্য। বিশেষত দুধ শিশুখাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আর এ দুধই যদি হয় বিনাশী, তাহলে এদেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের কী পরিণতি হতে পারে তা ভাবলে মানুষের গা শিউরে ওঠে বৈকি! ক্রোমিয়ামে বিষাক্ত দুধ দিয়ে দধি, মিষ্টান্ন, ছানাসহ নানাধরনের জনপ্রিয় খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত হয় দেশে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্রোমিয়ামযুক্ত দুধসহ এর তৈরি খাদ্যসামগ্রী খেয়ে মানুষ ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
 তিন-চার দশক আগেও শিশুরা জন্মাবার দশ মাস থেকে একবছর বয়স হলেই সাধারণত হাঁটতে পারতো। কথা বলেতেও শিখতো। কিন্তু আজকালকার শিশুরা হাটতে শিখছে দেরিতে। কথাও বলতে পারছে বেশ বিলম্বে। কোনও কোনও শিশুরতো স্পষ্ট কথা ফুটতে তিন-চার বছরও লেগে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশু জন্মগগ্রহণ করছে বেশি। জন্মের পরপর অসুখ-বিসুখ হচ্ছে অনেক। কেন এমন অস্বাভাবিকতা? খাবার ও পরিবেশদূষণ এর জন্য দায়ী নয়তো?
শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এরাই আগামীতে সমাজ ও দেশ পরিচালনা করবে। এদের সুস্থ ও নিরোগ করে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। শিশুখাদ্যসহ মাছ, মুরগি, গরুর দুধ, মিষ্টান্ন সবই ক্রোমিয়ামবিষে দূষিত। পরীক্ষা করলে হয়তো মায়ের দুধেও বিষাক্ত এই রাসায়নিক পাওয়া যাবে। কাজেই শিশুসহ মানুষকে কীভাবে দূষণমুক্ত খাবার দেয়া যায় সে ব্যাপারে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। অর্থাৎ ট্যানারির বর্জ্য যাতে নদীতে না মেশে এবং এর পরিত্যক্ত অংশ দিয়ে পোল্ট্রিফিড তৈরি না করতে পারে অসৎ ব্যবসায়ীরা সেব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই। এরপরও কোনও ট্যানারি থেকে বর্জ্য নদীর পানিতে মিশলে কিংবা এর বর্জ্য থেকে পোল্ট্রিফিড প্রস্তুত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ